আল্লাহ যাদের সওয়াব দান করবেন

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:০৫ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২২

কৃতজ্ঞ বান্দা আল্লাহর অনেক প্রিয়। তিনি নিজেও কৃতজ্ঞ বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট। মহান আল্লাহ কৃতজ্ঞ বান্দা সম্পর্কে কোরআনুল কারিমের বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন। সাধারণ অন্য কোনো বান্দার জন্য তিনি এমন ঘোষণা দেননি। কী ঘোষণা সেটি?

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিচয় ও মুমিনের করণীয় এবং প্রাপ্তি সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন-
وَ مَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوۡلٌ ۚ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِهِ الرُّسُلُ ؕ اَفَا۠ئِنۡ مَّاتَ اَوۡ قُتِلَ انۡقَلَبۡتُمۡ عَلٰۤی اَعۡقَابِکُمۡ ؕ وَ مَنۡ یَّنۡقَلِبۡ عَلٰی عَقِبَیۡهِ فَلَنۡ یَّضُرَّ اللّٰهَ شَیۡئًا ؕ وَ سَیَجۡزِی اللّٰهُ الشّٰکِرِیۡنَ
‘আর মুহাম্মাদ কেবল একজন রাসুল। তার আগে নিশ্চয়ই অনেক রাসুল গত হয়েছে। যদি সে মারা যায় অথবা তাকে হত্যা করা হয়, তবে তোমরা কি তোমাদের পেছনে ফিরে যাবে? আর যে ব্যক্তি পেছনে ফিরে যায়, সে কখনো আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্লাহ অচিরেই কৃতজ্ঞদের সওয়াব দেবেন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৪)

আয়াতের সার-সংক্ষেপ
আয়াতে এ মর্মে হুশিয়ার করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন না একদিন দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন। তারপরও মুসলিমদের দ্বীনের উপর অটল থাকতে হবে। এতে আরো বুঝা যায় যে, ওহুদের যুদ্ধে সাময়িক বিপর্যয়ের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আহত হওয়া এবং তার মৃত্যুসংবাদ প্রচারিত হওয়ার পেছনে যে রহস্য ছিল, তা হলো তাঁর জীবদ্দশাতেই তার মৃত্যু। পরবর্তীতে সাহাবায়ে কেরামের সম্ভাব্য অবস্থার একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলা। যাতে তাদের মধ্যে কোনো ক্রটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং তা সংশোধন করে দেন। আর পরে সত্য সত্যই যখন তার মৃত্যু হবে, তখন যেন ইসলামে বিশ্বাসীগণ সম্বিত হারিয়ে না ফেলেন। বাস্তবে তাই হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের সময় যখন প্রধান প্রধান সাহাবিগণও শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন, তখন আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু এ আয়াত তেলাওয়াত করেই তাদের সান্তুনা দেন।’ (বুখারি)

ওহুদে পরাজয়ের কারণ
উহুদের যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার কারণসমূহের মধ্যে একটি কারণ এও ছিল যে, কাফেররা রটিয়ে দিয়েছিল যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করে দেওয়া হয়েছে। মুসলিমদের কাছে এ খবর পৌঁছলে, তাঁদের অনেকের মনোবল দমে যায় এবং তাঁরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে এই আয়াত অবতীর্ণ করে বলা হয় যে, কাফেরদের হাতে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হত্যা হওয়া এবং তাঁর উপর মৃত্যু আসা কোনো নতুন কথা নয়। আগের সব নবিকেই নিহত হতে হয়েছে এবং মৃত্যু তাঁদেরকে গ্রাস করেছে। কাজেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও যদি মৃত্যুর হাতে ধরা পড়েন, তাহলে তোমরা কি দ্বীন থেকে বিমুখ হয়ে যাবে?

কিন্তু মনে রেখো! যে দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, সে নিজেরই ক্ষতি করবে, এতে আল্লাহর কোনো কিছু আসবে-যাবে না। তাইতো নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্মান্তিক মৃত্যুর সময় হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু চরম উত্তেজনার শিকার হয়ে তাঁর মৃত্যুকে অস্বীকার করে বসেন। আর হজরত আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বড়ই কৌশল অবলম্বন করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই আয়াত তেলাওয়াত করে শোনান। যার ফলে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রভাবিত হন এবং তাঁর অনুভব হয় যে, যেন এই আয়াত এখনই অবতীর্ণ হলো।

আল্লাহর সওয়াব দান
সংক্ষিপ্ত কথা হলো- যারা চরম বিপদে কিংবা সংকটকালীন মুহূর্তে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়ে দৃঢ়পদ থেকে আল্লাহর অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে মহান আল্লাহ তাদের দান করে এর যথাযথ সওয়াব বা প্রতিদান।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআনুল কারিমের এ আয়াত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দ্বীনের ওপর একনিষ্ঠ থাকার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার মাধ্যমে সওয়াব ও প্রতিদান পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।