যোগ্য ছেলে না থাকায় মেয়েকেই যুদ্ধে পাঠান মা

মার্জিয়া লিপি
মার্জিয়া লিপি মার্জিয়া লিপি , লেখক, গবেষক
প্রকাশিত: ১০:০৫ এএম, ৩১ মার্চ ২০২১

পিতা হরিপদ বৈদ্য এবং মা সরলাময়ী বৈদ্য। তাঁদের ছয় সন্তান— চার মেয়ে এবং দুই ছেলের মধ্যে তিন মেয়ে—আশালতা বৈদ্য, ঊষালতা বৈদ্য, স্বর্ণলতা বৈদ্য এবং এক ছেলে হরগোবিন্দ বৈদ্য ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আশালতা বৈদ্য ১৯৫৬ সালে গোপালগঞ্জের (সাবেক ফরিদপুর জেলা) কোটালীপাড়া থানার লাটেঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরিবারের প্রথম সন্তান। মাত্র ১৫ বছর বয়সে হেমায়েত বাহিনীর মহিলা কমান্ডের প্রধান হিসেবে আশালতা বৈদ্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

বর্তমানে আশালতা বৈদ্য মহিলা সূর্যমুখী সংস্থার নির্বাহী প্রধান। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তৈরি করেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরের ২৯ তারিখ সূর্যমুখী সংস্থার কার্যালয় মতিঝিলে তিনি ছাত্ররাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ এবং সামাজিক সংগঠনে সম্পৃক্ত হওয়ার বিভিন্ন প্রেক্ষাপট দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ সময় ধরে বর্ণনা করেন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সহপাঠী কুসুম রানী বাগচী স্কুলের বেতন দিতে না পারায় শিক্ষক বাসুদেব রায় ক্লাস থেকে বের করে দিতে গেলে প্রতিবাদ করে বলেন, গরিবদের স্কুলে পড়তে না দিলে তিনিও সে স্কুলে পড়বেন না। প্রতিবাদ করে সব সহপাঠীকে (৭০ জন) নিয়ে বের হয়ে যান।

এর ফলে স্কুলে গরিব ছাত্রদের জন্য বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। তার তিন বছর পর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় মিশনারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ব্রাদার সিলভেস্টরোকে প্রস্তাব করেন, সমবায় সমিতির মাধ্যমে তাঁকে একটা দোকান করার সুযোগ করে দিলে তিনি অবস্থা সম্পন্নদের কাছ থেকে বেতনের সঙ্গে পাঁচ টাকা অতিরিক্ত নিয়ে একটি খাতা-কলমের দোকান পরিচালনা করে তার লভ্যাংশ দিয়ে গরিব ছাত্রদের বেতনের ব্যবস্থা করেন। প্রধান শিক্ষক ব্রাদার সিলভেস্টরো আশালতা বৈদ্যের প্রস্তাব সমর্থন করেন এবং দোকানের ব্যবস্থা করে দেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের স্বামী নির্যাতিত নারীদের নিয়ে নারীমুক্তি আন্দোলন গড়ে তোলেন আশালতা বৈদ্য। শিক্ষক প্রিয় লাল বাড়ইয়ের অনুপ্রেরণায় এবং শিক্ষকের উপস্থিতিতে প্রতি ঘর থেকে মুষ্টি চাল নিয়ে মোট ৪৫ হাজার টাকা জমা করে একটি সমিতি গঠন করেন, যা পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু অনুমতিক্রমে ‘কোটালীপাড়া থানা সমবায় সমিতি’ নামে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে এবং নিবন্ধিত হয়।

তিনি ১৯৬৮ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। নারিকেলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস থেকে পালিয়ে কোটালীপাড়ায় ছাত্রলীগের মিছিলে যান। সেখানে সদস্যপদ গ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর জেলমুক্তি উপলক্ষে কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের জনসভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগে আশালতা বক্তৃতা করেন। বঙ্গবন্ধু সভাস্থলে পৌঁছে সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল আজিজকে জিজ্ঞেস করেন, “এই আজিজ, আমি খগেড় নদীতে স্পিডবোটে বসে একটা কোকিলকণ্ঠীর বক্তব্য শুনলাম, সেই কোকিলটা কোথায়?” তারপর আবারো খোঁজ পড়ে আশালতার। আশালতা বৈদ্যমঞ্চে বঙ্গবন্ধুকে সালাম করে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা বক্তৃতা করেন। বৃহৎ পরিসরে আত্মপ্রকাশের সুযোগ ঘটে তাঁর।

মা সরলাময়ী বৈদ্য সম্পর্কে আশালতা বৈদ্য
১৯৭০ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় থানা কমিটিতে কাজ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে স্কুলে না গিয়ে বাড়িতে এসে ভাবেন, যুদ্ধে যাবেন, পাক আর্মিদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে মরতে চান না। যুদ্ধ করে মরবেন, যুদ্ধে যাবেন—এই ছিল সিদ্ধান্ত। কিন্তু এ পরিস্থিতি বুঝতে পারছিলেন না, কীভাবে যাবেন। চারপাশে দেখছেন সবাই সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যাচ্ছেন। তিনি তখনো বুঝতে পারেননি কীভাবে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আবারো দেশে এসে যুদ্ধ করা যায়। আশালতা বৈদ্য সুযোগ খুঁজছিলেন, কীভাবে যাবেন। এরকম পরিস্থিতিতে একাত্তরের মে মাসের শেষ দিকে, হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন রাতে নৌকা করে আশালতা বৈদ্যের বাড়ি খুঁজে বের করেন। পাশের বাড়ির একজন হরিপদ বৈদ্যের বাড়ি দেখিয়ে দেন। হরিপদ বৈদ্য হেমায়েত উদ্দিনকে কাছারি ঘরে বসতে দেন। হেমায়েত উদ্দিন বলেন, “কাকাবাবু আপনার পরিবার থেকে একজনকে মুক্তিযুদ্ধে যেতে দিতে হবে।” হরিপদ বৈদ্য উত্তরে বলেন, “বাবা, আমার তো মেয়েরা বড়, ছেলেটা ছোট—তুমিই বলো, কাকে দেবো?” আশালতা বাবার পাশে থেকে উত্তর দেন; বলেন, ‘বাবা, আমি যাবো।’

হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘তোমাকে পেলাম; তুমি কাল সকালে আরো ২০-২৫ জন মেয়ে নিয়ে লাটেঙ্গা লেবুবাড়ী সরকারি প্রাথমিক স্কুলে চলে এসো।’ আশালতা বৈদ্য পরদিন সকালে ছোট দুই বোন— আশালতা, ঊষালতা এবং ছোট ভাই হরগোবিন্দসহ মোট ৪৫ জন সহপাঠী ও প্রতিবেশী মেয়ে নিয়ে মা সরলাময়ীর রান্না করা গরম ভাত খেয়ে লেবুবাড়ী স্কুলে উপস্থিত হন। মুক্তিযুদ্ধে হেমায়েত বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন আশালতা বৈদ্য। সেখান থেকে হেমায়েত বাহিনীর একজন তাদের মিশনারি স্কুলে নিয়ে আসেন; বুঝিয়ে বলেন সকলকে প্রশিক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের প্রেক্ষাপট।

হেমায়েত উদ্দিন স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় সে এলাকায় মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলেন। ৫ হাজারের অধিক মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে গড়ে তোলেন হেমায়েত বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে ৮ ও ৯নং সেক্টরে কোটালীপাড়া সীমানা সাব-সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হেমায়েত বাহিনীর দলে যোগ দিয়ে আশালতা বৈদ্য শেখেন কীভাবে অস্ত্র চালাতে হয়, কীভাবে গেরিলা যুদ্ধ করতে হয়। তখন কোটালীপাড়া সাব-সেক্টরেই কেবল মহিলা মুক্তিযোদ্ধা দল নামে একটি আলাদা বাহিনী গঠন করা হয়। প্রায় ৩৫০ জন নারী সৈনিকের সমন্বয়ে গঠিত এ মহিলা মুক্তিযোদ্ধা দলের একমাত্র কমান্ডার ছিলেন আশালতা বৈদ্য। তাঁর সাথে সশস্ত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন ৪৫ জন। এই বাহিনীতে লিয়াজোঁ কমিটি, জল্লাদ বাহিনী, প্রশিক্ষণ ইউনিট ও প্রশাসনিক ইউনিট নামে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

Liberation War

প্রশাসনিক ইউনিট মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাদ্য, অর্থ, রেশন, ওষুধ, জামা-কাপড় ও নৌকা সংগ্রহ করতো। প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে এই প্রশাসনিক ইউনিটের সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কোটালীপাড়ার কলাবাড়িতে চিত্তরঞ্জন গাইনের বাড়িতে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়, যেখানে পুরুষের পাশাপাশি আশালতা বৈদ্যের নেতৃত্বে নারীদেরও সামরিক ট্রেনিং দেয়া হতো। প্রথমে ৮০ জনের একটি দলকে ৩০৩ রাইফেল খোলা, জোড়া লাগানো, লক্ষ্য স্থির করা বা নিশানা করা এবং ফায়ার করা শিখানো হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বেশ কয়েকটি সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয় হেমায়েত বাহিনী। হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় রামশীল, হরিণাহাটি, শেখ বাড়ির যুদ্ধ, কলাবাড়ির যুদ্ধ, মাটিভাঙ্গা, বাঁশবাড়িয়া, ঝনঝনিয়া, জহরের কান্দি, কোটালীপাড়া সদর প্রভৃতি স্থানে।

হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বেই এ বাহিনী গড়ে ওঠে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, বরিশাল জেলার উত্তরাংশ, খুলনা ও যশোর জেলার কিছু স্থানে এ বাহিনীর সৈন্যরা বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেয়। ৫ হাজার ৫৫৮ জনের এ বাহিনী ৪২টি কোম্পানিতে ভাগ হয়ে ছোট-বড় মোট ১০৪টি যুদ্ধ করে। এতে শহীদ হয়েছেন প্রায় ৫০ জন। আহতও হয়েছেন অনেক। এছাড়া হেমায়েত বাহিনীর হাতে প্রায় ৬০০ পাকসেনা মারা যায়। এসব বাহিনীর কার্যক্রম পুরো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাঙালি জাতির প্রাণস্পন্দন ও গৌরবে পরিণত হয়।

মাদারীপুরের কালকিনী থানার কিছটুা দূরে ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল ১৯ সদস্যের একটি মুক্তিযোদ্ধা দলের সঙ্গে পাকবাহিনীর একটি গেরিলা যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার এ যুদ্ধে চারজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন ও পাকবাহিনীর ১০ জন মারা যায়। এছাড়া পাকবাহিনী চারটি জিপ ও একটি ট্রাক ফেলে পালায়। সেখান থেকে মুক্তিযোদ্ধা দল যুদ্ধ করে ঘিওর, সাটুরিয়া ও শিবালয়ে। এসব যুদ্ধে আরো ছয়জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে এরকম অসংখ্য যুদ্ধ করেছেন হেমায়েত উদ্দিন ও তাঁর গেরিলা বাহিনী। রামশীলের এক যুদ্ধে শত্রুর গুলি এই গেরিলা যোদ্ধার মুখের বামপাশ দিয়ে ঢুকে চোয়ালের ১১টি দাঁত ও জিহ্বার একটি অংশ নিয়ে মুখের ডানপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। যুদ্ধের জন্য জেলে সেজে রাতের অন্ধকারে পদ্মা নদীও পার হয়েছেন তিনি। শত্রুর পথ রুখতে কখনো জীবন বাজি রেখে রেলসেতু উড়িয়েছেন। কখনো আক্রমণ করেছেন শত্রুর আস্তানা। কখনো শত্রুর আস্তানা থেকে উদ্ধার করেছেন অসংখ্য নির্যাতিত মা-বোনকে। কেবল যুদ্ধই করেননি এই যোদ্ধা, তাঁর নেতৃত্বে ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ তারিখে হেমায়েত বাহিনী গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রায় ৫০০ পাকিস্তানি সেনাকে পরাস্ত করে এই এলাকা শত্রুমুক্ত করে।

২ ডিসেম্বর রাতে ২৪ জন সাব-কমান্ডার নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন চূড়ান্ত আক্রমণের। যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধুর দেশ প্রত্যাপর্তন দিবস—১০ জানয়ুারিতে ঢাকায় আসেন বঙ্গবন্ধুকে দেখার জন্য। ১৯৭২ সালে আশালতা বৈদ্য এসএসসি পাস করেন। বঙ্গবন্ধুর পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বরিশাল মহিলা কলেজে ভর্তি হন। বঙ্গবন্ধু আশালতা বৈদ্যের পড়াশোনার জন্য ডাক মারফত ২৫ হাজার টাকা পাঠান। তিনি বরিশাল মহিলা কলেজে ছাত্রলীগ গঠন করেন। বরিশাল মহিলা কলেজে পারভীন সভাপতি এবং আশালতা বৈদ্য সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৭৪-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। রোকেয়া হল ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি।

১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) ও এমএ পাস করেন। মাস্টার্সের পর তো বটেই, অনার্স শেষ হওয়ার আগেই যেখানে তাঁর বয়সী মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বিয়ে কিংবা নিজের কথা ভুলে সমাজের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করেন। তাঁর ভাষায়, “আমি কখনও সময় নষ্ট করি না, কখনোই না। এমনকি ছাত্রজীবনে কোনো ছেলের পেছনে সময় নষ্ট করিনি। বিয়েই করিনি! আমি কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগে বিশ্বাস করি।”

১৯৮০ সালে সেটাকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যান। এই নিঃশর্ত সমাজকর্মী সমাজসেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে গড়ে তোলেন ‘সর্যূমুখী সংস্থা’ নামের সমাজসেবামূলক সংস্থা। আশালতা ও তাঁর প্রতিষ্ঠান বিগত ৩৪ বছর ধরে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষদের সংঘবদ্ধ করে, তাদের সহায়তা দিয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তুলছেন। সংক্ষিপ্তাকারে ‘এস এম এস’ নামের এই সংস্থাটি মোট ১৭টি জেলার ৪২টি উপজেলায় কাজ করে। ‘এস এম এস’-এর কৃষি সহায়তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তা এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পসহ আরও অনেক সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত দুই লাখেরও বেশি পরিবার উপকৃত হয়েছে।

এখানেই থেমে থাকেনি তাঁর সমাজসেবা! তিনি পরিবেশ নিয়েও কাজ করেন, এইডস নিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলেন, পরিবেশ বিপর্যয় রোধে এবং বিপর্যয়কালীন করণীয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলেন। তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য কীভাবে দারিদ্র্য সীমার নিচে এবং দারিদ্র্য সীমার কাছাকাছি থাকা জনগণের থেমে থাকা অর্থনীতির চাকা ঘোরানো যায়। তাঁর সামগ্রিক জীবন বিবেচনায় একবার নোবেল পুরস্কারে জন্যও তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়। ২০০৫ সালে যে এক হাজার জন নারীর নাম প্রস্তাব করা হয় নোবেল পুরস্কারের জন্য, তার মাঝে তাঁর নামটিও ছিল। খুব অল্প বয়সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়ার ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার যে শপথ নিয়েছেন আশালতা আজও তা পালন করে যাচ্ছেন।

দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, এখন সংগ্রাম করছেন দেশের সাধারণ মানুষের জীবনকে উন্নত করা নিয়ে। তিনি মনে করেন, বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম আজও শেষ হয়নি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটে নাম নিবন্ধের জন্য কখনই তিনি কোনোরূপ আবেদন করেননি। সব গেজেটেই তাঁর নাম রয়েছে। তিনি মনে করেন, তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জনের পেছনে রয়েছেন মা সরলাময়ী বৈদ্য। তিনি শুধু আশালতাদের মা ছিলেন না, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় হেমায়েত বাহিনীর মহিলা কমান্ডের তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার জন্য রান্নাবান্না করতেন। মা খুবই স্নেহশীল ছিলেন। শেখ হাসিনার প্রতি তিনি বিশেষ স্নেহশীল ছিলেন। কোনো দিনই বাড়িতে যে কোনো কাজে আসা কোনো অতিথিকে না খাইয়ে যেতে দিতেন না। তিনি খুব রাজনৈতিক সচেতন ছিলেন। আশালতাকে প্রায়ই বলতেন, “এমপি, মন্ত্রী না হওয়ার জন্য মনে কোনো ক্ষোভ রাখিস না।” আশালতা বৈদ্য মনে করেন, ২য় শ্রেণিতে পড়াকালীন তিনি যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন গরিব ও শোষিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে— আজও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশ আর দেশের মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন ছাড়া অবিবাহিত আশালতার অন্য কোনো গন্তব্য নেই। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও বঞ্চিত মানুষের জন্য আরো অনেক কিছু করার স্বপ্ন দেখেন।

পরিচয় : মুক্তিযোদ্ধা আশালতা বৈদ্য ও মহিলা কমান্ডের প্রধান হেমায়েত বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা : ৮নং সেক্টর সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ : ২৯ অক্টোবর, ২০১৬ সাক্ষাৎকার স্থান : সূর্যমুখী সংস্থা, ২২ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা। 

তথ্যসূত্র : ‘একাত্তর মুক্তিযোদ্ধার মা’, মার্জিয়া লিপি, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, ৪৬/১ হেমেন্দ্র দাস রোড, সূত্রাপুর, ঢাকা-১১০০।

এইচআর/ফারুক/এমকেএইচ

১৯৭০ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় থানা কমিটিতে কাজ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে স্কুলে না গিয়ে বাড়িতে এসে ভাবেন, যুদ্ধে যাবেন, পাক আর্মিদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে মরতে চান না। যুদ্ধ করে মরবেন, যুদ্ধে যাবেন—এই ছিল সিদ্ধান্ত

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]