হাদির কবরের পাশে রাতেও ভক্তদের ভিড়, আহাজারি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩৮ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
রোববার সন্ধ্যার পরও হাদির কবরের পাশে অনেককে ভিড় করতে দেখা যায়/ছবি: জাগো নিউজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থল চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি।

গতকাল শনিবার তার দাফনের পর কবর জিয়ারত করতে রোববার (২১ ডিসেম্বর) দিনভর সেখানে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

পুলিশি প্রহরার কারণে অনেকেই ভেতরে প্রবেশ করতে না পারলেও দূর থেকেই কবর দেখার চেষ্টা করেন। অনেকে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না, কেউ কেউ কবরের দিকে তাকিয়ে দোয়া-দুরুদ পড়ে আল্লাহর দরবারে দুহাত তুলে মোনাজাত করেছেন হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায়।

রোববার কাকডাকা ভোরে শুরু হওয়া মানুষের এ পদচারণা রাত নামার পরও থামেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাত তখন প্রায় ৮টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের অদূরে নজরুলের সমাধিস্থলের প্রবেশপথের সামনে থেকে ভেসে আসছিল হৃদয়বিদারক আহাজারি—‘হায় আল্লাহ…হায় আল্লাহ…।’ সেখানে জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ।

টিএসসি থেকে শাহবাগগামী এবং শাহবাগ থেকে টিএসসিগামী যানবাহনের যাত্রীরা গাড়ির ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছিলেন কবরের দিকে। কেউ কেউ আবার গাড়ি থামিয়ে জানার চেষ্টা করছিলেন—কী ঘটেছে এখানে, কেন এই আহাজারি?

সাধারণত, কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিস্থলে মানুষের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু একই চত্বরে ওসমান হাদিকে সমাহিত করার পর থেকে অনেকে তার রুহের শান্তি কামনায় এখানে ছুটে আসছেন।

হাদির কবরের সামনে দাঁড়িয়ে অনেককেই বলতে শোনা গেছে, ‘ও শুধু একজন মানুষ না, আমাদের সাহস ছিল।’

গত ১২ ডিসেম্বর পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় বিজয়নগর পানির ট্যাংকের দিকে যাওয়ার সময় চলন্ত অটোরিকশায় থাকা ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

এমইউ/এমকেআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।