আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল স্ক্যামার চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৩ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০২১

বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আত্মসাৎ ও অবৈধভাবে লেনদেনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল স্ক্যামার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি)। গ্রেফতাররা হলেন- মো. জিয়াউল হক ও মো. সাজিদ হাসান সেতু।

বুধবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আ ফ ম আল-কিবরিয়া জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে একটি বিদেশি বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আত্মসাৎ ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, আর্থিক প্রতারণার শিকার বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটিতে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হয়। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের অংশ হিসেবে প্রতিটি নতুন রেজিস্ট্রেশন করা অ্যাকাউন্টের বিপরীতে অনধিক এক ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সাময়িকভাবে দিয়ে থাকে। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ অর্থ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে রিটার্ন করে।

সিটিটিসির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেফতাররা আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির এ অ্যাকাউন্ট অথেন্টিকেশন প্রক্রিয়ার সুযোগ নিতো। তারা প্রথমে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশি-বিদেশি প্রতারকচক্রের কাছ থেকে Perfect Money, WebMoney, Payoneer অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি মাধ্যম ব্যবহার করে ভুয়া নাম-ঠিকানা সম্বলিত Social Security Number ও বিদেশি ব্যাংকের বেনামে তৈরি করা অ্যাকাউন্ট কিনতো।

তিনি বলেন, অনলাইন থেকে কেনা এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে চক্রটি প্রতিটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ওই বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির ৩০০/৪০০টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতো। এভাবে এ বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য একসঙ্গে নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হলে চক্রটি ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ফেরত যাওয়ার আগেই অন্য একটি ব্যংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতো।

তিনি জানান, এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রতারকচক্রটি মূলত GO2Bank, Chime Bank ইত্যাদি আন্তর্জাতিক মোবাইল ব্যাংকিং প্লাটফর্ম ব্যবহার করতো। চক্রটি এ পর্যন্ত অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে হাজার হাজার মার্কিন ডলার প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে বলে প্রথমিকভাবে স্বীকার করেছে।

ডিসি আ ফ ম আল-কিবরিয়া জানান, নতুন ধরনের প্রতারণার এ প্রক্রিয়াটির নাম “New Account Fraud’’। গ্রেফতারদের রমনা মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় আজ সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

টিটি/এমকেআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।