ঈদের কেনাকাটা
শেষ সময়ে জমজমাট মিরপুরের ফুটপাত
ঈদুল ফিতরের কেনাকাটা ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে মিরপুরের ফুটপাত। শেষ সময়ে সাশ্রয়ী দামে পছন্দের জিনিসপত্র কিনতে নানা শ্রেণির মানুষ ভিড় করছেন সেখানকার দোকানগুলোতে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মিরপুর ১০, ২ ও ১৪ নম্বর-সংলগ্ন ফুটপাত এবং আশপাশের এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, চাঁদরাত পর্যন্ত এই জমজমাট কেনাকাটা চলবে।
১০ নম্বর গোলচত্বরের ডান দিকে এফএস স্কয়ার মার্কেট। এর বাইরের ফুটপাতে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্টসহ নানা পোশাক বিক্রি করছেন একাধিক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেলো।

জিনস ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট বিক্রি করা সুরুজ মিয়া বলেন, ‘কেনাকাটা ভালোই হচ্ছে। মানুষজন আছে দৌড়ের ওপর, সবাই বাড়িতে যাচ্ছে। যাওয়ার সময় এক-দুটা প্যান্ট কিনে নিয়ে যাচ্ছে।’
সামান্য দূরে টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট ও শার্ট বিক্রি করছিলেন রুবেল। তিনি জানান, এখন যারা আসছেন খুব বেশি দরদাম তারা করছেন না। বিক্রি ভালো হচ্ছে। সন্ধ্যার পর আরও জমবে।
রুবেলের দোকানেই বেশ কয়েকজন ক্রেতার পাশাপাশি পোশাক দেখছিলেন চাকরিজীবী তানিম। তিনি বলেন, ‘আমি ১ নম্বরে একটি মার্কেটে কাজ করি। হাতে একটু সময় পেয়েছি, তাই নিজের জন্য কেনাকাটা করতে বের হলাম। মা-বাবা ও ভাইয়ের জন্য কেনাকাটা শেষ।’

বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, শেষ সময়ে কেনাকাটা করছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ক্রেতারা। দামে সাশ্রয়ী এবং নাগালের মধ্যে থাকায় অনেকেই ফুটপাতে কেনাকাটায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। শেষ মুহূর্তে বেল্ট, জুতা, সানগ্লাস ও ঘড়ি বিক্রি হচ্ছে বেশি।
ঘড়ি-বেল্ট বিক্রি করা রোহান জানান, তার দোকানে ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা দামের ঘড়ি আছে। সেই সঙ্গে ১২০ থেকে ২৫০ টাকায় কাপড়ের বেল্ট আর ২০০ থেকে ৬০০ টাকায় চামড়ার বেল্ট বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ২০ রোজার পর থেকেই বিক্রি ভালো হচ্ছে।
এদিকে, মিরপুর ১০ নম্বর-সংলগ্ন বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

এফএস স্কয়ার মার্কেটের বেশির ভাগ দোকানেই ক্রেতারা পোশাক ও জুতা দেখছিলেন। সেখানে দ্বিতীয় তলায় জুতার দোকান আরএস লেদারের এক বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘গতকাল থেকে বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতা একেবারেই নেই। ফুটপাতে কিছু বিক্রি হচ্ছে, তবে আমাদের শোরুমে সামান্যই চলছে। যাই হোক চাঁদরাত পর্যন্ত আমাদের বেচাকেনা চালু থাকবে।’
মার্কেটটির চতুর্থ তলায় জামাকাপড়ের দোকান। সেখানে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। বিক্রেতাদের অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। ডায়ানা অ্যান্ড রোমা নামের একটি দোকানের ম্যানেজার ইশরাত বলেন, ‘বাচ্চাদের পোশাক বিক্রি হয় এখানে। তবে গত শুক্রবারের পর থেকে একদমই ক্রেতা নেই।’

মিরপুর শাহ আলী মার্কেটে গিয়ে নিচতলায় জুতা, বেল্ট ও ঘড়ির দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে অন্যান্য তলায় চিত্র ছিল ভিন্ন।
নিচতলায় একটি জুতার দোকানের কর্মী জানান, অনেক দোকানই এক-দুজন কর্মী রেখে বাকিদের ছুটি দিয়েছে। কারণ ক্রেতা নেই। ইফতারের পর কিছু বিক্রি হয়।
এসএম/একিউএফ