সিটি নির্বাচন : বিব্রত আওয়ামী লীগও!
তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিব্রত খোদ আওয়ামী লীগও। তিনটিতেই বিপুল ভোটে জিতেও আওয়ামী লীগে তেমন আনন্দ নেই, যেন অনেকটাই ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার স্বাদ উপভোগ করছেন।
নির্বাচনের দিনের ফলাফল, ঘটনা প্রবাহ, মিডিয়ার সমালোচনা, বিরোধী পক্ষের অবস্থান, সর্বপরি আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ প্রকাশে আওয়ামী লীগেরও অনেকে বিব্রত বলে জানা গেছে।
সংগঠনের নীতি নির্ধারকদের কেউ কেউ বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের বিজয় হয়েছে বটে, কিন্তু এমন নির্বাচন সংগঠনটির রাজনীতির সঙ্গে যায় না। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়ে নিজেরাই সমালোচনার মুখে পড়ে। এবার সেই সমালোচনায় ছেদ ঘটবে। দীর্ঘমেয়াদে এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের রাজনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চলমান অস্থির রাজনীতি থেকে মুখ ফেরাতেই সরকার তিন সিটি কর্পোরশেন নির্বাচনের দিনক্ষণ ধার্য করে। সরকার পক্ষ চাইছিল, যেনতেনভাবে একটি নির্বাচনের আয়োজন করলেই জনগণ, মিডিয়া, বিশ্লেষকরা বিরোধীজোটের আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন দমাতে সরকার এক প্রকার অপরাগ হয়েই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এই নির্বাচনের ঘোষণা দেয়।
অপরদিকে টানা তিন মাসের আন্দোলনে কার্যত কোনো ফলাফল না পেয়ে বিরোধীপক্ষও ছিল এক প্রকার দিশেহারা। কোনো রাস্তাই খোলা ছিল না বিএনপির সামনে। সরকারের নেয়া কৌশলে আন্দোলন রেখেই নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। সরকারের নির্বাচনী কৌশলকেই তারা ‘শাপে বর মানে।’
অাওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘বিএনপি যা চাইছে নির্বাচনে অনেকটা তাই হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সিটি কর্পোরশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি সরকাকে বিব্রত করতে চেয়েছিল। এই নির্বাচনের সার্বিক অর্জন নিয়ে আমরা বিব্রতও বটে’।
সিটি নির্বাচনের ভোট কারচুপির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘও। এই নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অধিক তৎপর ছিল আগে থেকেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো স্থানীয় নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা অংশ নেননি। এবার তাদের উপস্থিতিও ছিল বেশ লক্ষণীয়। নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি, জালিয়াতি, নির্বাচন কমিশন-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমগুলোও। ফলে নির্বাচনের ফলাফল সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক উপদেষ্টা জাগো নিউজকে বলেন, ‘তিন সিটি নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীরা হারলে সরকারের পরিবর্তন হতো না। কিন্তু এই নির্বাচনে জিতে কি লাভ হলো তা নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে। বিএনপির আন্দোলনকে মানুষ এমনিতেই ধিক্কার জানিয়েছে। জামায়াত-শিবিরের নাশকতা সাধারণ মানুষই মোকাবেলা করতে শুরু করেছিল। এমন অবস্থায় সিটি নির্বাচন করে যে বিতর্ক ওঠল তার ফসল বিরোধীপক্ষ পেতে পারে।’
আওয়ামী লীগের প্রচার উপ-কমিটির এক নেত্রী বলেন, ‘এমন নির্বাচন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যায় না। সরকার তো জনগণের আস্থা নিয়েই কাজ করছে। নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে বিএনপিকে ইস্যু তৈরি করে দেয়ার সুযোগ নেই।’
তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে। বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে যে নাটক করেছে, তা তাদের পূর্বপরিকল্পিত। এসবের মধ্য দিয়ে জনগণই বিএনপিকে বর্জন করেছে।’
এএসএস/একে/এমএস