ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ভ্রমণ

৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

এমদাদুল হক মিলন | প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬

উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ অন্যতম। স্থাপনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে অবস্থিত। ছোট আকৃতির এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। দেশি-বিদেশি মানুষ এখনো মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন।

শালবন ঘেরা মনোরম পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১০১০ বঙ্গাব্দ বা ১৬০৪ সালে নির্মিত হয় এটি। ১২ ফুট দৈর্ঘ ও প্রস্থের মসজিদের উচ্চতা মিনারসহ প্রায় ৩০ ফুট। একসময় নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। বর্তমানে নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যে দেখতে আসা পর্যটকেরা নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া দুই ঈদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।

small

স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই পারে এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটিকে রক্ষা করতে। যদিও বা অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মসজিদটি রক্ষা পেলেও অনেকটা নিদর্শন হারিয়ে ফেলেছে।

মসজিদটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরাই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে আমলে জনবসতি এবং জনসংখ্যা কম থাকায় ছোট পরিসরে নির্মিত হয় মসজিদটি। মাত্র ৮ থেকে ১০ জন মুসল্লি দুই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। এখন চারপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। সেই গভীর জঙ্গলের অস্তিত্ব নেই।

small

তিনি জানান, মসজিদটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে এটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করলে বাইরের নকশা এবং কারুকাজ ঠিক রাখা সম্ভব হতো। এতে মসজিদটি জৌলুস হারাতো না। পুরোনো নকশার আদলে নতুন করে ৪টি মিনার ও ১টি গম্বুজ নির্মাণ করলেও বর্তমানে ২টি মিনার ও ১টি গম্বুজ টিকে আছে।

স্থানীয় শিক্ষাবিদ মাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘কালের বিবর্তনে মসজিদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। আমরা শুনেছি, অতীতে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। এখন পর্যটকেরা এসে আত্মতৃপ্তির জন্য নামাজ আদায় করেন। তবে দুই ঈদের জামাতের জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতের সেই জঙ্গলঘেরা নির্জন পরিবেশ আর নেই। ঈদগাহ মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে।’

small

২০১১ সালে সংস্কার কাজের মিস্ত্রি নুর আলম বলেন, ‘মসজিদটি ব্যবহারের উপযুক্ত ছিল না। মসজিদটির ওপরে বটগাছসহ জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল। চুন, সুরকির পলেস্তারা খসে ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। চেষ্টা করেছি পূর্বের নকশা অনুযায়ী সংস্কার করার। যদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করা যেত, তাহলে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও মেডিসিন ব্যবহার করে আগের অবস্থায় আনা যেতো।’

এএমএইচএম/এসইউ

আরও পড়ুন