ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

সাতপাড়ার পুজা ছাড়িয়ে যেতে চান সালমা-পান্নাদের

প্রকাশিত: ০২:৫৯ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৬

এ মুহূর্তে বাংলাদেশ নারী দলের সবচেয়ে গতিশীল বোলার কে? যারা ক্রিকেটের সামান্য খবর জানেন তারা অনায়াসেই বলে দিতে পারেন পান্না ঘোষের কথা। জাতীয় দলের হয়ে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯৭ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন তিনি; কিন্তু পান্না ঘোষকেও ছাড়িয়ে গেছেন গোপালগঞ্জের অখ্যাত গ্রাম সাতপাড়ার মেয়ে পূজা চক্রবর্তী। রোববার মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমী মাঠে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার গতিতে বল করে জানিয়ে দিলেন জাহানারা-পান্নাদের ছাড়িয়ে যেতেই আসছেন এ তরুণী।

অথচ ক্রিকেটারই হয়ে ওঠার কথা ছিল না এ তরুণীর। প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে হওয়ায় নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে বড় হতে হয়েছে তাকে। বাধ্য হয়ে খেলাই ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাকে। অনেকটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় আবারও ফিরে আসেন ক্রিকেটে। সুযোগ হয়েছিল প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট খেলার; কিন্তু কলাবাগানের হয়ে পুরো মৌসুম তাকে সাইড বেঞ্চেই বসে কাটাতে হয়।

পরের বছর তাই প্রথম বিভাগের দল ইন্দিরা রোডের হয়ে খেলেন। এরপর একদিন সুযোগ পেয়ে যান রবি ফাস্ট বোলার হান্ট ক্যাম্পেইনে। প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার গতিতে নজর কাড়েন কোচ সারওয়ার ইমরানের। এক সময়ে যে গ্রামের লোকজন তাকে নিয়ে বাজে কথা বলতো, আজ তারাই তাকে উৎসাহ যোগায় খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য।

নিজের উঠে আসার গল্প বর্ণনা করতে গিয়ে পূজা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ছেলেরা যখন ক্রিকেট খেলতো, ছোট থেকেই ওদের সঙ্গে খেলতাম। আমার খুব ভালো লাগতো, তাই খেলতাম। বড়দের সঙ্গেও খেলেছি। গ্রামাঞ্চলে বাড়ি, সবাই আজে-বাজে কথা বলতো, অনেক খারাপ কথা বলতো। তাই আমার বাবা-মা ছাড়তো না খেলার জন্য। তবে আমি পালিয়ে গিয়ে খেলতাম। এক সময় পারিবারিক এত সমস্যা ছিল যে, ওই কারণে না খেলারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তারপর স্কুলে ভর্তি হলাম, সেখানে অ্যাথলেটিক্স খেলতাম। স্কুল থেকে আমাকে গোপালগঞ্জ শহরে নিয়ে গেল। সেখানে একটা মেয়ে আমাকে বলছে, আপু আপনার যে বডি ফিগার, যে রানিং, আপনি যদি ক্রিকেট অনুশীলন করেন তাহলে অনেক ভালো হবে। তারপর বাড়িতে এটা নিয়ে আলোচনা করলাম। কেউ রাজি হল না; কিন্তু অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছি। তারপর থেকেই ওইখানে গিয়ে অনুশীলন করি। তবে এখন আমাকে পরিবার অনেক সমর্থন করে। এমনকি গ্রামের সবাই।’

পুজা স্বপ্ন দেখতেন একদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন; কিন্তু নিজে কখনোই ভাবেন নি এতো তাড়াতাড়ি সে স্বপ্নের কাছাকাছি চলে আসবেন। আট বছরে ক্রিকেট ক্যারিয়ারে হঠাৎ স্বপ্নের মত আসা দিনগুলোকে নিজেই বিশ্বাস করতে পারেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে অনেক ভালো লাগছে, এখানে আসতে পেরে। সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই, কারণ বিসিবি ও রবির জন্য আজকে আমি এই পর্যায়ে আসতে পারছি। আমাকে আরও অনেক অনুশীলন করতে হবে। যতটুকু করতে পেরেছি তাতে দুঃখ নেই। আমাকে আরও অনেক ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। তবে এতো তাড়াতাড়ি এ পর্যায়ে আসতে পারবো কখনোই ভাবিনি।’

জাতীয় নারী দলের লতা মন্ডলের বল ভালো লাগে পূজার। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদের বোলিং দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। জাতীয় দলে সুযোগ পেলে সবার সঙ্গে মিলে-মিশেই চলার ইচ্ছে। এবার সুযোগ পেয়েছেন প্রিমিয়ার লিগে বড় ক্লাবে হয়ে খেলার। দারুণ গতির সঙ্গে আউটসুইংটা করতে পারেন অনায়াসেই। বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) অধীনে প্রশিক্ষণ পেলে গতি ও স্কিল দুটোই বাড়বে বলে মনে করেন ক্যাম্পেইনের কর্মকর্তারা। তাই খুব শীঘ্রই হয়তো জাতীয় দলেও চলে আসবেন এ তরুণী।

আরটি/আইএইচএস/এবিএস

আরও পড়ুন