ডিপোর্টের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চায় বাংলাদেশ


প্রকাশিত: ০৭:৩৪ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ১৬৯ জন বাংলাদেশিকে নিজ দেশে ডিপোর্ট করার প্রস্তুতি নিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। এরমধ্যে ৩০ জনকে ডিপোর্টের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তালিকা দিয়েছে সফররত স্টেট ডিপার্টমেন্টের দুইজন প্রতিনিধি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, আগে আমাদের দেখতে হবে ওই ৩০ জন বাংলাদেশি কি-না। তা নিশ্চিত হলেই তাদের ফেরত নেয়া হবে।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের তালিকা অনুযায়ী অবৈধদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি দেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপরই নিউইয়র্ক কনস্যুলেট এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করবে। অবৈধদের বেশির ভাগই এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা সফররত স্টেট ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালেন বার্সিনের নেতৃত্বে দুইজন প্রতিনিধি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে দেখা করে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ হয়ে পড়া ৩০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর কথা জানায়।

বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ হয়ে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিনিধিরা বৈঠকে জানিয়েছেন, তারা বৈধ অভিবাসী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের আদালত তাদের অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তাই ফেরত নিতে বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই ৩০ জন বাংলাদেশি কি-না তা নিশ্চিত করতে পারলেই তাদের নেয়া হবে।

এদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট ১৬৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে পাঠিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

দালালদের মোটা অর্থ দিয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তারা গ্রেফতার হন।

জানা যায়, গত তিন বছরে প্রায় দু’হাজার জন বাংলাদেশি পরিচয়ে সীমান্তে আটক হন। এদের অর্ধেকেই জামিনে রয়েছেন। তাদের এসাইলামের আবেদন বিচারাধীন। তবে আদালতে অবৈধ প্রমাণ হওয়া ১৬৯ জন এখন বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। এদেরকেই জড়ো করা হচ্ছে আরিজোনার ইমিগ্রেশন জেলে। সেখান থেকেই সরাসরি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশিদের ডিপোর্টের প্রতিবাদে গত ২৯ মার্চ মঙ্গলবার নিউইয়র্কে ডেমোক্রেট পার্টির অন্যতম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনের নির্বাচনী অফিসের সামনে মানববন্ধন করে দক্ষিণ এশিয়ানদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দেশিজ রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং’ (ড্রাম)।

মানববন্ধনে ডিপোর্টেশন স্থগিত করতে ওবামা প্রশাসনে চাপ সৃষ্টির জন্য হিলারি ক্লিনটনের সহায়তা কামনা করা হয়।

মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়ায় যেসব মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের আশায় আমেরিকায় এসেছেন তাদের ডিপোর্ট করার জন্য আরিজোনার ক্লোরেন্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এই ক্লোয়েন্সে গণ ডিপোর্টের জন্য স্টেজিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই সব বন্দিদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি এবং ২০১৫ সালের শেষ দিকে মুক্তির জন্য তারা অনশন ধর্মঘট করেছিলেন বলে জানা গেছে।

এসএইচএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]