জুমার খুতবা

ধ্বংসাত্মক আত্মিক ব্যাধি হিংসা, বাঁচার উপায় কী?

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৫ এএম, ১৫ মে ২০২৬
ধ্বংসাত্মক আত্মিক ব্যাধি হিংসা, বাঁচার উপায় কী? ছবি: ফ্রিপিক

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সরল পথ দেখিয়েছেন। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই, এবং আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল এবং বিশ্বস্তদের আমানতদার। হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের উপর রহমত বর্ষণ করুন।

লোকসকল! নিশ্চয়ই অন্তরের রোগসমূহের মধ্যে হিংসা ও বিদ্বেষ অন্যতম, আর এ দুটি ধ্বংসাত্মক রোগ। কোরআন ও হাদিসে এ দুটির ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। সুতরাং আপনারা আপনাদের অন্তর থেকে ঘৃণা ও বিদ্বেষ বর্জন করুন এবং ভালোবাসা ও হৃদ্যতার সাথে জীবনযাপন করুন।

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের আদেশ করেছেন তারা যেন ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের সাথে বসবাস করে। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই; অতএব তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।’ আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু।’ 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরস্পর হিংসা, বিদ্বেষ, সম্পর্কচ্ছেদ ও একে অপরের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে নিষেধ করেছেন। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর বিদ্বেষ করো না, পরস্পর অহংকার করো না, পরস্পর হিংসা করো না এবং একে অপরের পেছনে শত্রুতা করো না। আর হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও।” নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, ‘মুমিনগণ একটি দেহের মতো; যদি তার চোখে কষ্ট হয় তবে সারা শরীর তা অনুভব করে, আর যদি মাথায় কষ্ট হয় তবে পুরো শরীরই তা অনুভব করে।’ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো, হিংসা নেক আমলগুলোকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেমন আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।’ 

আল্লাহর বান্দারা! নিশ্চয়ই হিংসা ও বিদ্বেষের ক্ষতি অনেক। এটি হৃদ্যতার বন্ধন ছিন্ন করে, ভালোবাসাকে শত্রুতায় রূপান্তরিত করে এবং প্রতিদানহীনভাবে নেক আমলগুলোকে ধ্বংস করে। সুতরাং সেই রহমত ও দয়ার নবীর (সা.) কথা স্মরণ করুন: ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না ইমান আনবে, আর তোমরা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি জিনিসের কথা বলব না যা করলে তোমাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।’ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরকে উপহার দাও, এতে অন্তরের বিদ্বেষ দূর হয়ে যাবে।’

বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। (আল্লাহ তাআলা বলেন:) ‘নাকি তারা মানুষকে সেই কারণে হিংসা করে যা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের দান করেছেন?’

আল্লাহ আমাদের জন্য ও আপনাদের জন্য মহান কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন। কোরআনের আয়াত ও হিকমতপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে আমাদের ও আপনাদের উপকৃত করুন। আল্লাহর কাছে আমার জন্য, আপনাদের জন্য ও সকল মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা তাঁর কাছে ক্ষমা চান, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।