রোববার সকালে ফের চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৩ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮

>> ধানের শীষ পেলেন জেএসডি-নাগরিক ঐক্য-এলডিপির ১৫ জন
>> ড. কামালের দল গণফোরাম পেল সাতটি আসন
>> খালেদার কার্যালয়ে মনোনয়নবঞ্চিতদের হামলা-ভাঙচুর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শনিবার বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে বেশ কয়েকটি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মাইকের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

শরিকদের পাশাপাশি বিএনপির একাধিক নেতাও আজ ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান। রাত সোয়া ৮টার দিকে ঘোষণা আসে, আজ আর চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণঅ করা হবে না। আগামীকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে ফের আসনসহ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

আজ চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির প্রার্থীরা হলেন, পটুয়াখালী-২ আসন থেকে শহিদুল আলম তালুকদার, ময়মনসিংহ-১ আসনে আলী আজগর, গাইবান্ধা-২ আসনে আব্দুল রশিদ সরকার, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে গাজী মনির, কুমিল্লা-৬ আসনে হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াসিন, নেত্রকোনা-৫ আসনে আবু তাহের তালুকদার এবং জামালপুর-১ আসনে রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

এদিন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরামকে সাতটি আসনে ছাড় দেয় বিএনপি। বিকেলে ঘোষিত গণফোরামের প্রার্থীরা হলেন, ঢাকা-৬ আসনে সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা-৭ আসনে মোস্তফা মহসিন মন্টু, ময়মনসিংহ-৮ আসনে এ এইচ এম খালিকুজ্জামান, হবিগঞ্জ-২ আসনে রেজা কিবরিয়া, পাবনা-১ আসনে অধ্যাপক আবু সাইদ, কুড়িগ্রাম-৫ আসনে আমছা আমিন, মৌলভীবাজার-২ সুলতান মনসুর।

মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, আ স ম রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও অলি আহমেদের দল এলডিপিকে পাঁচটি করে আসন দিয়েছে বিএনপি।

জেএসডির চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আ স ম আব্দুর রব, কুমিল্লা-৪ আসনে আব্দুল মালেক রতন ও ঢাকা-১৮ আসনে শহিদুল উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, শরিয়তপুর-১ আসনে নূরুল ইসলাম।

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনেও জেএসডির প্রার্থী লড়বেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তার নাম ঘোষণা করা হয়নি। জেএসডির প্রার্থীরাও ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। এছাড়া দলটির হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এস এম আকরাম, রংপুর-৫ আসনে মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, রংপুর-১ আসনে শাহ মো. রহমতউল্লাহ ও বরিশাল-৪ আসনে কে এম নুরুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

অলি আহমেদের এলডিপির আসনগুলো হলো, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে অলি আহমেদ, কুমিল্লা-৭ আসনে রেদুয়ান আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদত হোসেন সেলিম, চট্টগ্রাম-৭ আসনে নুরুল আলমও ময়মনসিংহ-১০ আসনে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ।

একটি আসন পেল কল্যাণ পার্টি

বিএনপি থেকে একটি আসন পেয়েছে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। চট্টগ্রাম-৫ আসনটি কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে দেয়া হয়েছে।

দলটি মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, মনোনয়ন না পেয়ে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সমর্থকরা। সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার, গোপালগঞ্জের সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা-১২ আসনের আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার ও শেরপুরের নালিতাবাড়ীর একটা আসনের মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালান।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কার্যালয়ের সামনে এসে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এর আগে দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এহসানুল হক মিলনের পক্ষে স্লোগান এবং বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। পরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর গেট খুলে দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে তার সমর্থকরা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যায়।

শনিবার রাত ৮টার দিকে পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত হাসান মামুনের সমর্থকরা নয়াপল্টন কার্যালয়ে তালা মারেন। এ আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে।

কেএইচ/এমএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :