মারিও কেম্পেসের বিশ্লেষণ
বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারবেন মেসি ও আর্জেন্টিনা?
ফুটবলপ্রেমী হোন বা না হোন— বিশ্বকাপ এমন এক আসর, যাকে উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। আগামী ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বসবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই মহাযজ্ঞ। আর টুর্নামেন্ট সামনে রেখে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন, দলগুলোর শক্তি–দুর্বলতা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
এই আলোচনায় নিজের মতামত তুলে ধরেছেন আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী তারকা মারিও কেম্পেস। তিনি বিশেষভাবে কথা বলেছেন লিওনেল মেসি ও বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুই গোল করে আর্জেন্টিনাকে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন ‘এল মাতাদর’ খ্যাত কেম্পেস। এরপর ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে দ্বিতীয় শিরোপা এবং দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তৃতীয়বার বিশ্বসেরা হয় আলবিসেলেস্তেরা।
এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ আর্জেন্টিনার সামনে। এ প্রসঙ্গে কেম্পেস বলেন, তিনি দলটি নিয়ে ‘আশাবাদী’। রদ্রিগো রেয়ার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কাতার বিশ্বকাপে যে ধরনের ফুটবল আর্জেন্টিনা খেলেছিল, বাছাইপর্বেও আমরা প্রায় একই রকম পারফরম্যান্স দেখছি। দলটা এখনও ক্ষুধার্ত, এখনও নিজেদের প্রমাণ করতে চায়। আর্জেন্টিনা সবসময়ই টুর্নামেন্টে প্রভাবশালী দল।’
২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির খেলা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে কেম্পেস মনে করেন, ইন্টার মায়ামিতে খেলার ফলে মেসিকে এখন তুলনামূলকভাবে ‘আরও ফ্রেশ’ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক যে এমএলএস ইউরোপের বড় লিগগুলোর মতো নয়। কিন্তু যতদিন মেসির আগ্রহ থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সে যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে সে আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’
কেম্পেস আরও যোগ করেন, ‘সে মাঠে খেলুক বা দলের পাশে থেকে সমর্থন দিক, মেসি সব অবস্থাতেই গুরুত্বপূর্ণ। সে শুরু থেকে খেলবে নাকি কিছু সময়ের জন্য নামবে, সেটা নির্ভর করবে তার শরীরের ওপর। এখনও হাতে সময় আছে।’
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছে মাত্র আটটি দেশ- ব্রাজিল (৫ বার), জার্মানি ও ইতালি (৪ বার), আর্জেন্টিনা (৩ বার), উরুগুয়ে ও ফ্রান্স (২ বার), ইংল্যান্ড ও স্পেন (১ বার)। ইতিহাসে মাত্র দুই দল টানা দুইবার বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে- ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২)।
২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেবে। আর্জেন্টিনা পড়েছে গ্রুপ ‘জে’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান। ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। এরপর ২২ জুন অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে তারা, আর ২৬ জুন খেলবে জর্ডানের বিপক্ষে।
কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার সেই শিরোপা ধরে রেখে ইতিহাসে নাম লেখাতে পারবে কি না- সেটাই এখন ফুটবলবিশ্বের বড় প্রশ্ন।
আইএইচএস/