দুই শতাব্দীর সাক্ষী রূপসা জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ

শরীফুল ইসলাম শরীফুল ইসলাম , চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১৮ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৬
রূপসা জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা বাজারে দাঁড়িয়ে আছে নীরব ইতিহাস রূপসা জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ। এর প্রকৃত নাম ‘মসজিদে নূর’। নামের অর্থই আলো আর সেই আলোয় যেন দুই শতাব্দী ধরে আলোকিত করে রেখেছে পুরো জনপদকে।

১২৮৪ বঙ্গাব্দে বৃহত্তর মেঘনাপাড়ের প্রভাবশালী জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী আল্লাহর সন্তুষ্টি ও এলাকার মানুষের ইবাদতের সুবিধার্থে নির্মাণ করেন এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। তৎকালীন বিশ হাজার টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা স্থাপনাটি শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয় বরং ইসলামি স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শন। মসজিদের প্রবেশপথের পাশে শ্বেতপাথরে ফার্সি ভাষায় খোদাই করা আছে নির্মাণকাল ও নির্মাতার নাম যেন ইতিহাসের স্থায়ী দলিল।

৪৭ ফুট দৈর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের মূল মসজিদটির সামনে আছে ৫৩-৩০ ফুটের দেওয়ালবেষ্টিত প্রশস্ত চত্বর। ছাদের সামনের অংশে তিনটি বড় গম্বুজ আর পুরো স্থাপনায় ছোট-বড় মিলিয়ে আছে ৩৯টি গম্বুজ। মার্বেল পাথরের কারুকাজ, শৈল্পিক নকশা ও সুষম গঠনশৈলী একে করেছে অনিন্দ্য সুন্দর। প্রতিটি খিলান, প্রতিটি অলংকরণ যেন নির্মাতার ঈমানি অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।

মসজিদের পশ্চিম পাশে আছে শানবাঁধানো ঘাটসহ একটি দিঘি। সেই দিঘির জলে আজও মুসল্লিরা ওজু করেন। পানির শব্দ, পাখির ডাক আর আজানের ধ্বনি মিলেমিশে সৃষ্টি করে অপার্থিব পরিবেশ। যা মনে করিয়ে দেয়, ইবাদত শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আত্মার প্রশান্তি।

সময়ের চাহিদায় মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে তিন দফা আয়তন বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় পাঁচশ মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান মাসে এই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়; তারাবির সময় পুরো প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে।

দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মো. আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ‌‘এই মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, এটি আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দাঁড়ালে মনে হয় আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের দোয়ার সাথেই যুক্ত হয়ে যাই।’

স্থানীয় মুসল্লি শামিম হোসেন বলেন, ‘রূপসা বাজারের পরিচয়ই যেন এ মসজিদ। বাইরে থেকে কেউ এলে আমরা আগে তাকে মসজিদটি দেখাই। রূপসা জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; এটি বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সময়ের সাক্ষ্য।’

জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি ও মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেহেদী হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষ যে নিয়তে এ মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন, আমরা সেই আমানত রক্ষা করতে চাই। ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

এমএসআই/এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।