খুলুকে আজিমের অধিকারী যিনি

ফারুক ফেরদৌস
ফারুক ফেরদৌস ফারুক ফেরদৌস , সহ-সম্পাদক, জাগো নিউজ
প্রকাশিত: ০৯:৪৭ এএম, ২৯ মে ২০২৪

সুরা কলম কোরআনের ৬৮তম সুরা, এর আয়াত সংখ্যা ৫২ এবং রুকু সংখ্যা ২। সুরা কলম মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে আব্বাসের (রা.) মতে নাজিল হওয়ার দিক থেকে এটি দ্বিতীয় সুরা, সুরা আলাকের পরই সুরাটি নাজিল হয়। সুরাটির বিষয়বস্তু থেকেও বোঝা যায় যে, এ সুরাটি যে সময় নাযিল হয়েছিলো তখন মক্কা নগরীতে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) বিরোধিতা বেশ তীব্র হয়ে উঠেছিলো। তাকে বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হচ্ছিলো।

সুরা কলমের আলোচ্যবিষয় নবিজির (সা.) নবুয়ত, তার উন্নত চরিত্র, মক্কার কিছু কাফেরদের মন্দ চরিত্র, রাসুলের (সা.) প্রতি অপবাদ, আখেরাতে মুমিন ও কাফেরদের পরিণতি ইত্যাদি।

সুরা কলমের ১-৭ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
(১)
نْ وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ

নূন ওয়াল কালামি ওয়ামা ইয়াসতুরূন।
নূন; শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে,

(২)
مَا أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونٍ
মা আনতা বিনি‘মাতি রাব্বিকা বিমাজনূন।
তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি পাগল নও।

(৩)
وَإِنَّ لَكَ لَأَجْراً غَيْرَ مَمْنُونٍ

ওয়া ইন্না লাকা লাআজরান গাইরা মামনূন।
আর নিশ্চয় তোমার জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।

(৪)
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ
ওয়া ইন্নাকা লা‘আলা খুলুকিন আজীম।
নিশ্চয়ই তুমি সুমহান চরিত্রের অধিকারী

(৫)
فَسَتُبْصِرُ وَيُبْصِرُونَ
ফাসাতুবসিরু ওয়া ইউবসিরূন।
শীঘ্রই তুমি দেখতে পাবে এবং তারাও দেখতে পাবে

(৬)
بِأَيِّكُمُ الْمَفْتُونُ
বিআইয়িকুমুল মাফতূন।
তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত।

(৭)
إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
ইন্না রাব্বাকা হুওয়া আ‘লামু বিমান দাল্লা আন সাবীলিহী ওয়া হুওয়া আ‘লামু বিলমুহতাদীন।
আপনার রব সম্যক জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি জানেন যারা হেদায়াতপ্রাপ্ত।

এ আয়াতগুলো থেকে যে শিক্ষা ও নির্দেশনা আমরা পাই:

১. আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতাআলা তার সৃষ্টিকুলের যে কোনো কিছুর শপথ করতে পারেন। তবে বান্দাদের ওপর শুধু আল্লাহর নামে শপথ করা আবশ্যক, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর শপথ করা নাজায়েজ।

২. আয়াতে আল্লাহ কলমের শপথ করেছেন। এ থেকে বোঝা যায় কলমের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কলম দিয়ে আল্লাহর বাণী ও বিভিন্ন কল্যাণকর বিষয় লিখিত হয়। কলমের সাহায্যে মানুষের জ্ঞান লিখিত ও সংরক্ষিত হয়।

৩. আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির সূচনাতেই সব কিছুর ভাগ্য ও পরিণতি নির্ধারণ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

أنَّ الأُمَّةَ لَوْ اجْتَمَعَتْ عَلَى أنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إلاَّ بِشَيءٍ قَدْ كَتَبهُ اللهُ لَكَ وَإِن اجتَمَعُوا عَلَى أنْ يَضُرُّوكَ بِشَيءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إلاَّ بِشَيءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيْكَ رُفِعَتِ الأَقْلاَمُ وَجَفَّتِ الصُّحفُ

যদি সব মানুষ তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। তারা যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ভাগ্যলিপি শুকিয়ে গেছে। (সুনানে তিরমিজি: ২৫১৬)

৪. আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সবচেয়ে উন্নত সংস্কৃতি ও চরিত্রের অধিকারী মানুষ। আল্লাহ তাকে এ ব্যাপারে পৃথিবীবাসীর জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয় বানিয়েছেন।

ওএফএফ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।