প্যাকেজিং কাগজের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীদের ৫ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২২ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২

প্যাকেজিং কাগজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে সরকারের ‘অযৌক্তিক ও একপেশে অপরিবর্তিত রাজস্ব নীতি’র কারণে স্থানীয় প্যাকেজিং শিল্প এখন বন্ধের মুখে। এমন অবস্থায় এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লোকাল কার্টন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। দাবি জানানোসহ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি এম এ বাশার পাটোয়ারী ও সহ-সভাপতি শাজাহান কামাল সাজু।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইন সবার জন্য সমান অথচ বিগত বাজেটে অসম রাজস্ব নীতি ও বৈষম্যমূলক আইনের মাধ্যমে ছোটদের আরও ছোট এবং বড়দের আরও বড় করার সুযোগ করে দিয়েছে। পক্ষান্তরে পেপার মিলগুলোর স্বেচ্ছাচারীভাবে কাগজের দাম বাড়ায় প্যাকেজিং মালিকরা বিপুল লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। তাই প্যাকেজিং শিল্প বাঁচাতে সরকারের প্রতি পাঁচ দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

দাবিগুলো হলো-

১. আমরা ১৫ শতাংশ বা আদর্শ হারে ভ্যাট দেই, তাই আমাদের উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কাঁচামাল ক্রয়ে যেহেতু আমরা দামের ওপর ভ্যাট দিয়ে থাকি, তাই প্যাকেজিং পেপারের ভ্যাট ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

২. বাংলাদেশে উৎপাদিত প্যাকেজিং পেপারের দাম আন্তর্জাতিক পেপার দাম থেকে অনেক বেশি, যা আপনারা অনায়াসে যাচাই করতে পারেন। আদর্শ হার ব্যতীত ভ্যাটের ক্ষেত্রে ভিডিএস কর্তনের বিধান রাখা হয়েছে বর্তমান আইনে। ভ্যাট প্রদানকারী এবং আদায়কারী উভয় যদি ভিডিএস কর্তনকারী সত্তা হয় তবে এ আইন উভয় কর্তনকারীর ক্ষেত্রে বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি।

৩. ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫২ সংশোধন করে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাতিল করা হয়, এতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে অনেক বেশি পরিমাণ টাকা আয়কর হিসাবে কর্তন হয়ে যায়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আমাদের আয় ৪-৫ শতাংশের বেশি নয়। এক্ষেত্রে (২-৫ শতাংশ) উৎস কর্তন আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য হয় না। যেসব প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক/শিল্প আমদানি করে তারা ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দেয়।

তাই উৎসে আয়কর কর্তন তাদের জন্য ডাবল ট্যাক্সেশন হয়ে যায়। এই আদেশটি প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে একটি নির্দেশনা প্রয়োজন। আমাদের প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য উৎসে আয়কর কর্তন বাতিল করার বিশেষ অনুরোধ করছি।

৪. প্রতি বছর অযৌক্তিকভাবে কাগজের মূল্যবৃদ্ধি করে অতি মুনাফা অর্জনের নিয়ম বন্ধ করার নীতি প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

৫. প্যাকেজিং শিল্পের সব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি রুগ্ন ও লোকসানি কাগজকল কর্ণফুলী পেপার মিলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আয় থেকে দায় শোধ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ লোকাল কার্টন ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনকে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নিয়ে সব প্যাকেজিং শিল্প রক্তচোষাদের হাত থেকে রক্ষা পাবে ও বন্ডেড সুবিধাভোগীদের আমদানি কমে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে একমাত্র লোকাল প্যাকেজিং শিল্প ১০০ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। আমাদের সমস্যাগুলি সমাধান করলে এ খাত থেকে আরও বেশি রাজস্ব পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মীর রায়হান আরিফ, সহ-সভাপতি সৈয়দ ফখরুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ রুহুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচ/আরএডি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।