ঐতিহ্যের মহিমায় টিকে আছে ভাংনী বাজার মসজিদ
ভাংনী বাজার জামে মসজিদ, ছবি: জাগো নিউজ
ঐতিহ্যের মহিমা ছড়িয়ে আজও সগর্বে টিকে আছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনী বাজার জামে মসজিদ। অনেকের কাছে এটি সাদা মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। মসজিদটি কেবল ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে একটি ইবাদতখানা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য।
রংপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের ভাংনী বাজার সংলগ্ন মসজিদটির সঠিক প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, এটি মোগল আমলের। এর চুন-সুরকির দেওয়াল এবং নিপুণ কারুকার্য প্রাচীন আমলের স্থাপত্যবিদ্যার সাক্ষ্য দেয়।

মূল অবকাঠামোতে আছে তিনটি কাতার। এর বাইরে টিনশেড দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নামাজের জায়গা। নান্দনিক কারুকাজে ভরপুর মসজিদটি ছোট-বড় মিলে ৪৮টি গম্বুজসহ নানা রকম নকশায় পরিপূর্ণ।
স্থানীয় আকবর আলী বলেন, ‘আনুমানিক ১৬০০ শতাব্দীর শুরুর দিকে মোগল আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে শুনেছি। সেই সময়ে বিবি মণিরুন নেছা চৌধুরানী মসজিদটি দেখভালের দায়িত্ব পান তার বংশধরের কাছ থেকে। পরে তার কোনো সন্তান না থাকায় মসজিদের নামে নিজের শত একর সম্পত্তি দান করেন। বর্তমানে তা ‘ওয়াকফ এস্টেট ভাংনী’ নামে পরিচিত।’

স্থানীয় মুসল্লি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মূল অবকাঠামোর বাইরে একটা ছাদ ছিল। ছাদ ভেঙে যাওয়ায় টিনশেড দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদাধিকার বলে মসজিদ কমিটির সভাপতি। এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজন কমিটির সদস্য। মসজিদের জমি লিজ দিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করা হয়।’
ভাংনী বাজারের ঠিক প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় মসজিদটি এলাকার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বাজারের ব্যবসায়ী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পথচারীরা এখানে নামাজ আদায় করেন।

ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব জানিয়ে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি রমজান আলী বলেন, ‘ভাংনী বাজার জামে মসজিদটি আমাদের এলাকার গর্ব। আমরা চেষ্টা করছি এর প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে। মসজিদের অনেক সম্পত্তি আছে। একটু ভালোভাবে দেখভাল করতে পারলে মসজিদটি আরও নান্দনিক হয়ে উঠবে।’
জেডআইকে/এসইউ