চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুট

নিয়মিত ট্রেন না চালালে রেলপথ অচলের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ২৩ জুন ২০২৪

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে স্থায়ীভাবে ট্রেন চালু করা না হলে আগামী ২৫ জুন থেকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল একেবারে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সচেতন নাগরিক সমাজ। রোববার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালু করা ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। এই রেলপথ তৈরির জন্য চট্টগ্রামের মানুষ তাদের বসতভিটা, চাষের জমি সব দিয়েছে। এ অবস্থায় ঢাকার যাত্রীরা ট্রেনে কক্সবাজার যেতে পারলেও চট্টগ্রামের মানুষ পারবে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই বর্তমানে স্পেশাল ট্রেন হিসেবে চালু থাকা ট্রেনকেই নিয়মিত করতে হবে।

এই দাবিতে সোমবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএমসহ সংশ্লিষ্টদের স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এরপরও যদি স্পেশাল ট্রেন স্থায়ীভাবে চালুর বিষয়টি সিদ্ধান্ত না হয় তাহলে ২৫ জুন থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটেও ট্রেন চলাচল করতে পারবে না।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা বলেন, আমরাই প্রথম চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে কক্সবাজার গিয়েছিলাম। আমরা চাই এই যাত্রা যেন বন্ধ না হয়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যদি দুটি ট্রেন কক্সবাজারে চলাচল করতে পারে, তাহলে চট্টগ্রাম থেকে একটি ট্রেন কেন চালানো যাবে না? চট্টগ্রামের দাবি অগ্রাধিকার পাবে, এ রেললাইনটি জনগণের স্বার্থেই তৈরি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ বলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ, আগামী ২৫ তারিখ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি স্থগিত করে ট্রেন চালু রাখতে হবে। অন্যথায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মানুষ রেলপথ বন্ধসহ আরও কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষ তাদের ভিটে মাটির ওপর দিয়ে অন্যদের প্রমোদ ভ্রমণ দেখবে না। প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধারাও মাঠে নামবে।’

আরও পড়ুন

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, কক্সবাজার আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, পরিবেশবিদ ইদ্রিস আলীসহ বিশিষ্টজনরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১২ জুন এ রুটে পুনরায় স্পেশাল ট্রেন চলাচল শুরু হয়। আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত এ ট্রেন চলাচল করার কথা রয়েছে। তবে আরও ২০ দিন এ স্পেশাল ট্রেন চলাচলের জন্য রেলওয়ে সদর দফতরে চিঠি পাঠিয়েছি। যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদার কথা চিন্তা করে স্পেশাল ট্রেনের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত তা মঞ্জুর হয়নি।

গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে বিশেষ ট্রেন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গত ৮ এপ্রিল এই ট্রেন চলাচল শুরু হয়। চালুর পর থেকে ট্রেনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যাত্রীদের চাপে এরপর দুই দফায় বিশেষ ট্রেনের সময় বাড়িয়ে ১০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের ১১ দিন আগেই গত ৩১ মে ইঞ্জিন ও জনবল সংকট দেখিয়ে ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্রেনটি বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে। এরপর ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১২ জুন এ রুটে পুনরায় ট্রেনটি চলাচল শুরু করে। আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত এ ট্রেন চলাচল করার কথা রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচল করা ঈদ স্পেশাল ট্রেনটিকে স্থায়ীভাবে নিয়মিত চালু রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। রোববার (২৩ জুন) দুপুরে রেল ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলীর কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুধু রাজধানীবাসীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে কক্সবাজার দুটি ট্রেন সার্ভিস চালু করা হলেও চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জনগণ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এতে করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবির মুখে গত ঈদুল ফিতরের সময়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে কক্সবাজার স্পেশাল নামে একটি ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়।’

‘সড়কে নৈরাজ্য, সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের হাত থেকে মুক্তি পেতে এই অঞ্চলের মানুষ সীমিত সুবিধায় এই ট্রেনটির প্রতি যখন ঝুঁকছিলেন। এমন সময়ে অদৃশ্য কারণে এই ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’, বলেন মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

এএজেড/এমআরএম/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।