ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ভ্রমণ

পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী

ভ্রমণ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

মুহিবুল হাসান রাফি

কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত ৩৬২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী। বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ এটি। এর পশ্চিমে কুতুবদিয়া দ্বীপ ও বঙ্গোপসাগর। পূর্বে চকরিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা। দক্ষিণে কক্সবাজার সদর ও বঙ্গোপসাগর। উত্তরে চকরিয়া উপজেলা।

ঐতিহাসিকদের মতে, শিবের অপর নাম ‌‘মহেশ’ অনুসারে জায়গাটির নামকরণ করা হয়। জনশ্রুতি আছে, কোনো এককালে এক কৃষক বনের ভেতরে একটি শিলা-বিগ্রহ খুঁজে পান। স্বপ্নযোগে তিনি জানতে পারেন, এটি ‘মহেশ’ নামের এক হিন্দু দেবতার বিগ্রহ। পরে তিনি একটি মন্দির নির্মাণ করে সেখানে বিগ্রহটি স্থাপন করেন।

পর্তুগিজ পর্যটক সিজার ফ্রেডারিকের মতে, ১৫৫৯ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহেশখালী দ্বীপের সৃষ্টি হয়। মহেশখালী চ্যানেল ও বাঁকখালী এখানকার উল্লেখযোগ্য নদী।

মহেশখালী বাজার
মহেশখালী চ্যানেল পেরিয়ে জেটি ধরে সোজা সামান্য পশ্চিমে মহেশখালী উপজেলা শহর। মাত্র তিন বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট শহরটি দেশের অন্য দশটি উপজেলা শহরের মতোই। তেমন কোনো দর্শনীয় স্থান না থাকলেও শহরটি ঘুরে দেখতে পারেন।

আরও পড়ুন
দ্বীপের রানি চর কুকরি-মুকরিতে একরাত https://www.jagonews24.com/travel/article/1062536
পাহাড়ি জলের সৌন্দর্যের খোঁজে একদিন https://www.jagonews24.com/travel/article/1079538

বৌদ্ধ কেয়াং
মহেশখালী জেটি থেকে বাজারে প্রবেশের আগেই সড়কের বাম পাশে মহেশখালী বড় বৌদ্ধ কেয়াং বা মন্দির। এর ভেতরে আছে বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির। বেশ কয়েকটি পিতলের বৌদ্ধ মূর্তির দেখা মিলবে কেয়াংয়ে। তবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ধ্যানমগ্ন বৌদ্ধ মূর্তি, মাথায় হাতে শায়িত বুদ্ধ এবং দণ্ডায়মান বুদ্ধ মূর্তি ইত্যাদি।

আদিনাথ মন্দির
মহেশখালীর গোরখঘাটা ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রামে মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় আদিনাথ মন্দির। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৫ মিটার উচ্চতায় মন্দিরটির অবস্থান। মন্দিরটির দৈর্ঘ ১০.৫০ মিটার, প্রস্থ ৯.৭৫ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৬ মিটার। মন্দিরটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। উত্তরের অংশ সবচেয়ে পুরোনো। আদিনাথ মন্দিরের পাশেই অষ্টভূজা নামে আরেকটি বিগ্রহের মূর্তি আছে। উত্তরের অংশের প্রথম ভাগে বর্গাকারের দুটি পূজাকক্ষে আদিনাথ বাণলিঙ্গ শিবমূর্তি এবং অষ্টভুজা দুর্গামূর্তি আছে। সামনের দিকের প্রবেশপথটি ধনুকাকৃতির।

আদিনাথের মেলা
বহুকাল ধরে আদিনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে চলে আসছে আদিনাথের মেলা। ধারণা করা হয়, মন্দিরটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ মেলার প্রচলন। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে অর্থাৎ শিব চতুর্দশী উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

ভ্রমণে সতর্কতা
দুর্যোগ-প্রবণ অঞ্চল হিসেবে মহেশখালী দ্বীপ ভ্রমণের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শীতকালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার সঠিক খবর নিতে হবে। যে কোনো নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর সঙ্গে রাখতে হবে। ভালো উপায় হচ্ছে দলবদ্ধভাবে যাওয়া। নির্জন জায়গায় এড়িয়ে গ্রামবাসী বা পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যে থাকা ভালো।

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ।

এসইউ

আরও পড়ুন