মালয়েশিয়া প্রবাসী ভোটারদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যেসব প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ভোটে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন কিন্তু এখনো ব্যালট পাননি, তারা যেন দ্রুত নিকটস্থ Pos Laju (পোস লাজু) অফিসে যোগাযোগ করে তাদের পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ করেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিবৃতিতে হাইকমিশন জানায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রাপকের ঠিকানার নিকটবর্তী Pos Laju অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের দেওয়া ঠিকানা অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট হওয়ায় এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাপকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় সরাসরি ব্যালট বিতরণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে, যেসব প্রবাসী ভোটার এখনো ব্যালট হাতে পাননি, তাদের দ্রুত নিজ নিজ নিকটস্থ Pos Laju অফিসে খোঁজ নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। সময়মতো ব্যালট সংগ্রহ ও পাঠানো না গেলে ভোটাধিকার প্রয়োগ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভুল বা অসম্পূর্ণ ঠিকানার কারণে মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ৪ হাজার পোস্টাল ব্যালট ফেরত এসেছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রযুক্তি পেশাজীবী ও ইয়ুথ হাব মালয়েশিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল সারওয়ার বলেন, প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তিনি বলেন, তবে নিবন্ধনের সময় ব্যাপক ফটোসেশন ও প্রচারণা দেখা গেলেও ব্যালট সংগ্রহের পদ্ধতি, ব্যালট পাওয়ার পর করণীয় কিংবা সময়সীমা-এসব বিষয়ে কার্যকর সচেতনতামূলক উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, দিনশেষে সব দায় প্রবাসীদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে-ঠিকানা ভুল দেওয়া হয়েছে বা ফোন ধরা হয়নি। অথচ বাস্তবে অনেকেই কোনো কলই পাননি। পোস্ট অফিসের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের গাফিলতি এখানে স্পষ্ট।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কয়েকজন প্রবাসী এরই মধ্যে আগের অভিজ্ঞতার কারণে ব্যালট পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করলেও, ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাপ বা সিস্টেম এখনো চালু হয়নি, যা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে ২১ জানুয়ারির পর সক্রিয় হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগটি ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এমআরএম/জেআইএম