জহুর প্রদেশে বাংলাদেশ কমিউনিটির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন
মালয়েশিয়ার জহুর প্রদেশে বাংলাদেশ কমিউনিটির বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গত শনিবার (২৬ মার্চ) এক অনাড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয় এ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। এদিন জহুর প্রদেশে বসবাসরত বাঙালিদের নিয়ে কমিউনিটি হল রুমে বসেছিল মিলন মেলা।
অনুষ্ঠানে বাঙালি বধূরা সে দিন যার যার মতো করে সেজে এসেছিলেন। কেক কাটা, রাতের ভোজন এবং বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার অব মালয়েশিয়ার শিল্পীদের মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা। শিল্পীরা উৎসাহ দিয়েছেন, প্রিয় মাতৃভূমির গান গেয়ে মাতিয়েছেন সে দিন।
গত বছরের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ কমিউনিটি জহুর অব মালয়েশিয়া। জহুর কমিউনিটির সভাপতি মো. তারিকুল ইসলাম রবিন বলেন, আঞ্চলিক সংগঠনগুলো হলো কমিউনিটির একেকটি বাগান। আর সেই বাগানের ফুল নিয়ে শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক চড়াই উৎরাইয়ের মধ্যদিয়ে সংগঠনটি এক বছর পার করেছে। কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ গত এক বছর নিজের শ্রম দিয়ে মেধা দিয়ে আগলিয়ে ধরে রেখেছেন নিজের মতো করে। তাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।
সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. ফাহিম বলেন, আমাদের কষ্টের ফসল জহুর কমিউনিটি সংগঠনটি। কয়েকজন মিলে সংগঠনের যাত্রা শুরু করেছিলাম এক বছর হয়ে গেলো। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে আবার শুরু হলো আমাদের দীর্ঘ পথ চলা।
তিনি বলেন, জহুল বারু পিকে নানাস ক্যাম্পে সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি যারা টাকার অভাবে টিকিট করে দেশে যেতে পারছেন না তাদেরকে বিমানের ৬০টি টিকিট দিয়ে দেশে পাঠানোর জন্য আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যই ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশিদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কমিউনিটি জহুরের সাধারণ সম্পাদক এমজে আলম বলেন, মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কাজটি কমিউনিটি নেতারাই করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক কমিউনিটি জহুর অফিসে ডিজিটাল পাসপোর্টের মোবাইল ক্যাম্পিং হয়েছে। এই ক্যামিপংয়ে কমিউনিটি নেতারা স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা করেছেন। শুধু তাই নয়, গত বছর মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে কমিউনিটি নেতারা বাংলাদেশের মান উজ্জ্বল করেছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশিদের আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে ২০১২ সাল থেকে শুরু হয় অঞ্চলভিত্তিক সংগঠনের উদ্যোগ। এরই ধারাবাহিকতায় জন্ম নেয় বিভিন্ন সংগঠন। বাংলাদেশ কমিউনিটি অব জহুর মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ কমিউনিটি অব মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর, ফেনী সমিতি, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, রূপসী চাঁদপুর, বৃহত্তর কুমিল্লা অ্যাসোসিয়েশন, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, শরীয়তপুর সমিতি, বি.বাড়িয়া সমিতি ইত্যাদি গড়ে ওঠে।
এসব আঞ্চলিক সংগঠন মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ফিরে আনতে কাজ করছে। স্থানীয়রাও সংগঠনগুলোর প্রোগ্রামে যোগদান করছেন উৎসাহ নিয়ে।
বিএ