ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. তথ্যপ্রযুক্তি

ডিজিটাল ডিভাইস শিশুর জন্য যেন মরণফাঁদ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:২৪ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তৈয়বা খানম
যে কোনো দুর্যোগ নিয়েই আমরা বেশ চিন্তায় থাকি। যা দেখি তা আমাদের পীড়া দেয় কিন্তু যে ক্ষতি অদৃশ্যমান সে ব্যাপারে আমরা চিন্তাও করতে পারি না। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহারের আসক্তি আমাদের শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার জন্যই বয়ে আনে নানা ক্ষতি। আমাদের আজকের শিশুদের মাঝেই আছে অপার সম্ভবনা। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তিমুখীতা তাদের সম্ভবনা ও কর্মউদ্দীপনাকে গ্রাস করছে। এই ক্ষতি এতটায় গভীর ও সূক্ষ্ম যে তা গভীর উপলব্ধি ছাড়া দৃষ্টিগোচর হয়না। নিজেকে সমৃদ্ধ করতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষয়ে যাচ্ছি।

আসুন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে যেসব ক্ষতি হতে পারে তা আলোচনা করা যাক-

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠেও চোখে ক্লান্তি অনুভব করা। চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে চোখে তাকাতে অসুবিধা হয়। তীব্র মাথাব্যথা শুরু করে।

ব্রেইনের ক্ষতি
শিশুর হাতে ডিভাইস দিলে তার সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। ডিভাইসের উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। জটিল পরিস্থিতিতে নিজস্ব চিন্তা চেতনার আগ্রহ হ্রাস পায়। আগে আমরা অনেক কিছু মনে রাখতে পারতাম কিন্তু বর্তমানে সহজে মোবাইলে পাওয়া যাবে এই চিন্তা থেকে ব্রেইন অলস হওয়ায় তার সক্রিয়তা হারায়। প্রযুক্তি নির্ভরতায় যোগাযোগ ও সামাজিকীকরণের ক্ষমতা কমে যায়। মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বাচ্চা বিভিন্ন বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। যেমন-অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলা, কান্না করা, ডাকলে না সারা দেওয়া ও মুখ লুকানো ইত্যাদি।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে যৌথ পরিবারে নানামুখী কাজের ব্যস্ততায় মা কীভাবে সন্তানকে স্ক্রিনটাইম না দিয়ে নিজে সময় দিতে পারেন? তার সহজ উত্তর বলতে গেলে বলতে হয়, মায়েদের নিজে ঘরের কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানদেরও ঘরের কাজে যুক্ত করতে পারেন। এতে ঘরের কাজ শেখার পাশাপাশি সন্তানের সঙ্গে মায়ের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হবে।

পরিকল্পনা করে কাজ গোছাতে হবে। শিশুকে ছোটখাটো খেলনা দিয়ে খেলায় ব্যস্ত রাখতে হবে। ফোনে একের পর এক ছোট রিলস ভিডিও দেখার অভ্যাসে শিশুর ধৈর্য হ্রাস পাচ্ছে। তারা কোনো কাজে মনোযোগ দিতে না পেরে মারাত্মকভাবে মোবাইলের উপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। এভাবে একপর্যায়ে শিশুর আসক্তির পর্যায়ে চলে যায়। যখনই মোবাইল নিতে চাইবে তখনই সন্তানের আচরণ হিংস্র হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় কোমরে ব্যথা বেড়ে যায়। উচ্চ শব্দ কানে সমস্যা হয়ে থাকে। ডিভাইস রেডিয়েশন থেকে বিভিন্ন রোগব্যাধির সূত্রপাত হয়।

নিরাপত্তার ঝুঁকি
সামাজিক মাধ্যমে ট্রল করা, হিংসাত্মক বার্তা প্রদান, ব্যক্তিগত তথ্য এবং ছবি সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল করা ও কিডন্যাপ করা ইত্যাদি ঝুঁকি রয়েছে। শিশুরা এমন পরিস্থিতিতে পড়লেও ভয়ের কারণে কারো সঙ্গে আলোচনা করতে পারে না। ফলে তারা হতাশা ও চিন্তামগ্ন থাকে।

নৈতিক অবক্ষয়
ডিজিটাল ডিভাইস অবাধ ব্যবহারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি নৈতিক অবক্ষয়। বা বুঝেই পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা। পরিচিত কার্টুনের মাঝে অশালীন পোশাকের দেখা মেলে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচিত চরিত্রগুলোকে দিয়ে আলাদা নাটক বা সিরিজ তৈরি করে শিশুদের দেখানো হয়। গেমে শিশু মারামারি দ্বারা হিংস্রতার শিক্ষা পায় অযথা চ্যাট করার দ্বারা ভুল পথে হাটে। মানবিক গুণাবলি হারিয়ে যাচ্ছে এসবের কারণে।

গুজব ছড়ানো
অনলাইনে গুজবের প্রচারণায় শিশুদের ক্ষতি হচ্ছে। সত্যের সঙ্গে মিথ্যার পার্থক্য করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা খবর তাদের মস্তিষ্কে জায়গা করে নেই। এতে বিপথে চলে যেতে পারে শিশুরা।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে কীভাবে শিশুদের জন্য নিরাপদ বিনোদনের ব্যবস্থা করা যায়? তার সহজ উত্তর বলতে গেলে বলতে হয়, এক্ষেত্রে বিভিন্ন ইসলামিক সিরিজ, নবী-রাসূলদের জীবনী ও গল্পে গল্পে শেখা এই ধরনের বয়স উপযোগী চ্যানেলগুলো ভালোভাবে যাচাই করে শিশুদের জন্য দেওয়া যেতে পারে। তবে চেষ্টা করতে হবে শিশুকে বহিঃমুখী বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার।

একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, ডিভাইস ব্যবহারে শারীরিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব না। মোবাইল দিতে হলে অভিভাবকদের পাশে থাকতে হবে। অনলাইনে ক্লাসের ক্ষেত্রে বড় স্ক্রিন দেওয়া, ব্লু লাইট ফিল্টার ব্যবহার করা, বেডরুম ডিভাইস মুক্ত রাখা, নির্দিষ্ট সময় পর ইন্টারনেট লাইন অফ রাখা, খারাপ ওয়েবসাইট ব্লক রাখা, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অন রাখা, খেলাধুলা, বই পড়া, পারিবারিক কাজ ও সৃজনশীল চর্চা হতে পারে সুন্দর বিকল্প।

সন্তানকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া গেলে মন্দ হয় না। ভালো বন্ধুর সাহচর্য নিশ্চিত করতে হবে। সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে হবে। কেবল যে সন্তানকে স্ক্রিন মুক্ত রাখলেই হবে না পরিবারের সদস্যদেরও স্ক্রিন মুক্ত থাকার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। অভিভাবকদের কাজ করতে হলে বড় স্ক্রিনে কাজ করতে হবে যেন সন্তান বুঝতে পারে তার অভিভাবক মোবাইলে কাজ করছেন অযথা ফোন ব্যবহার করছেন না। সবচেয়ে বড় কথা আন্তরিক প্রচেষ্টায় খারাপ অভ্যাস পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার। আমরা আমাদের যুব সমাজকে জাগাতে চাই তাই আমাদের অবশ্যই ডিভাইসের ক্ষতি সম্পর্কে নিজে সচেতন হতে হবে অন্যকে সচেতন করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

আরও পড়ুন
আইফোন সারারাত চার্জ দিলেও সমস্যা নাই
আইফোন ১৮-তে যেসব চমক থাকতে পারে

কেএসকে

আরও পড়ুন