বাধ্য হয়ে কসম করার পর ভেঙে ফেললে কাফফারা দিতে হবে?
প্রশ্ন: আমার স্বামী মাঝে মাঝে ঝগড়ার সময় বিভিন্ন অসম্ভব বিষয়ে আমাকে আল্লাহর নামে কসম করতে বাধ্য করেন। এ রকম কসম ভেঙে ফেললে কি গুনাহ হবে বা কাফফারা দিতে হবে?
উত্তর: কারো চাপে পড়ে বা বাধ্য হয়ে কৃত কসম ভেঙে ফেললেও কাফফারা দিতে হয়। তাই আপনার ভেঙে ফেলা কসমগুলোর জন্য কাফফারা দিতে হবে।
কসমের কাফফারা হলো, দশজন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা তৃপ্তি সহকারে খাবার খাওয়ানো অথবা দশজন দরিদ্র ব্যক্তিকে এক জোড়া করে কাপড় দেওয়া। এভাবে কাফফারা আদায় করার সামর্থ্য না থাকলে লাগাতার তিন দিন রোজা রাখা।
আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করেন না অর্থহীন কসমের ব্যাপারে, কিন্তু যে কসম তোমরা দৃঢ়ভাবে কর সে কসমের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করেন। সুতরাং এর কাফফারা হল দশ জন মিসকিনকে খাবার দান করা, মধ্যম ধরনের খাবার, যা তোমরা নিজেদের পরিবারকে খাইয়ে থাক, অথবা তাদের বস্ত্র দান করা, কিংবা একজন দাস-দাসী মুক্ত করা। যে সামর্থ্য রাখে না, তার জন্য তিন দিন রোজা রাখা। (সুরা মায়েদা: ৮৯)
কসমের কাফফারা টাকা দিয়েও আদায় করা যায়। খাবার খাওয়ানো বা পোশাক বিতরণের বদলে এর যে কোনোটির মূল্য অর্থাৎ দশজন মিসকিনকে দুই বেলা মধ্যম মানের খাবার খাওয়ালে যে ব্যয় হতো তা হিসাব করে বা দশ জোড়া পোশাকের মূল্য সদকা করলে কফফারা আদায় হয়ে যায়।
আল্লাহর নামে অনর্থক বা অসম্ভব কাজের কসম করতে বাধ্য হলে হলে পরবর্তীতে ওই কসম ভেঙে ফেলার কারণে আপনি গুনাহগার হবেন না। কিন্তু আপনার স্বামী আল্লাহর নামকে এভাবে অসম্মান করার কারণে গুনাহগার হবেন। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন, এভাবে আল্লাহর নামকে ঝগড়ার সময় মানসিক নির্যাতনের হাতিয়ার বানানো অত্যন্ত গর্হিত কাজ, তিনি যেন এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকেন।
ওএফএফ