পাঠক-দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখরিত বইমেলা প্রাঙ্গণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ১৩ মার্চ ২০২৬
অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে পাঠক-দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো/ছবি: জাগো নিউজ

আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবারের অমর একুশে বইমেলা। সেই হিসেবে আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) ছিল মেলার সর্বশেষ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। নানা ব্যস্ততায় যারা এতদিন মেলায় আসতে পারেননি, তাদের অনেকেই ছুটির সুযোগে আজ ভিড় করেন বইমেলায়।

শুক্রবার বিকেল থেকেই মেলার বিভিন্ন প্রাঙ্গণে পাঠক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে নিয়ে অনেকেই ঘুরে দেখেন মেলার স্টলগুলো। প্রিয় লেখকের নতুন বই খোঁজার পাশাপাশি নতুন প্রকাশিত বই নিয়েও আগ্রহ দেখা গেছে পাঠকদের মধ্যে।

বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা প্রিয়ম সরকার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, রমজানের কারণে নানা ব্যস্ততা ছিল, তাই এবার সময় করে মেলায় আসা হচ্ছিল না। পরে গত সপ্তাহে বন্ধুর সঙ্গে পরিকল্পনা করি। আজ জুম্মার নামাজের পর আমরা দুজন মেলায় চলে আসি। প্রতিবছরই আমরা বইমেলায় আসার চেষ্টা করি।

একইভাবে মেলায় ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, বইমেলা শুধু বই কেনার জায়গা নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে নতুন বই দেখা এবং পছন্দের লেখকের বই কেনার আনন্দই আলাদা।

মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজান মাসের কারণে এবার মেলা ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

jagonews24.comমেলার একটি স্টলে পছন্দের বই দেখছেন ক্রেতারা/ছবি: জাগো নিউজ

এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। এবার মেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এবারের মেলা সম্পূর্ণ পলিথিনমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলা একাডেমি।

মেলায় এখন পর্যন্ত ১,৩৩৭টিরও বেশি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। পাঠকদের পছন্দের তালিকায় জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট বইগুলো শীর্ষে রয়েছে।

মেলা প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঠক-দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। অনেকেই প্রিয় লেখকের বই খুঁজছেন, আবার অনেকে নতুন প্রকাশিত বইয়ের খোঁজ করছেন।

রমজান উপলক্ষে মেলার এক পাশে ইফতারের ব্যবস্থাও রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া পুরো মেলা প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

রাজধানীর মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় আসা গৃহিণী তানিয়া রহমান বলেন, রমজানের কারণে বিকেলের দিকে মেলায় এসেছি। বাচ্চাদের জন্য গল্পের বই কিনেছি। পরিবেশটা খুব ভালো লাগছে।

এমডিএএ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।