পরিবার ভাঙা : বড় ক্ষতি শিশুর বিশ্বাস নষ্ট হওয়া
ভিডিওটা দেখে কান্না থামাতে পারলাম না। তিন/চার বছরের বাচ্চাকে তার মা রেখে বেরিয়ে গেলেন। বাচ্চাটি চিৎকার করে কাঁদছে আর বলছে, “মা মা আমাকে রেখে চলে যেও না। আমি তোমার কাছে যাবো”। আহা কী অসহায় একজন শিশু। বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর বাচ্চাটি মায়ের কাছ ছাড়া হয়ে গেল। হয়তো বাকি জীবনটাতে সে এই দুঃখ বয়ে নিয়ে বেড়াবে। মায়ের জন্য মনখারাপ হবে কিন্তু মাকে পাবে না। মা-বাবার বিচ্ছেদ এভাবেই কত সন্তানকে যে নিরাশ্রয়, অনিরাপদ ও দুঃখী করে তোলে, আমাদের কাছে এর কোনো পরিসংখ্যান নেই।
ছোট্ট মেয়ে সালমার (ছদ্মনাম) জীবনটা মুহূর্তের মধ্যে শূন্য হয়ে গেল, যখন সে ঘুম থেকে উঠে দেখলো বাবা তাকে আর তার মাকে ফেলে অন্যত্র চলে গেল। বাবা ওদের সাথে আর থাকবে না, এটা ভেবেই কষ্টে নীল হয়ে শিশুটি। তার ছোট মনটা ভয়ে ও নিরাপত্তাহীনতায় কুঁকড়ে উঠলো।
দশ বছরের সালমা মাকে আঁকড়ে ধরে বাবার চলে যাওয়ার কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করতো। বাবা চলে যাওয়ার পর মা-ই ছিল তার একমাত্র ভরসা। বিকেলে অপেক্ষা করতো কাজ শেষে মা কখন ঘরে ফিরবে। এভাবেই সালমা হয়তো বড় হয়ে উঠতো, যদি না তিনবছর পরে ওর মা বিয়ে করে আরেকটা সংসারে চলে না যেতো। মা সালমাকে সাথে নিয়ে গেছে নতুন সংসারে। সেই সংসারে আরো একটি বাচ্চা রয়েছে ওর মতোই।
মা-বাবা বিচ্ছিন্ন এই শিশুরা যতো বড় হতে থাকে, ততোই তাদের মনে হতে থাকে তারা একা, বিছিন্ন, নিরাপত্তাহীন এবং ভালোবাসাহীন। তাদের নিজের কোনো পরিবার নেই, বাসা নেই, বাবা মা কেউ নেই। বাবা-মায়ের ভালবাসা, সময় কাটানোর স্মৃতি সব টুকরো টুকরো হয়ে ভাগ হয়ে গেছে। সালমার মতো ছেলেমেয়েদের পড়তে ভালোলাগে না, খেলতে ইচ্ছা করে না, এমনকী বন্ধুদের কাছেও যেতে ইচ্ছা করে না। বন্ধুদের বাবা মাকে দেখলে কান্না আসে, নিজেদের আরো বঞ্চিত মনে হয়। স্কুলেও এরা বুলিং এর শিকার হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী দেশে তালাকের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকায় দৈনিক গড়ে ৫০টির বেশি সংসার ভাঙছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। কোনো কোনো রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বর্তমানে ঢাকায় প্রতি ৪০ মিনিটে ১টি বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়ছে।
কেন ডিভোর্স বাড়ছে? স্বামী না স্ত্রী কে বেশি ডিভোর্সের আবেদন করছেন? দেশের কোন বিভাগে তালাক বেশি হচ্ছে? বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় স্বামী না স্ত্রী কে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন? এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে চাই, ”গ্রাম কিংবা শহর, বিচ্ছেদ যেখানেই হোক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই পরিবারের সন্তানরা।”
আগে সংসার কম ভাঙতো কেন, কারণ নারী অনেককিছু মেনে নিতো। পরিবারে ঝামেলা শুরু হলেও ধৈর্য ধরে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতো। সন্তান ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিবেচনা করে চট করে তালাকের সিদ্ধান্ত নিতে চাইতো না। নারী অর্থনৈতিকভাবে কম স্বাবলম্বী ছিল, একা থাকা কঠিন ছিল।
কিন্তু সময় বদলেছে। এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিচ্ছেদের আবেদন বেশি আসছে। যদিও শহরে সংখ্যা বেশি, তবে গ্রামাঞ্চলেও বিবাহ বিচ্ছেদের প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যেই সহনশীলতার অভাব, পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি, অন্য সম্পর্কে জড়ানোসহ নানাধরণের নেতিবাচকতা লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যক্তিত্বের সাংঘর্ষিক অবস্থান, পছন্দ-অপছন্দের তালিকা বড় হতে থাকা এবং কখনও কখনও জৈবিক চাহিদার হিসাব-নিকেষও সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটায়। তবে সবচাইতে বড় সমস্যা সহনশীলতা, বিশ্বাসের অভাব এবং দায়বদ্ধতা না থাকা।
সংসারের নিত্য চাপ, অর্থনৈতিক-সামাজিক সংকট, সম্পর্কের অবিশ্বাস ও টানাপড়েন যখন বাড়তে শুরু করে, তখন দম্পতিদের দরকার হয় ইমোশনাল সাপোর্ট, মানসিক শক্তি বৃদ্ধি এবং মনের যত্ন নেওয়া। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো নেয়া হয় না বা পাওয়া যায় না। ফলে অবশ্যম্ভাবী ফল হয় সংসারের ভাঙন।
আপনজনের মানসিক নৈকট্য বা শারীরিক স্পর্শ শিশুর জন্য খুব দরকার। এর উপরই নির্ভর করবে শিশু কীভাবে বড় হবে। আবার এর উপর নির্ভর করে শিশুর মধ্যে অন্য ব্যক্তি ও সমাজের প্রতি কতটুকু আকর্ষণ ও ভালবাসা গড়ে উঠবে। মনোবিজ্ঞান বলে, পরিবার ভাঙা সবচেয়ে বড় ক্ষতি নয়, বরং শিশুর মনে যে নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ধারণাটা ভেঙে যায়, সেটাই পরিবার ও সমাজের জন্য সবচেয়ে গভীর ক্ষত।
ভাঙনের শিকার পরিবারের সন্তানরা যেহেতু বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, দুর্বলতার সেই সুযোগে বন্ধু নামের শত্রুরা এসে ভিড় করে তাদের পাশে। ১৪/১৫ বছর বয়সে এরা মাদক নিতে শুরু করে। সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন বাবা মা যখন বুঝতে পারেন, সন্তান বিপথে চালিত হচ্ছে, তখন অস্থির হয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনেক সময়ই বুঝতে দেরি হয়ে যায়। যেমনটা হয়েছিল সালমার ক্ষেত্রে। সালমা বাবা-মা কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একদিন সব ছেড়ে আকাশের নীলে মিলিয়ে যায়, ও আত্মহত্যা করে।
ভেঙে যাওয়া পরিবারের শিশুরা খুব বেশি একাকিত্বে ভোগে। কাউকে আপন মনে করে না, বিশ্বাসও করে না। নিজেরা নিজেদের জগৎ তৈরি করে, যে জগতে তাদের কোনো প্রকৃত বন্ধু থাকে না। বাবা বাবার মতো, মা মায়ের মতো জীবন বেছে নিয়েছেন নিজেদের সুখের কথা ভেবে। কিন্তু ওর কথা কেউ ভাবেনি, ওর পাশে কেউ থাকেনি।
জাভেদের জীবন ছিল কিছুটা অন্যরকম। ওর বাবা চলে গেলেও মা ছিল মাথার উপর। মা বুক দিয়ে আগলে রেখেছিল জাভেদকে। পরিবারের ভাঙন জাভেদের জীবনকে অস্থির করে তুলেছিল। ও অসম্ভব ইমোশনাল হয়ে উঠেছিল। বাবাকে ঘৃণা করতো, ভয় পেতো। আর এই অতিরিক্ত আবেগ থেকে জাভেদের জীবন লক্ষ্যহীন হয়ে উঠছিল। অসৎ সঙ্গ ওকে প্রায় ধরে ফেলেছিল।
কিন্তু জাভেদের মা যুদ্ধ করে ওকে ফিরিয়ে আনেন সুস্থ জীবনে। পাশে মা ছিল বলে জাভেদ ফিরে আসতে পেরেছে কিন্তু সালমার পাশে কেউ ছিল না বলে সালমা হারিয়ে গিয়েছে। ভাঙা পরিবার মানেই শিশুর জীবন ভেঙে যাবে, এটা সবসময় ঠিক নয়। অন্তত মা-বাবার মধ্যে একজন যদি নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর সময় দেয়, তাহলে শিশুরা অনেকটাই সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
গবেষক সিরাজুল হোসেন তাঁর এক লেখায় জিন লিডলফের গবেষণামূলক বই “দি কন্টিনিউয়াম কনসেপ্ট”থেকে কিছু কথা উল্লেখ করেছেন, যা পড়ে অনেককিছু জানা গেল। বইতে লিডলফ লিখেছেন, শিশুর জন্মের পর কয়েক বছর তার প্রয়োজন মা ও বাবার বা কেয়ারগিভারের শরীরের সাথে সেঁটে থাকা। এর ফলে তাদের সাথে শিশুর যে শারীরিক বন্ধন তৈরি হয়, সেটা শিশুর ভেতরে ব্যক্তিক ও সামাজিক নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে। সেই বোধ শিশুকে করে মানবিক, করে প্রেমাকাংখী, সমাজ ও পরিবারের প্রতি ত্যাগী। শিশু আত্মকেন্দ্রিক হয় না।
একটি শিশু মায়ের শরীরের ভেতরের উষ্ণতায় ও নিরাপত্তায় বেড়ে ওঠে প্রায় বছর ধরে। জন্ম হলেই সে শীতল একাকিত্বে নির্বাসিত হয়। জন্মের পর পর মা-বাবার উষ্ণ দেহের স্পর্শ তাকে সেই নিরাপত্তা দিতে পারে, যাতে তার আবেগগত সংশয় দুর হতে পারে এবং ভবিষ্যতের একটা নিরাপদ আবেগগত সম্পর্কের প্রতি উৎসাহী হতে পারে। দি কন্টিনিউয়াম কনসেপ্টে সম্পর্কের এই কন্টিনিউইটির কথাই বলা হয়েছে, যেটা একবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সামনের প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভাঙা পরিবারে বড় হওয়া বাচ্চাদের কষ্টটা অনেক সময় চোখে দেখা যায় না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তা গভীর হয়। সব শিশু একইভাবে ভোগে না, তবে কষ্ট একটা থেকেই যায়। শুধু বিচ্ছেদ বলে নয়, যে শিশু পরিবারে মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া ও সহিংসতা দেখে বড় হয়, তার মধ্যেও ভর করে ভয়। “আমি কি একা হয়ে যাব?” এই ভয় তৈরি হয় মনে।
অনেক শিশু দুঃখ, রাগ, জেদ ও অপরাধবোধে ভোগে। পারিবারিক বন্ধন হালকা হয়ে গেলে শিশু নিজেকে অবহেলিত ভাবে। এতে কেউ কেউ গুটিয়ে যায়। কেউ হয় রাগী, জেদি ও আক্রমণাত্মক। পড়াশোনায় মনোযোগ খুবই কমে যায়। নিজের পরিবার সম্পর্কে লজ্জা বা হীনম্মন্যতা কাজ করে। এ প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞান বলে ভাঙনের শিকার পরিবারে বড় হওয়া শিশুরা শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও বাধাগ্রস্ত হয়।
শিশুর মানসিক নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি হয় বাবা-মায়ের সঙ্গে তার গভীর ও নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক থেকে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের মধ্যে শিশু বড় হলে, তার নিজস্ব সম্পর্কের ভেতর অনিরাপত্তা তৈরি হয়। অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করে ভালোবাসা স্থায়ী হয় না।
বাবা-মাকে পুরোপুরি পায় না বলে শিশু আবেগ প্রকাশ করতে ভয় পায় বা জানেই না কীভাবে করবে। দুঃখ, সুখ, জয়, পরাজয় নিজের ভেতরে আটকে রাখতে রাখতে হতাশায় পড়ে যায়। তার মধ্যে বেড়ে যায় উদ্বেগ, অপতথ্য, বিষণ্নতা ও সিদ্ধান্তহীনতা। বিচ্ছিন্ন শিশু মনে করতে শুরু করে সম্পর্ক মানেই কষ্ট, সংসার মানেই ভেঙে যাওয়া। তাই বন্ধুত্ব ও পরবর্তী দাম্পত্য সম্পর্কে তার ধারণা হয় নেতিবাচক।
একদিকে বিয়ে বিচ্ছেদ বাড়ছে, অন্যদিকে অসংখ্য শিশু পারিবারিক অশান্তির কারণে পথ হারিয়ে ফেলছে। যারা শিশুর মনোজগত নিয়ে কাজ করেন, তারা জানেন, এইসব শিশুর বেড়ে ওঠাটা কতটা চ্যালেঞ্জিং। চারপাশে তাকিয়ে দেখলেই বোঝা যায় বাবা মায়ের ভাঙন শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে কতটা ভেঙে ফেলে।
বিচ্ছেদের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশু, নবজাতক থেকে টিনএজার, সবার বেড়ে ওঠার উপর নানা বিষয় প্রভাব রাখে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন অনেকেই বাবা মায়ের এই বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো কথা বলতে বা শুনতে চায়না। এর মানে এই নয় যে তারা বিষয়টি আমলে নেয় না, বরং তারা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নিজেদের দু:খ ভোলার জন্য। আর যখন শিশু চুপ হয়ে যায়, তখন বাবা মা, শিক্ষক এবং থেরাপিস্ট কেউ কোনো সাহায্য করতে পারেনা।
একটি আমেরিকান ম্যাগাজিনে পড়লাম শিশু মনোবিজ্ঞানীরা মনেকরেন, এই ছেলেমেয়েগুলো মানসিকভাবে এতোটাই ভাংচুরের ভেতর দিয়ে যেতে থাকে যে তারা নিজেদেরকে একটা খোলসের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে এবং কারো সামনে নিজের আবেগকে প্রকাশ করতে চায়না।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ এখন খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে বিয়ের পর যখন স্বামী স্ত্রীর বনিবনা হয় না, তখন পরিবারের মুরব্বিরা পরামর্শ দিতে থাকেন যে, যেন তারা বাচ্চা নেয়, কারণ বাচ্চা হলে সম্পর্কটা টিকে যাবে। কিন্তু এর চাইতে ভুল পরামর্শ আর হয় না। বরং এই ঝামেলা বছর গড়ানোর মাধ্যমে বাড়তে থাকে, আর সেই অবুঝ শিশুটা ভাঙা সংসারের মধ্যে পড়ে নিজেও ভেঙে যেতে থাকে।
বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনটা গোলমেলে হয়ে আছে কারো কারো। তখন উচিৎ বহুদিন অপেক্ষা না করা বা জোড়াতালি দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা। একটা শিশু ভ’মিষ্ট হওয়ার আগেই স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কিন্তু বাচ্চা চলে আসার পর এই কাজ করা মানে শিশুর জীবনটাকে অনিশ্চিত করে তোলা।
বাবা মা যখন আলাদা হয়ে যায় তখন একজন শিশুর মনে সবচেয়ে ভয় হয়, ভালোবাসা হারানোর ভয়। তাই সন্তানের মঙ্গলের জন্য দুজনকেই ওকে ভালবাসা দিতে যেতে হবে। মা-বাবার এই ভাঙনের দুঃখ বাচ্চা ভুলতে পারবে তখন, যখন তাকে বোঝানো যাবে বাবা-মা ওকে ঠিক আগের মতোই ভালোবাসেন।
আপনজনের মানসিক নৈকট্য বা শারীরিক স্পর্শ শিশুর জন্য খুব দরকার। এর উপরই নির্ভর করবে শিশু কীভাবে বড় হবে। আবার এর উপর নির্ভর করে শিশুর মধ্যে অন্য ব্যক্তি ও সমাজের প্রতি কতটুকু আকর্ষণ ও ভালবাসা গড়ে উঠবে। মনোবিজ্ঞান বলে, পরিবার ভাঙা সবচেয়ে বড় ক্ষতি নয়, বরং শিশুর মনে যে নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ধারণাটা ভেঙে যায়, সেটাই পরিবার ও সমাজের জন্য সবচেয়ে গভীর ক্ষত।
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
লেখক : যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক।
এইচআর/এমএস