বিশ্বকাপে আসছে আমূল পরিবর্তন, জানুন কি কি নতুন নিয়ম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে ফুটবলকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম চূড়ান্ত করেছে ফিফা। সময় নষ্ট করা (টাইম-ওয়েস্টিং) এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা কমানোই এবারের বড় লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইতিহাসের বৃহত্তম এই বিশ্বকাপে মাঠের ফুটবলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে এই পরিবর্তনগুলো।
১. গতিময় ফুটবল: সময় নষ্ট করলেই শাস্তি
নতুন নিয়মে খেলার গতি বা টেম্পোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ফুটবলাররা যাতে ইচ্ছে করে সময় নষ্ট করতে না পারেন, সেজন্য থাকছে কড়া নিয়ম:
১০ সেকেন্ডে বদলি: কোনো খেলোয়াড় বদলি হওয়ার সময় মাঠ ছাড়ার জন্য মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় পাবেন। যদি তিনি এর বেশি সময় নেন, তবে তার পরিবর্তে যে খেলোয়াড় মাঠে নামবেন, তাকে সাইডলাইনে আরও এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ, ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে দল এক মিনিটের জন্য ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হবে।
৫ সেকেন্ডে থ্রো-ইন: থ্রো-ইন দেওয়ার ক্ষেত্রেও সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ৫ সেকেন্ডের মধ্যে বল মাঠে না পাঠালে সেই থ্রো-ইন বাতিল হবে এবং প্রতিপক্ষ দল বলের দখল পেয়ে যাবে।
ইনজুরি ও চিকিৎসা: মাঠে কোনো খেলোয়াড় চিকিৎসা নিলে তাকে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। এটি করা হয়েছে মূলত ইনজুরির নাটক সাজিয়ে খেলার ছন্দ নষ্ট করা বন্ধ করতে।
২. ভিএআরের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও সীমাবদ্ধতা
ভিএআর নিয়ে বিতর্ক বহু পুরনো। ২০২৬ বিশ্বকাপে ভিএআর-এর পরিধি বাড়ানো হলেও এর প্রয়োগে আনা হয়েছে ভারসাম্য:
দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও কর্নার: এখন থেকে ভিএআর রেফারি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং বিতর্কিত কর্নার কিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন।
শর্তসাপেক্ষ হস্তক্ষেপ: তবে ভিএআর কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করবে যখন সেখানে কোনো ‘সুস্পষ্ট ও গুরুতর ভুল’ ঘটবে। ফিফার লক্ষ্য হলো অপ্রয়োজনীয় বিরতি কমিয়ে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা।
৩. কেন এই পরিবর্তন?
২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ৪৮টি দল এবং বিপুল সংখ্যক ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ম্যাচের মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখা ফিফার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ফিফার মতে, এই নিয়মগুলো মাঠের রেফারিদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ করবে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের গতিকে এক সুতায় গাঁথবে।
৪. ভক্ত ও দর্শকদের জন্য যা থাকছে
গ্যালারিতে থাকা বা টিভির সামনে বসা দর্শকদের জন্য খেলাটি এখন অনেক বেশি উপভোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অকারণে খেলা থেমে থাকা বা গোল উদযাপনের পর দীর্ঘ সময় ভিএআর চেক করার দৃশ্য কমে আসবে। তবে কোচ এবং খেলোয়াড়দের জন্য এটি বড় পরীক্ষা; কারণ এখন শুধু ভালো খেললেই হবে না, সেকেন্ডের হিসাব মাথায় রেখে সময় ব্যবস্থাপনাও করতে হবে নিখুঁতভাবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফিফা কেবল ফুটবলের গতি বাড়াচ্ছে না, বরং যারা খেলাকে মন্থর করতে চায় তাদের জন্য শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে বাস্তবে রেফারিরা কতটা কঠোরভাবে এই নিয়ম প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আইএইচএস/