ইয়ারফোন ব্যবহারের ভুলে নষ্ট হতে পারে ডিভাইস
ভুলভাবে ইয়ারফোন ব্যবহারে শুধু কান নয়, ডিভাইসেরও ক্ষতি হতে পারে
বর্তমান ডিজিটাল জীবনে ইয়ারফোন বা হেডফোন প্রায় অপরিহার্য একটি গ্যাজেট। গান শোনা, ভিডিও দেখা, অনলাইন ক্লাস করা কিংবা ফোনে কথা বলা সব ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার করা হয় নিয়মিত। কিন্তু অনেকেই জানেন না, ভুলভাবে ইয়ারফোন ব্যবহার করলে শুধু কানের ক্ষতি নয়, ডিভাইসেরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। অসতর্ক ব্যবহার, নিম্নমানের অ্যাক্সেসরিজ কিংবা ভুল সংরক্ষণ এসব কারণে স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিভাইসের হার্ডওয়্যার সমস্যা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।
১. নিম্নমানের বা নকল ইয়ারফোন ব্যবহার ডিভাইসের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি। সস্তা ইয়ারফোনে প্রায়ই মানহীন তার, খারাপ সার্কিট বা অনিরাপদ জ্যাক ব্যবহার করা হয়। এগুলো ফোনের অডিও পোর্টে শর্ট সার্কিট সৃষ্টি করতে পারে অথবা অডিও চিপে চাপ ফেলে। দীর্ঘদিন এমন ইয়ারফোন ব্যবহার করলে ফোনে শব্দ সমস্যা, হঠাৎ কানেকশন বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা সম্পূর্ণ অডিও সিস্টেম নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. অনেকেই ইয়ারফোন লাগানো অবস্থায় ফোন পকেটে বা ব্যাগে রেখে দেন। এতে জ্যাক বা পোর্টে চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে পোর্ট ঢিলা হয়ে যায়। একসময় দেখা যায় ইয়ারফোন ঠিকভাবে কাজ করছে না বা সামান্য নড়াচড়াতেই শব্দ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের যান্ত্রিক চাপই পোর্ট নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণগুলোর একটি।
৩. তারযুক্ত ইয়ারফোন জোরে টেনে খুলে ফেলা একটি সাধারণ ভুল অভ্যাস। এতে শুধু তার ছিঁড়ে যায় না, ডিভাইসের অডিও জ্যাকের ভেতরের পিনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক সময় এই ক্ষতি বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু ধীরে ধীরে সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে। একইভাবে ব্লুটুথ ইয়ারফোনের ক্ষেত্রেও সমস্যা হয় যদি বারবার ভুল চার্জার ব্যবহার করা হয় বা অতিরিক্ত ভোল্টেজে চার্জ দেওয়া হয় এতে ব্যাটারি ও সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৪. আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধুলো ও আর্দ্রতা। ইয়ারফোন ব্যবহার শেষে পরিষ্কার না করে পকেটে রাখলে ধুলো জমে জ্যাক বা চার্জিং পোর্টে ঢুকে যায়। এর ফলে সংযোগ সমস্যা বা শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে আর্দ্র পরিবেশে ব্যবহার করলে ভেতরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মরিচা তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ডিভাইসের অডিও হার্ডওয়্যার নষ্ট করে দিতে পারে।
৫. ভলিউম সংক্রান্ত ভুলও ডিভাইসের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অনেকেই দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ ভলিউমে গান শোনেন। এতে স্পিকারের ড্রাইভার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি ফোনের অডিও প্রসেসিং চিপেও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলাফল হিসেবে শব্দ বিকৃত হওয়া, হঠাৎ ক্র্যাকলিং সাউন্ড বা সম্পূর্ণ সাউন্ড সিস্টেম বিকল হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। সবসময় মানসম্মত ইয়ারফোন ব্যবহার করা, জ্যাক ধরে খুলে ফেলা, পোর্ট পরিষ্কার রাখা, ভেজা অবস্থায় ব্যবহার না করা এবং অতিরিক্ত ভলিউম এড়িয়ে চলা এসব ছোট সতর্কতাই বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত ইয়ারফোন সময়মতো বদলে ফেলা উচিত।
আরও পড়ুন
শরীরের ভঙ্গিমা দেখে ফ্যানের গতি বাড়াবে কমাবে এআই
এখন নোটপ্যাডেও পাবেন ইমেজ সাপোর্ট
কেএসকে