ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ভ্রমণ

রাঙ্গামাটিতে প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি

ভ্রমণ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:৪৫ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তৈয়বা খানম

ভ্রমণ শুধু আনন্দের বার্তা দেয় না। সেই সঙ্গে জন্ম দেয় হাজারো রোমাঞ্চকর অনুভূতির। পহেলা ফেব্রুয়ারি সমাজবিজ্ঞান পরিবারের রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য উপভোগ করার দিন ধার্য করা হয়। কত জল্পনা-কল্পনার অবসানের পর নির্ধারিত দিনটি এলো।ভোরের আলোর সঙ্গে সঙ্গে তড়িঘড়ি করে শুরু করলাম যাওয়ার প্রস্তুতি। হাটহাজারী থেকে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও নাছোড়বান্দা হয়ে উঠলাম চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাস থেকে। ভয় আর অজানা ভাবনার সমাপ্তি ঘটলো শিক্ষা সফরের বাস ধরার মাধ্যমে। চির চেনা সহপাঠী, সিনিয়র-জুনিয়র, শিক্ষক সবার সঙ্গে মিলিত হওয়ার এ যাত্রায় মনে প্রশান্তি অনুভূত হলো।

ঘড়ির কাঁটায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিট। আমাদের বাস ছেড়ে যায় রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে। বাসে নির্ধারিত সিটে বসে শিক্ষার্থীরা উপহারসামগ্রী বুঝে নেন। উপহারের মাঝে বই পাওয়ায় আমার কাছে মনে হয়েছিল, শিক্ষা সফরের সঙ্গে বই মানে আনন্দে আনন্দে শেখা। বাসে বসেই আমার অদ্ভুত প্রশ্ন মাথায় এলো, ভ্রমণে এত উৎসাহ নিয়ে যেতে পারি। তবে পড়াশোনায় কেন নয়? এভাবে বহু উপলব্ধি সঠিক ভুলের ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছিল যাত্রাপথে। এরই মাঝে সকালের নাস্তাটা সেরে নিলাম।

সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আমাদের গন্তব্য রাঙ্গামাটিতে পৌঁছলাম। সেখানে ঘুরে দেখলাম রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাব। নানা ধাঁচের বই ও মনোরম পরিবেশ দৃষ্টিনন্দন ছিল। দীর্ঘক্ষণ থাকার ইচ্ছে থাকলেও পরবর্তী স্থানে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিতে হলো। লঞ্চে করে শুভলং ঝরনা পার হয়ে গেলাম শুভলং বাজারে। লঞ্চের সময়টা দেশীয় গান ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বেশ মনোমুগ্ধকর ভাবে কাটিয়েছি। লঞ্চযাত্রার সমাপ্তি ঘটে শুভলং বাজারে। ঐতিহ্যবাহী এ বাজারে আদিবাসীদের হস্তশিল্প, দেশীয় পণ্য ও পাহাড়ি নানা খাবারের দেখা মিললো। বরই, তেঁতুল, কারুকার্য খচিত ব্যাগ, হাতেবোনা কাপড়, মাথার টুপি ও আচারসহ নানান জিনিস কেনেন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা।

পুনরায় লঞ্চে করে নামলাম কাউখালীতে। সেখানে মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘক্ষণের ক্ষুধার তাড়নায় ঘরোয়া রান্না বেশ তৃপ্তি সহকারে খোলা মাঠে চাদরে বসে খেলাম। এ যেন অন্যরকম অনুভূতি। খাবার শেষে নির্ধারিত ক্রীড়া আয়োজন শুরু হলো। ছেলে, মেয়ে ও শিক্ষকদের জন্য আলাদা খেলার আয়োজন ছিল। সবচেয়ে আনন্দঘন ছিল শিক্ষকদের হাড়িভাঙা খেলা। এ যেন বাংলার চির চেনা ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হলো।

এরপর আমাদের যাত্রা হয় সৌন্দর্যমণ্ডিত পলওয়েল পার্কে। সেখানে বিভিন্ন রাইড, প্লে জোন, কায়াকিং, সুইমিং পুল ও ধান মাড়াইসহ গ্রামবাংলার নানান স্থিরচিত্র সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি চিত্র যেন বাঙালির সংস্কৃতিকে জীবন্ত করে তুলছিল। ক্যান্টিন থেকে নানান ধরনের খাবার খাওয়ার সুযোগ ছিল। অল্প হেঁটে সবাই রাঙ্গামাটির সুস্বাদু আনারস কিনলাম বাড়ি নেওয়ার জন্য। নির্ধারিত বাস আসার পর বাসে বসেই সন্ধ্যার নাস্তা সেরে নিলাম। রাত নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে মৃদু বাতাসে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পারি দিলাম।

এভাবেই রাঙ্গামাটির প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করে সুন্দর যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। এটি শুধু ভ্রমণ ছিল না। আমাদের পরিবারের সঙ্গে কাটানো শ্রেষ্ঠ সময় ছিল। যেখানে আমরা প্রকৃতির কোলে শিখতে শিখতে সফর করেছি। চির সবুজ প্রকৃতির বিশাল জলরাশির মাঝে আমরা যেন সৌন্দর্যকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ পেলাম। আমাদের দেশের সৌন্দর্য অগণিত। এ ভ্রমণ আমাদের জন্য ছাত্র-শিক্ষকের মেলবন্ধন দৃঢ় করে।

লেখক: শিক্ষার্থী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

এসইউ

আরও পড়ুন