ঈদ উপলক্ষে বেইলি রোডে চলছে ‘মেহেদি উৎসব’
ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বেইলি রোডে চলছে ‘মেহেদি উৎসব’। ২০ রমজান থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে চাঁদ রাত পর্যন্ত।
মেহেদি উৎসবে গিয়ে দেখা যায়, টেবিলে মেহেদির সারি সারি করে পসরা সাজানো। কেউ মেহেদি লাগিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ মেহেদি বিক্রি করছেন। মেহেদি বিক্রিতে সহায়তা করছেন পরিবারের অভিভাবকরাও।

ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। ফলে এই এলাকার মার্কেটগুলোতে শপিং করতে এসে বন্ধু কিংবা স্বামীর সঙ্গে আসা নারীরা হাতে মেহেদি লাগিয়ে নিচ্ছেন। উৎসবে মেহেদি দিয়ে হাত রাঙাতে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হচ্ছে।
বেইলি রোডের মেহেদি উৎসবে স্টল দিয়েছেন ঢাকা পলিটেকনিক্যালের শিক্ষার্থী ছোঁয়া। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমি স্টুডেন্ট, পাশাপাশি এখানে মেহেদি আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছি। গত কয়েক দিন ধরে আমরা এখানে বসছি, তবে আজ থেকে একটু বেশি ভিড়। মেহেদির দাম মূলত ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে, ডিজাইন যত ডিটেইলস হবে, দামও তত বাড়বে।’

নিজের কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ছোঁয়া জানান, ‘আমি নিজে নিজে শিখেছি। কাজ করতে করতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রফেশনাল ডিজাইনার হতে পেরেছি। আমি সুরতাল আর্ট একাডেমির টিচারও, সেখানেও ড্রয়িং করাই।’
একইভাবে মেহেদি উৎসবে স্টল দিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা ফারদিন শাহরিয়ার সাহিন। জাগো নিউজকে ফারদিন বলেন, ‘প্রতি বছরই ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা মেহেদির স্টল দিয়ে বসি। প্রায় এক যুগ ধরে এখানে ঈদে মেহেদির ব্যবসা করছি। এখানে আর্টিস্টরা সরাসরি হাতে মেহেদি লাগিয়ে দেন, পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মেহেদিও আমরা বিক্রি করি।

মেহেদির দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মেহেদির দাম আমরা সাশ্রয়ী রাখার চেষ্টা করি। যেমন কাভেরি ৪০ টাকা, অর্গানিক মেহেদি ১৫০ টাকা করে। এছাড়া নেহা, মমতাজসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আছে। এখন সবচেয়ে বেশি চলছে মান্ডালা ডিজাইন, যেটা স্টিকারের মাধ্যমে করা হয়।’ চাঁদ রাত পর্যন্ত এই উৎসব চলবে বলেও জানান তিনি।
স্টলে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে নারী-পুরুষ সবাই মিলে নিরাপদে কাজ করছে। অনেক নারীর নিজস্ব স্টল আছে, আবার অনেক পুরুষের স্টলেও নারী আর্টিস্টরা কাজ করছেন।
ইএইচটি/এসএনআর