ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. তথ্যপ্রযুক্তি

যেখানে সেখানে কিউআর কোড স্ক্যান করে বিপদে পড়তে পারেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:০৩ এএম, ১১ মার্চ ২০২৬

 

ডিজিটাল পেমেন্টের যুগে এখন অনেকেই আর পকেটে নগদ টাকা রাখেন না। বাজারে কেনাকাটা, রেস্টুরেন্টের বিল সবই হয়ে যাচ্ছে স্মার্টফোনের এক স্ক্যানেই। দোকানের কাউন্টারে রাখা ছোট্ট একটি কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মুহূর্তের মধ্যে টাকা চলে যাচ্ছে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে।

সহজ ও ঝামেলামুক্ত হওয়ায় শহর থেকে গ্রাম সব জায়গাতেই এই পদ্ধতি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে আছে নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণার ফাঁদ, যেখানে সামান্য অসতর্কতাই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিউআর কোড ব্যবহার করার সময় সবচেয়ে বেশি যে প্রতারণা ঘটে তা হলো কোড বদলে দেওয়া। অনেক সময় জালিয়াতরা আসল কিউআর কোডের ওপর নিজেদের তৈরি করা একটি স্টিকার লাগিয়ে দেয়। ফলে ক্রেতা সেটি স্ক্যান করলে টাকা চলে যায় প্রতারকের অ্যাকাউন্টে। তাই কোনো কোড স্ক্যান করার আগে ভালো করে খেয়াল করা জরুরি কোডটি আসল কি না, তার ওপর আলাদা স্টিকার বা কাগজ লাগানো আছে কি না।

কোড স্ক্যান করার পর স্ক্রিনে যে নাম বা অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখায়, সেটিও মন দিয়ে দেখা উচিত। অনেক সময় মানুষ তাড়াহুড়ো করে এসব না দেখেই পেমেন্ট করে বসেন। কিন্তু স্ক্রিনে যে নাম দেখা যাচ্ছে তা দোকানের নামের সঙ্গে মিলছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি টাকা পাঠানোর কথা বলে কিউআর কোড স্ক্যান করতে বলে, তাহলে সেটি প্রায় নিশ্চিত প্রতারণা। কারণ টাকা গ্রহণ করার জন্য সাধারণত কিউআর কোড স্ক্যান করার প্রয়োজন হয় না।

ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সবসময় পরিচিত ও নিরাপদ অ্যাপ ব্যবহার করাও জরুরি। জনপ্রিয় পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। অচেনা বা অপরিচিত কোনও অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করলে আপনার ফোনের ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এছাড়াও অনেক সময় কোড স্ক্যান করার পর স্ক্রিনে বিভিন্ন পপ-আপ বা সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করতে বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কিছুতেই ক্লিক না করে সঙ্গে সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করা উচিত। নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সেটিংস শক্ত রাখা প্রয়োজন।

যদি কখনও কিউআর কোড সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার হন, তাহলে দেরি না করে দ্রুত ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার বা জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানানো উচিত। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল পেমেন্ট যতই সহজ হোক না কেন সতর্কতা ও সচেতনতাই আপনার টাকার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

কেএসকে

আরও পড়ুন