নতুনদের ঝলক, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল নির্বাচনে মধুর সমস্যায় আনচেলত্তি
ব্রাজিল ম্যাচটা ৩-১ গোলে জিতেছে। হেরেছে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ফাইনাল হুইসেলের পর বোঝা গেলো না, কোন দল জিতেছে হেরেছে কোন দল। ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ অরল্যান্ডোর মাঠে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠেন। তাতে যোগ দেন তার সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ক্যাসেমিরো ও এন্দ্রিক।
আনচেলত্তির জন্য এই ম্যাচটি ছিল ১৮ মে ঘোষিতব্য ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের আগে শেষ পরীক্ষা। এক বছরেরও কম সময় আগে দায়িত্ব নেওয়া এই ইতালিয়ান কোচ পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট—যদিও এতে তার জন্য নির্বাচন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি খুশি করেছে নতুন খেলোয়াড়রা। তারা সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। এতে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা আরও কঠিন হয়ে গেছে, কারণ ইগর থিয়াগো ভালো খেলেছে, লিও পেরেইরা ভালো খেলেছে, দানিলো ভালো খেলেছে, এন্দ্রিক দারুণ খেলেছে, কাইকিও ভালো করেছে। এটা দলের জন্য খুবই ইতিবাচক লক্ষণ।’
মিডফিল্ডেই প্রথম বড় আলোচনার বিষয় তৈরি হয়, যেখানে ফ্রান্সের বিপক্ষে বদলি হিসেবে ভালো খেলা দানিলোকে ক্যাসেমিরোর সঙ্গে শুরু থেকেই নামানো হয়। বোটাফোগোর এই মিডফিল্ডার সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রভাব ফেলেন।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে তিনি ব্রাজিলের দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সূচনা করেন, সামনে এগিয়ে গিয়ে বক্সে ঢুকে প্রথম টাচেই গোল করেন—ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার পর। এর আগে ডমিনিক লিভাকোভিচ তাকে ঠেকিয়েছিলেন, কিন্তু এবার তার শট ছিল একেবারে অপ্রতিরোধ্য।
দানিলো ম্যাচ শেষে বলেন, ‘গোল করতে পেরে আমি খুশি, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয়। আমরা এই বিশ্বকাপ চক্র সম্পন্ন করেছি এবং ঈশ্বরের কৃপায় সবকিছু আজ ঠিকঠাক হয়েছে।’
ব্রাজিল এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তি দলে পরিবর্তন আনেন—মোট আটজন বদলি করেন, যার মধ্যে কাইকি ও রায়ানের অভিষেকও হয়। তবে ম্যাচের শেষ দিকে অন্য এক জুটি আলো ছড়ায়।
ম্যাচ শেষের ছয় মিনিট আগে গোলরক্ষক বেন্তোর ভুলে লাভ্রো মায়ের সমতা ফেরান। কিন্তু ব্রাজিল দ্রুত জবাব দেয়। রিস্টার্ট থেকে এন্দ্রিক দারুণভাবে এগিয়ে গিয়ে পেনাল্টি আদায় করেন। ১৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় নিজে শট নেওয়ার বদলে বল তুলে দেন ইগর থিয়াগোর হাতে। মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা ব্রেন্টফোর্ডের এই স্ট্রাইকার ঠান্ডা মাথায় গোল করেন।
তিনি বলেন, ‘আজ এখানে দাঁড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি ঈশ্বর ও কোচকে ধন্যবাদ জানাই। আমার পজিশনে এত প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকার কারণে এটা কতটা কঠিন, সবাই জানে।’
‘এন্দ্রিক আমাকে পেনাল্টি নিতে দেওয়াটা দেখায় আমাদের দল কতটা ঐক্যবদ্ধ। সবাই একে অন্যকে সমর্থন করে। সে আমার ওপর ভরসা রেখেছে, এতে আমি খুব খুশি। পুরো দলই কৃতিত্বের দাবিদার। আগের বিশ্বকাপে আমরা একই পরিস্থিতিতে বাদ পড়েছিলাম, কিন্তু এবার আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি।’
এর কিছুক্ষণ পর আবারও এন্দ্রিক-ইগর জুটি আক্রমণ গড়ে তোলে। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে এন্দ্রিক বল বাড়িয়ে দেন, এরপর বলটি গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির কাছে পৌঁছায়, যিনি নিখুঁত বাঁ-পায়ের শটে জয় নিশ্চিত করেন।
শেষ বাঁশির পর এন্দ্রিককে চোখের পানি ফেলতে দেখা যায়—সুযোগটির গুরুত্ব তার কাছে কতটা, সেটাই যেন প্রকাশ পায় এতে। ইনজুরি ও ক্লাবে কম খেলার কারণে তার অগ্রযাত্রা কিছুটা থমকে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমি কী পার করেছি। ইনজুরিটা সহজ ছিল না। বিশ্বকাপে কারও জায়গা নিশ্চিত নয়। ফুটবলে ইনজুরি আসবেই, ক্লাবেও ভালো খেলতে হবে। আমি এই সুযোগের জন্য কৃতজ্ঞ, কিন্তু ধাপে ধাপে এগোতে চাই এবং কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাব।’
এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে নতুনদের মধ্যে লিও পেরেইরার আলাদা করে উল্লেখযোগ্য কোনো মুহূর্ত না থাকলেও একটি পরিসংখ্যান নজর কেড়েছে—২৫ জনের দলে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুই ম্যাচ মিলিয়ে পুরো ১৮০ মিনিট খেলেছেন।
মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েলের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ডিফেন্স পজিশনে থাকা এই ফ্লামেঙ্গো ডিফেন্ডার আশা করছেন, তিনি কোচের নজর কেড়েছেন।
তিনি বলেন, ‘দলকে সাহায্য করতে পেরে আমি খুশি, যদিও গোল হজম করায় কিছুটা হতাশ। আমরা রক্ষণে নিজেদের কাছ থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করি। তবে জয়, এই দুটি ম্যাচ এবং পুরো চক্র নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আশা করি আমি কোচের ওপর ভালো প্রভাব ফেলতে পেরেছি।’
এমএমআর