হরতাল-অবরোধে বিচার কার্যক্রমে স্থবিরতা
টানা অবরোধ-হরতালের কারণে উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে। দেশব্যাপী দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক বিচারপ্রার্থী মামলার শুনানির পূর্বনির্ধারিত ধার্য দিনে ঢাকায় এসে হাজিরা দিতে পারছেন না। অনেক মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও একটি পক্ষ আদালতে আসতে না পারায় রায়ের দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিচার বিঘ্নিত ও বিলম্বিত হচ্ছে। সময়মতো শুনানি না হওয়ায় আদালতে মামলার জট আরও বাড়ছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকে গত ৬ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী টানা অবরোধ শুরু হয়। এর সঙ্গে থেমে থেমে চলছে হরতালও। হরতাল-অবরোধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে। হাইকোর্ট বিভাগের নিয়মিত ৫০টি বেঞ্চ সচল রাখা যাচ্ছে না।
প্রতি হরতালে ৫০টির মধ্যে ৪-৫টি বেঞ্চে বিচার কাজ হচ্ছে। আইনজীবীরা বলছেন, অনেক বিচারপতি নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে এ সময়ে আদালতে আসতে পারছেন না। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামে-গঞ্জে থাকা অসহায় বিচারপ্রার্থীরা।
ঢাকার নিম্ন আদালতের চিত্রও এক। সেখানকার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হরতাল-অবরোধের কারণে জেলা জজ আদালত ও সিএমএম আদালতে বিচারাধীন মামলার সাক্ষী ও আসামিকে যথাসময়ে হাজির করা যাচ্ছে না। ফলে বিচারকরা মামলার শুনানির তারিখ পেছাতে বাধ্য হচ্ছেন। হাইকোর্টের রুলস অনুযায়ী সরকার ঘোষিত সাপ্তাহিক দু`দিন ছুটি, সরকারি ছুটি, আদালতের বার্ষিক ছুটি, গ্রীষ্মকালীন ছুটিসহ চলতি বছর সুপ্রিম কোর্টে ছুটি রয়েছে মোট ১৭৮ দিন।
বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে ৫৩টি বেঞ্চ রয়েছে। নতুন বছরে ৫ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৩ দিন হরতাল-অবরোধ হয়েছে। জানা যায়, হাইকোর্ট বিভাগে ৫৩টি বেঞ্চে প্রতিদিন গড়ে নতুন-পুরনো ৪-৫ হাজার মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। গত ২০ দিন টানা অবরোধ থাকায় কাঙ্ক্ষিত হারে মামলার বিচার কাজ হয়নি। এর মধ্যে ৫ দিন হরতাল পালিত হয়েছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে হাইকোর্ট বিভাগের সব বেঞ্চে এ সময়ে প্রায় এক লাখ নতুন-পুরনো মামলার বিচার কার্যক্রম হতো। হরতাল-অবরোধের কারণে নির্ধারিত রায়, আদেশ ও শুনানির দিন পিছিয়ে যাচ্ছে।
এআরএস