মান্না ও খোকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করবে পুলিশ
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই অনুমতি মিলেছে বলে ডিবির দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে। এর আগে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মান্না ও খোকার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল।
মান্নার সঙ্গে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ছাড়াও প্রবাসী এক ব্যক্তির টেলিফোন কথোপকথন নিয়ে গত কয়েক দিন দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তবে প্রবাসী ওই ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ছিল নানা গুঞ্জন। কেউ বলেছেন ওই ব্যক্তি সাবেক সেনা কর্মকর্তা। কারও মন্তব্য ছিল তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো লোক।
তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মান্নার দাবি, খোকা ছাড়া যে ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা হয়েছে তিনি হলেন জনৈক শাহাদাত। মালয়েশিয়া প্রবাসী এই ব্যক্তি এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে তিনি মালয়েশিয়ায় `সেকেন্ড হোম` সুবিধা নিয়েছেন। মান্না ওই ব্যক্তিকে শাহাদাত হিসেবে দাবি করলেও ডিবি বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছে। মান্নাকে টিএফআই সেলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে ডিবির দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) ও ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, মান্নাকে টিএফআই সেলে নেওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বেশ কিছু ব্যাপারে মুখ খুলেছেন। প্রবাসী যে ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা হয়েছে সেই ব্যক্তির নাম শাহাদাত। দীর্ঘদিন ধরে শাহাদাত দেশের বাইরে ব্যবসা করছেন।
ডিবির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মান্না জানান, তার লক্ষ্য ছিল নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করা। এ কারণে খোকার সঙ্গে কথোপকথনের মধ্য দিয়ে তিনি তাদের `আস্থা` অর্জনের চেষ্টা করেন। আর পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরেই মালয়েশিয়া প্রবাসী শাহাদাতের সঙ্গে ভাইবারে কথা বলেছিলেন তিনি।
নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে যাদের নিয়ে মান্না সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছিলেন এমন অন্তত ১০ জনের নাম গোয়েন্দাদের জানান তিনি। তবে শাহাদাত প্রায়ই অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় যাতায়াত করেন। ১৯৯০ সালের পর শাহাদাত দেশ ছাড়েন। মান্নার দাবি, শাহাদাতের সঙ্গে কথোপকথনের মধ্য দিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
মান্না জানান, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে তার কিছু পরিকল্পনা ছিল। তিনি নিজেও নির্বাচন করতে আগ্রহী। তার দাবি, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেলে তিনি ভালো করতেন। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার যোগাযোগ রয়েছে। তবে ভাইবারের কথা রেকর্ড হয়, তা জানতেন না।
সেনাবাহিনীকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে বনানী থানায় দায়ের করা মামলায় বুধবার মান্নাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বনানীতে তার ভাইয়ের বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় তাকে।
এসআরজে