কুরআনের ঘোষণায় যা খাওয়া হারাম


প্রকাশিত: ০৬:৪২ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৬

আল্লাহ তাআলা কুরআনের অসংখ্য জায়গায় অনেক জিনিসই মানুষের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ করেছেন। কিন্তু মুশরিকরা হালাল জানোয়ারকে নিজেদের জন্য হারাম করে নিত। তাই মহান আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের কর্মকাণ্ডের জবাবে আয়াত নাজিল করে জানান একান্ত অনন্যোপায় হওয়া ছাড়া আল্লাহ তাআলা কর্তৃক হারাম করা জানোয়ার খাওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলার নামে ছাড়া অন্য কারো নামে জহেবকৃত জানোয়ারের ব্যাপারেও বিধি-নিষেধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন-

Quran

‘আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি (পানাহারের) যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাহলো এই যে, মৃতজীব ভক্ষণ করো না; রক্ত ও শূকরের গোশত থেকে দূরে থাকো। আর এমন কোনো জিনিস খেয়ো না যার ওপর (জবেহের সময়) আল্লাহর ছাড়া আর কারোর নাম নেয়া হয়েছে। তবে যে ব্যক্তি অক্ষমতার মধ্যে অবস্থান করে এবং এ অক্ষমাবস্থায় আইন ভংগ করার কোনো ইচ্ছা ছাড়াই বা অনন্যোপায় হয়ে, প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম না করে এর মধ্য থেকে কোনোটা খায়; সে জন্য তার কোনো গোনাহ হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল করুনাময়।’ (সুরা বাক্বারা : আয়াত ১৭৩)

পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে হালাল খাদ্য গ্রহণে শুকরিয়া আদায়ের নির্দেশ দিয়ে বলেন যে, যদি তোমরা শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার বিধানের অনুসারী হও তবে, জাহেলি যুগের ন্যায় ধর্মীয় পণ্ডিত, পুরোহিত, পাদরি, যাজক, যোগী, সন্যাসী এবং পূর্ব-পুরুষেরা যে সব অবাঞ্চিত আচার-আচরণ ও বিধি-নিষেধের বেড়াজাল সৃষ্টি করে সেগুলোকে ছিন্ন করে দাও। আল্লাহ যা কিছু হারাম করেছেন তা থেকে অবশ্যই দূরে থাক। কিন্তু যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা হালাল করেছেন তা কোনো প্রকার ঘৃণা ও সংকোচ ছাড়াই সেগুলো পাহানার কর।

উল্লেখিত আয়াতে চার শ্রেণীর প্রাণীকে হারাম করা হয়েছে। এ ছাড়াও আরো অনেক প্রাণীই খাওয়া হারাম। কিন্তু এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তোমরা যেগুলো হারাম ঘোষণা করে থাকো সেগুলো হারাম নয় বরং ইসলামি শরিয়তে প্রাণীকুলের মধ্যে যা হারাম তা তুলে ধরে মুশরিকদের মনগড়া ভ্রান্ত বিশ্বাসের খণ্ডন করা হয়েছে।

আয়াতে মৃতপ্রাণীকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে; তবে হাদিসে দুটি মৃতপ্রাণীকে বাদ দেয়া হয়েছে আর তা হলো ‘মাছ ও পঙ্গপাল’। হালাল পশু যথা নিয়মে জবেহ ছাড়া মারা গেলে বা জবাই করলে তা পানাহারে নিষদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া যে কোনো প্রাণীর রক্ত খাওয়াও হারাম।

আর শূকরের গোশত খাওয়া হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। তা জীবিত হোক কিংবা মৃত হোক। কারণ শূকর নিকৃষ্ট জানোয়ার; তা যথাযথ নিয়মে জবাই করা হলেও আল্লাহ তাআলার বিধানে তা খাওয়া হারাম। শূকরের গোশতই হারাম নয় বরং তার অস্থি, চর্বিসহ সবকিছুই খাওয়া হারাম।

ইসলামি শরিয়তে ঐ সকল হালাল প্রাণীকেও হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, যেগুলো আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জহেব করা হয়। আল্লাহ তাআলা ব্যতিত অন্য কারো নামে নজরানা হিসিবে যে খাদ্য তৈরি করা হয় এ বিধান সেসব খাদ্য দ্রব্যের ওপর আরোপিত হয়।

আয়াতে শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘চরম প্রয়োজনের মুহূর্তে উল্লেখিত হারাম বস্তুগুলোও ন্যূনতম পরিমাণে আহার করা করা যায়। কেননা আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং দয়ালূ। আরাম হারাম জিনিস পানাহারে যে চরম প্রয়োজন দেখা দিতে পারে তাহলো-

১. ক্ষুধার তাড়নায় জীবনের শেষ নিঃশ্বাস বের হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হওয়া; ঐ সময় হালাল খাবার কোনো উপায়ে সংগ্রহ করতে না পারা;
২. সীমাহীন দারিদ্র্যের কারণে হালাল খাদ্য সংগ্রহের সামর্থ্য না থাকলে;
৩. কোনো রোগ-ব্যাধির কারণে বিদ্যমান হালাল খাবার আহারের অযোগ্য হলে;
৪. কোনো শাসক বা সবল প্রতিপক্ষ হারাম খাদ্য গ্রহণে বাধ্য করলে; যা থেকে বেঁচে থাকার কোনো উপায় থাকে না সে মুহূর্তে উল্লেখিত হারাম খাদ্য ভক্ষণ করা যাবে।

পরিষেশে...
দুনিয়ার সকল প্রাণী, শস্য, ফলমূল বা অন্য যে কোনো খাদ্য-দ্রব্যের মালিক হলেন আল্লাহ তাআলা। তিনিই ঐ হালাল জিনিসগুলো তাঁর বান্দর জন্য অনুগ্রহ করে দান করেছেন। সুতরাং তাঁর এ অনুগ্রহের স্বীকৃতি, সাদকাহ বা নজরানা হিসেবে একমাত্র তারই নামে উৎসর্গ করা যেতে পারে। আর কারো নামে নয়।

আল্লাহ ব্যতিত আর কারো নামে নজরানা পেশ করার অর্থ হলো আল্লাহ তাআলার পরিবর্তে অথবা আল্লাহর সাথে সাথে তারও প্রাধান্য স্বীকার করে নেয়া। তাকেও অনুগ্রহ ও নিয়ামত প্রদানকারী বলে মনে করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হারামকৃত জিনিস থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। মৃতজীব ভক্ষণ, শূকরের মাংস, রক্ত এবং আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নামে জবাইকৃত হালাল জিনিস গ্রহণ করাও হারাম বিধায় এ সকল বস্তুগুলো বর্জন করে ইসলামি শরিয়তের বিধান বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।