প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ চালিয়ে যাবে সচিব কমিটি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৭ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা-ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামোর সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ সচিব কমিটি চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, সচিব কমিটি পর্যালোচনা শেষে প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

প্রস্তাবিত পে-স্কেলের সুপারিশ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে রোববার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো যে প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা, সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ীই তা সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, সচিব কমিটি রয়েছে। এই কমিটি পর্যালোচনার কাজ করবে এবং সেই অনুযায়ী সুপারিশ দেবে। সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পে-স্কেলের মূল কাজ সচিব কমিটি করবে। সাধারণত পে কমিশন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সচিব কমিটি কাজ করে থাকে। পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় সচিব কমিটি কাজ শুরু করবে এবং সুপারিশ দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করে।

গত ২২ জানুয়ারি জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন ধাপে বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় জানান, সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।

তবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে নতুন সরকারের দিকনির্দেশনা ছাড়া পর্যালোচনা কমিটি এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। আজকের সিদ্ধান্তের পর এ কমিটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এমএএস/এসএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।