কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনায় বিএনপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৭ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৯

সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার কড়া সমালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে যখন দেশের মানুষ ক্ষোভে দুঃখে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেললো ঠিক তখনি পানির দরে কেনা কাঁচা চামড়া রফতানির ঘোষণা দিল অন্ধকারের সরকার।'

তিনি বলেন, 'ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি চলছে। অফিস-আদালত সব বন্ধ। এই সময়ে হঠাৎ গতকাল রাতের অন্ধকারে কাঁচা চামড়া রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলো সরকার। গরিব, মিসকিন, এতিমদের হক মারার পর কার স্বার্থোদ্ধারে, কেন এই তড়িঘড়ি করে এই রফতানির ঘোষণা দেয়া হলো তা দেশের মানুষ জানতে চায়। একদিকে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে কম টাকায় চামড়া কিনে এতিম মিসকিনদের পেটে ভয়বহ নিষ্ঠুরতায় লাথি মারা হলো। অন্যদিকে এখন আবার কাঁচা চামড়া বিদেশে রফতানির সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের ট্যানারি শিল্পকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হলো। সবই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং সিন্ডিকেটের লুটপাটের জন্য মহাকারসাজি। এই চামড়াই আবার দেখা যাবে অন্য দেশ থেকে আমদানি করা হবে চড়ামূল্যে। কাঁচা চামড়া রফতানি হলে শতভাগ দেশীয় শিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এবং এই শিল্পে হাজার হাজার কোঢি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির সম্মুখীন হবে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, দানের চামড়াগুলো দিয়েই মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো চলে। তারা এবার বিপাকে পড়েছে। ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষকরা যখন ধানক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল, ঠিক তখনই বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ট্রাক বোঝাই চালের দৃশ্য দেখতে হয়েছিলো। কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে যখন দেশের মানুষ চামড়া মাটিতে পুঁতে দিলো ঠিক তখনই পানির দরে কেনা কাঁচা চামড়া রফতানির ঘোষণা দেয়া হলো।

রিজভী বলেন, যেমন করে ধান পুড়িয়ে অন্য দেশ থেকে আনা চাল খেতে হয়েছে, ঠিক তেমনি করেই চামড়াশিল্প ধ্বংস করে পানির দরে কেনা কাঁচা চামড়া প্রতিবেশী দেশে রফতানি করতে হচ্ছে। ঠকছে কৃষক, ঠকছে এতিম-গরিব-মিসকিন। জিতছে লুটেরা, জিতছে সিন্ডিকেট আর তাদের সতীর্থরা। ক্ষতি হবে এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অনেক লোক। বেকার হয়ে পড়বে এর সঙ্গে জড়িতে বিপুল সংখ্যক মানুষ। আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম, টিএস আইয়ুব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/এসএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :