কিবরিয়া হত্যা মামলা : ক্রোকাদেশ কার্যকর না হওয়ায় শোকজ
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার আসামির মালামাল ক্রোকের আদেশ এখনও কার্যকর না হওয়ায় আদালত সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন।
বুধবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত সুলতানা এ আদেশ দেন। এসময় আগামী ২৭ এপ্রিল মামলার পরবর্তী তারিখও নির্ধারণ করা হয়।
বুধবার জামায়াতের ডাকা হরতাল থাকায় কারাগারে আটক সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের মেয়র জি কে গউছসহ বেশকিছু আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়নি।
এদিকে ক্রোকাদেশ কার্যকর না হওয়ায় বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলমগীর ভূইয়া বাবুল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার কাজ শুরু হলে ক্রোকাদেশ কার্যকর হওয়ার বিষয়টি জানতে চান আদালত। এসময় আদালত পরিদর্শক জানান, পলাতক আসামি মহিবুর রহমানের কোনো মালামাল পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও হাফেজ মাওলানা এয়াহিয়ার কোনো প্রতিবেদন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলমগীর ভূইয়া বাবুল বলেন, অহেতুক ৪ মাস সময় নষ্ট করা হয়েছে। প্রতিবেদন আসার পর গেজেট প্রকাশ করে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পাঠানো হলে এতদিনে বিচার কাজ অনেকদূর এগিয়ে যেতো।
পরে বিচারক ক্রোক আদেশ তামিল না হওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন।
এদিকে, বুধবার মামলায় ১ম চার্জশিটভূক্ত ৮ আসামি আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেন। হাজির হওয়া আসামিরা হলেন, জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাইয়ুম, বিএনপি কর্মী আয়াত আলী, সেলিম আহমেদ, সাহেদ আলী, জয়নাল আবেদীন জালাল, জমির আলী, জয়নাল আবেদীন মোমিন ও ছাত্রদল কর্মী মহিবুর রহমান।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজার এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ ৫ জন নিহত হন।
এছাড়া ওই ঘটনায় বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির এমপিসহ আওয়ামী লীগের ৪৩ জন নেতা-কর্মী আহত হন।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান এমপি বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলাটি এখন বিচারাধীন রয়েছে।
একে /আরআইপি