ভোটের দিন যেভাবে কাটালেন সাঈদ খোকন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন। কিন্তু মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের দিন সাঈদ খোকনের সময় কেটেছে ব্যস্ততা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন সকাল সাড়ে ১০টায় সপরিবারে ভোট দেন নাজিরাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রথমে তিনি নিজে ভোট দেন। এরপর তার মা ফাতেমা হানিফ, স্ত্রী ফারহানা সাঈদ ও বোন রেহানা হানিফ ভোট দেন। তার আগে নাজিরাবাজারে অবস্থিত পৈতৃক বাড়িতে রাতযাপন করেন সাঈদ খোকন। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নেতাকর্মী, সমর্থকদের কাছে খোঁজ নেন ভোট গ্রহণের প্রস্তুতির।
সাঈদ খোকন প্রথমেই স্থানীয় সুরিটোলা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিতের খবর জানতে পারেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি তার সমর্থক দলীয় নেতাকর্মীদের ফোন দেন। এ সময় তার ইলিশ মাছ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়ায়নি বলে তাকে সেখান (সুরিটোলা কেন্দ্র) থেকে জানানো হয়।
বলা হয়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যকার উত্তেজনা ও ভাঙচুরের পরিপ্রেক্ষিতে এ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে।
ভোট প্রদানের পর সাঈদ খোকন নাজিরাবাজারের বাড়িতে ফিরে আসেন। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটিয়ে আবার দুপুর একটার দিকে বের হন তিনি। এরপর আশপাশের কেন্দ্রসহ মিটফোর্ড এলাকা হয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরের অবস্থা দেখেন তিনি। সেখান থেকে আসেন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে অবস্থিত নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে। এখানে অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ড. আবদুর রাজ্জাক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মৃণাল কান্তি দাস, অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দারসহ দলের অন্য নেতারা।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে আবার যান নাজিরাবাজারের বাড়িতে। সেখানে মা, স্ত্রী-সন্তান ও বোনের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। তার মা ফাতেমা হানিফ বাবা প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফের স্মৃতিচারণ করলে ডুকরে কাঁদতে থাকেন সাঈদ খোকনসহ তার স্ত্রী ও ছোট বোন এবং মেয়েরা। ততক্ষণে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের খবর জেনে যান সাঈদ খোকন।
বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় নিশ্চিত বিজয়ের সংবাদেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই আবেগঘন মুহূর্ত কাটান তিনি।
নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় সাঈদ খোকন যখন প্রয়াত পিতার কথা মনে করে কাঁদছিলেন তখন নিচতলায় তার শতাধিক সমর্থক অপেক্ষা করছিলেন সম্ভাব্য জয় উদযাপনের জন্য। কিন্তু সাঈদ খোকন নিচে তাদের কাছে সংবাদ পাঠান উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করে অপেক্ষা করার জন্য। এরপর কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে বিকালে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাঈদ খোকন।
এআরএস/পিআর