ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ভ্রমণ

৩৭৮ বছরের মল্লিকপুর জামে মসজিদ সংরক্ষণের অভাবে হারাচ্ছে মোগল ঐতিহ্য

জেলা প্রতিনিধি | ঝালকাঠি | প্রকাশিত: ১২:৪০ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২৬

 

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনা মল্লিকপুর জামে মসজিদ আজ অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার প্রাচীন জৌলুস। মোগল আমলে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে জীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নলছিটি পৌর শহরের আঞ্চলিক নলছিটি-বরিশাল মহাসড়কের পাশে কেন্দ্রীয় গোরস্থানের লাগোয়া স্থানে অবস্থিত এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই প্রাচীন মসজিদ। ধারণা করা হয়, মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহজাদা শাহ সুজার উদ্যোগে ১৬৪৮ সালে মসজিদটি নির্মিত হয়। সেই হিসেবে ২০২৬ সালে মসজিদটির বয়স দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭৮ বছর।

jagonewsপ্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া এই মসজিদের দেয়াল প্রায় ৩২ ইঞ্চি পুরু, যা চুন-সুড়কি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই স্থাপনাটি মোগল স্থাপত্যশৈলীর একটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। প্রাচীন এই মসজিদটি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতিহাস-ঐতিহ্যপ্রেমীরাও মাঝে মধ্যে এখানে আসেন।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, মোগল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথে জলদস্যুদের উৎপাত বেড়ে গেলে শাহজাদা শাহ সুজা সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী বর্তমান মগড় ইউনিয়ন এলাকায় একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। স্থানীয়ভাবে যা ‘সুজাবাদের কেল্লা’ নামে পরিচিত। ওই সময় স্থানীয় মুসল্লিদের অনুরোধে নদীর অপর পাড়ে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয় বলে প্রবীণদের ধারণা।

মসজিদের বর্তমান ইমাম মুফতি ইব্রাহিম গাজী বলেন, ‘মসজিদের মূল কক্ষে একসঙ্গে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিন পাশে বারান্দা নির্মাণ করা হয়েছে। এখন প্রায় শতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।’

jagonewsস্থানীয় মুসল্লি তাজুল ইসলাম নান্না মোল্লা বলেন, ‘এটি কয়েক শতাব্দী পুরোনো মোগল স্থাপত্যের একটি অসাধারণ নিদর্শন। কিন্তু যথাযথ সংস্কার ও সংরক্ষণ না হলে ভবিষ্যতে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

এলাকার বাসিন্দা মো. ওলিউল ইসলাম জানান, নদী ভাঙনের কারণে মগড় ইউনিয়নের ঐতিহাসিক সুজাবাদ কেল্লার অনেক অংশ বিলীন হয়ে গেলেও এই মসজিদটি এখনো এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তাই দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রধান কার্যালয়, ঢাকা) ও সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক (বরিশাল ও খুলনা বিভাগ) মো. মহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি যখন ২০২৫ সাল পর্যন্ত খুলনা ও বরিশাল আঞ্চলিক দপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম, তখন মল্লিকপুরে মোগল আমলে নির্মিত একটি মসজিদের বিষয়ে শুনেছি। তবে ঝালকাঠি জেলায় আমাদের পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ না হওয়ায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হয়নি।

jagonewsতবে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমাদের দপ্তর থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে সরেজমিনে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ জরিপ করা হলে মসজিদটির প্রকৃত ঐতিহাসিক গুরুত্ব নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। যদি এটি মোগল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি সংরক্ষিত রাখা যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আমার বদলি হয়েছে। তবে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে বিষয়টি দেখার জন্য জানানো হবে এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হবে।’

মোঃ আমিন হোসেন/কেএসকে

আরও পড়ুন