নিবন্ধনসহ ১০ দফা দাবিতে সিএনজিচালকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৫ এএম, ১৮ জুন ২০২১

রাজধানীতে ব্যক্তি মালিকানায় সিএনজির নিবন্ধন (ব্লু-বুক) দেয়া হয়। সিএনজি মালিকরা নিজেদের ইচ্ছামতো চালকদের কাছ থেকে দিনপ্রতি বাড়তি ভাড়া রাখেন। টিকে থাকতে সিএনজিচালকরাও যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করেন। ফলে যাত্রী ও সিএনজিচালকরা নানা ভোগান্তি ভোগ করলেও মালিকরা সবসময় লাভবান থাকেন।

এই সমস্যা সমাধানে যেসব সিএনজিচালকের লাইসেন্স আছে, তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ ও সিএনজির নিবন্ধন দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সিএনজিচালক ছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় সিএনজি অটোরিকশার নিবন্ধন (ব্লু-বুক) না দেয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এমন দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা-চালক সংগ্রাম পরিষদ। শেখ হানিফের আহ্বানে তারা এ মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে সিএনজিচালকরা বলেন, ‘প্রায় ১ হাজার সিএনজি মালিকের কাছে ঢাকা শহরের প্রায় ১ লাখ সিএনজিচালক ও এক কোটি যাত্রী জিম্মি। যাত্রীদের ধারণা সিএনজি চালকরা যাত্রীদের ওপর জুলুম করে। কিন্তু আমরা চালকরা যে কতটা অসহায়, সে কথা কেউ জানেও না, শুনেও না।’

মানববন্ধনে বক্তারা মোট ১০টি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো-

>বিআরটিএ ঘোষণা অনুযায়ী সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন প্রদানের জন্য যাচাই-বাছাইয়ের পর ঢাকায় তিন হাজার ১৯৬ জন অটোরিকশা-চালকদের কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে জমা নিয়ে আবেদনপত্র গ্রহণ করে। অবিলম্বে সেই অটোরিকশা-চালকদের নিবন্ধন বাস্তবায়ন করতে হবে।

>সিএনজি অটোরিকশা-চালককে নামমাত্র সরল সুদে সিএনজি অটোরিকশা ক্রয় করার দীর্ঘমেয়াদী ব্যাংক ঋণ প্রদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সুদের টাকার অর্ধেক ভর্তুকি এবং ট্যাক্স ফ্রি সিএনজি অটোরিকশা দিতে হবে।

>আগামীতে সিএনজি অটোরিকশাচালক ছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন দেয়া যাবে না।

>ঢাকা মেট্রো সিএনজি অটোরিকশার দৈনিক জমা ৫০০ টাকা ও অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা করতে হবে।

>ইয়েস পার্কিং না দেয়া পর্যন্ত নো-পার্কিং মামলা ও মিটার মামলা চলবে না।

>সিএনজিচালকদের নিয়োগপত্র দিতে হবে মালিকদের।

>নতুন লাইসেন্স প্রদান ও পুরাতন লাইসেন্স নবায়ন করতে সহজ শর্তে ও অল্প অর্থে প্রদান করতে হবে।

>মহাসড়কে সিএনজি চলাচল করতে দিতে হবে। চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল শহর পর্যন্ত ও মাওয়া মহাসড়কে যেভাবে হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে প্রতিটি মহাসড়কে ডিভাইডার দিয়ে অবিলম্বে আলাদা লেন করতে হবে।

>সকল সড়কের খানা-খন্দ সংস্কার করে জেব্রা ক্রসিং, স্পিড ব্রেকার ও রোড ডিভাইডার এবং শাখা সড়কে অ্যারো চিহ্ন দৃশ্যমান রঙে রঙিন করতে হবে।

>সিএনজির ক্ষেত্রে টোল ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।

>দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে এবং ঢাকা চট্টগ্রামের উড়ন্ত সড়কের নিচে পর্যাপ্ত জায়গায় আছে, সেখানে মনোরম পরিবেশে গণশৌচাগার নির্মাণ করতে হবে।

পিডি/এএএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]