প্রশান্তির এক অপূর্ব ঠিকানা ব্রুকলিন বোটানিক্যাল গার্ডেন

আম্বিয়া অন্তরা
আম্বিয়া অন্তরা আম্বিয়া অন্তরা , যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশিত: ১২:৩৩ পিএম, ০৫ মে ২০২৬
আম্বিয়া অন্তরা/ছবি-জাগো নিউজ

নিউ ইয়র্কের পাথুরে দেয়াল আর ব্যস্ত নগরের খুব কাছেই যেন থমকে আছে এক মায়াবী সবুজ অরণ্য ব্রুকলিন বোটানিক্যাল গার্ডেন। আমার বাসার একদম কাছেই এর অবস্থান, অথচ যান্ত্রিক জীবনের ইঁদুর দৌড়ে খুব একটা সময় করে ওঠা হয় না। তবুও গ্রীষ্মের তপ্ত দিনে যখনই ক্লান্ত হয়ে পড়ি, এই উদ্যানের শান্ত স্নিগ্ধতা আমাকে চুম্বকের মতো টেনে নিয়ে যায়।

উদ্যানের ভেতর পা রাখতেই মনে হয় যেন কোনো শিল্পীর ক্যানভাসে ঢুকে পড়েছি। গ্রীষ্মের উজ্জ্বল রোদে যখন বিচিত্র সব ফুলের সমারোহ আর সবুজের আভা চোখে পড়ে, তখন মনটা এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। এখানকার প্রতিটি কোণ যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির এই রূপ মহান আল্লাহর এক নিপুণ কারুকাজ এবং তার অসীম করুণার দান।

jagonews24

স্রষ্টার এই দানকে আরও বেশি সুশৃঙ্খল ও দর্শনীয় করে তোলার কারিগর হলেন মানুষ। এখানে দেখার মতো রয়েছে বিশেষ কিছু আকর্ষণ। চেরি এসপ্ল্যানেড: বসন্তের শেষেও যার রেশ গ্রীষ্মের বাতাসে ছড়িয়ে থাকে।

জাপানিজ হিল-অ্যান্ড-পন্ড গার্ডেন: যেখানে জল আর পাথরের মিতালিতে খুঁজে পাওয়া যায় গভীর ধ্যানের নীরবতা। রোজ গার্ডেন: অজস্র প্রজাতির গোলাপের ঘ্রাণে যা হয়ে ওঠে মোহনীয়।

আল্লাহর সৃষ্টি আর মানুষের নিরলস যত্ন এই দুইয়ের সমন্বয়েই ব্রুকলিন বোটানিক্যাল গার্ডেন আজ হয়ে উঠেছে এক অপূর্ব নান্দনিক ঠিকানা। যান্ত্রিকতার ভিড়ে ক্লান্ত হয়ে পড়া মানুষের কাছে এই উদ্যান কেবল এক টুকরো জমি নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তির এক পরম আশ্রয়।

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]