শ্রেষ্ঠ মোজেজা মিরাজ, সেরা উপহার নামাজ


প্রকাশিত: ০৬:৪৭ এএম, ১৩ মে ২০১৫

হিজরী নবম বর্ষ।  রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠ মোজেজার বছর। হিজরতের পূর্বের বছর। যে  বছর তিনি আপনজনদের হারিয়েছেন। নবম হিজরির সপ্তম মাস আশহুরে হুরুমের মাসের একটি। রজব মাস। অনেক উত্তম ফজিলতপূর্ণ মাস। এ মাসেরই কোনো এক রাত মতান্তরে ২৬ রজব রাত সমগ্র পৃথিবীতে লাইলাতুল মিরাজ নামে পরিচিত। মিরাজ সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআন মাজীদের সূরা বনি ইসরাইলের প্রথম আয়াতে এরশাদ করেন-

সুবহা-নাল্লাজি---আসরা-বিআ’বদিহি-লাইলামমিনাল মাসজিদিল হারা-মি ইলাল মাসজিদিল আক্বসাল্লাজি বা-রাকনা- হাওলাহু- লিনুরিয়াহু- মিন আ-য়া-তিনা-। ইন্নাহু- হুয়াস সামি-য়ূ’ল বাছি-রু। (সূরা বনি ইসরাইল আয়াত-০১)

বাংলায় অনুবাদ : পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা (আল্লাহ) তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে (হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাত্রি বেলা ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম (মক্কা মুকাররামাহ) থেকে মসজিদে আকসা (বাইতুল মুকাদ্দাস) পর্যন্ত, যার চার দিকে আমি (আল্লাহ) পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি, যাতে আমি তাঁকে (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কেন পবিত্র মিরাজের মত এত বড় একটি ঘটনা ঘটালেন? এর পেছনে তাঁর কি রহস্য? এর গুরুত্ব কি? এর দ্বারা আমরা কি পেলাম? এ বিষয়গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কিছু কথা ধারাবাহিকভাবে আলোকপাত করা হল-

তাঁর কুদরাতের প্রথম নিদর্শন :
মাসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত যেতে তখন এক মাসের বেশি সময় প্রয়োজন হত। কিন্তু আল্লাহ তাঁর বন্ধুকে মাসাধিক কালের পথ মূহর্তের মধ্যে অতিক্রম করিয়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থানরত সকল অবিশ্বাসীকে তাঁর কুদরাতের প্রথম প্রমাণ দেখালেন।

আল্লাহ বলেন, আমি এই মসজিদের চতুষ্পার্শ্বে ফুল-ফল, ক্ষেত-খামার, বাগ-বাগিচা ইত্যাদি দ্বারা বরকতময় করে রেখেছি। আমার এই মর্যাদা সম্পন্ন নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার বড় বড় নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করাই ছিল আমার উদ্দেশ্য, যেগুলি তিনি ঐ রাতে দর্শন করেছিলেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)

যা পরবর্তীতে মিরাজ থেকে ফিরে আসার পর পবিত্র মক্কায় অবস্থানরত সকল কাফির-মুশরিকদের প্রশ্নের উত্তরে মসজিদে আকসাসহ চতুর্পাশ্বের সব নিদর্শন বর্ণনা করেছিলেন।

আল্লাহ তাআলা তার মুমিন, কাফির, মুশরিক, বিশ্বাসকারী, অস্বীকারকারী সকল বান্দার কথা শুনেন এবং দেখেন। প্রত্যেককে তিনি তার আমল বা কাজ অনুযায়ী ওটাই দেন, যার সে হকদার, দুনিয়াতেও আখিরাতেও।

যেতে যেতে পথে পথে আল্লাহর নিদর্শন দর্শন :
অন্য এক রিওয়াতে এসেছে রাসূলে নববী বলেন, বোরাকে ভ্রমণের সময় জিবরাইল আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক জায়গায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাজ পড়তে বলেন, নামাজের পর জিজ্ঞাসা করেন এ জায়গা আপনি চিনেন? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন না, জিবরাইল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন ‘এটা তায়্যেবা অর্থাৎ মদিনা, এটাই হচ্ছে হিজরতের জায়গা।
তারপর আরেক জায়গায় নামাজ পড়ান এবং বলেন এটা হচ্ছে তুরে সাইনা অর্থাৎ এখানেই আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কথা বলেন।

অতপর আরেক স্থানে নামাজ পড়ান এবং বলেন এটা হচ্ছে বায়তে লাহাম অর্থাৎ এখানেই হযরত ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেন। তারপর পর রাসূল বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌছেন। যেখানে সকল নবী ও রাসূলগণ একত্রিত হন। কেননা এই বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে সকল নবী ও রাসূলদের প্রাণ কেন্দ্র।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল নবী ও রাসুলদের নেতা :
আল্লাহ তাআলা তাঁকে সকল নবী ও রাসূলদের ইমাম বা নেতার বাস্তব স্বীকৃতি দিলেন পবিত্র ভূমি মুসলমানদের প্রথম কেবলা বাইতুল মুকাদ্দাসের মসজিদে আকসায় সকল নবী ও রাসূলদের মুক্তাদি বানিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাযের ইমাম বানিয়ে নামায সম্পন্নের মাধ্যমেই ইমামুল মুরসালিন ওয়ান নাবিয়্যিন মনোনীত করেছেন।

নামাযের পর পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরিবেশন করা হলো  পানি বা সরাব, দুধ ও মধু। তিনি দুধ গ্রহণ করলেন। হযরত জিবরাইল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আপনি ফিতরাতের সহস্য পেয়ে গেছেন। যদি আপনি পানির পাত্র নিয়ে পান করতেন তবে আপনার উম্মত ডুবে যেত। পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

উর্ধ্বলোকে রাসুল :
১. রাসূলে আরব ওয়াল আজম বলেন, যখন আমি জিবরাইল আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে দুনিয়ার আকাশে আরোহন করলাম, তখন দেখলাম যে একটি লোক বসে আছেন, তার ডান এবং বাম পাশে বড় বড় দল রয়েছে। তিনি ডান দিকে তাকিয়ে হেসে উঠেছেন, আবার বাম দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলেছেন। আমি জিবরাইল আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, উনি কে? তার ডানে বামে ওরা কারা? উত্তরে জিবরাইল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, উনি হচ্ছেন, আদিপিতা হযরত আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর ডানে তার বেহেশতি সন্তান যাদের দেখে তিনি হেসেছিলেন। আর বামে হচ্ছে জাহান্নামী সন্তান যাদের দেখে তিনি কেঁদে ফেলেছেন। (বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)

দুনিয়ার আকাশে কী দেখলেন :
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, দুনিয়ার প্রথম আকাশে কিছু নির্দশন দেখতে পাই তা হল-

ক. দুনিয়ার আকাশে কিছু যাওয়ামাত্র দুইটি খাঞ্চা রাখা আছে, তার একটিতে তাজা গোশত, অপরটিতে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত গোশত। লোকজন তাজা গোশত না খেলে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত গোশত বক্ষণ করছে, জানা গেল এরাই হচ্ছে দুনিয়াতে যারা হালালকে ছেড়ে হারামের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
খ. কিছু লোকের ঠোট উটের মত। ফেরেশতারা তাদের মুখ ফেড়ে ঐ গোশত তাদের মুখের মধ্যে ভরে দিচ্ছেন যা তাদের অন্যপথ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে আর তারা ভীষণ চিৎকার করছে এবং আল্লাহর কাছে মিনতি করছে। জানা গেল এরাই হচ্ছে দুনিয়াতে যারা ইয়াতিমের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করেছিল।
গ. কিছুদুর গিয়ে দেখা গেল-কতগুলি স্ত্রীলোক বুকের ভারে লটকানো রয়েছে এবং তারা হায়! হায়! করছে। জানা গেল এরা হচ্ছে ঐ সব স্ত্রীলোক যারা দুনিয়াতে ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল।
ঘ. কিছুদুর যাওয়ার দেখা গেল, কতগুলোর লোকের পেট বড় বড় ঘরের মত। তারা উঠে দাঁড়াতে চাইলেই পড়ে যাচ্ছে আর আল্লাহ তা’আলার সামনে হা-হুতাশ করছে। জানা গেলে তারা হচ্ছে দুনিয়ার সুদ খোর।
ঙ. কিছুদুর গিয়ে দেখা গেল- ফেরেশতারা কিছু লোকের পার্শ্বদেশ থেকে গোশত কেটে তাদের নিজেদের খাওয়াচ্ছে আর বলতেছেন, তোমরা দুনিয়াতে যেভাবে নিজের ভাইয়ের গোশত খেতে এখনেও এভাবে খাও। জানা গেল- তারা হল ঐ সব লোক যারা দুনিয়াতে অপরের দোষ অন্বেষণ করে বেড়াত।

২. অতঃপর আমরা দ্বিতীয় আকাশে আরোহন করলাম। সেখানে আমরা এক সুদর্শন যুবক হযরত ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে পেলাম। তাঁর সাথে তাঁর কাওমের কিছু লোক রয়েছে।

৩. তারপর আমরা তৃতীয় আকাশে আরোহন করলাম। সেখানে হযরত ইয়াহইয়া, হযরত জাকারিয়া আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাদের কাওমের কিছু লোককে দেখতে পেলাম।

৪. তারপর চতুর্থ আকাশে উঠলাম। সেখানে ইদরীস আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম।

৫. অতঃপর আমরা পঞ্চম আকাশে আরোহন করলাম। সেখানে আমরা হযরত হারুন ইবনু ইমরান আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাত করলাম সেখানে তার কাওমের লোকও ছিল।

৬. তারপর আমরা আরোহন করলাম ষষ্ঠ আকাশে। যেখানে ছিল হযরত মূসা ইবনু ইমরান আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার সাথে তার কাওমের কিছু লোকও ছিল।

৭. সপ্তম আকাশে আমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম খলিল আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে পেলাম। তিনি স্বীয় পৃষ্ঠ বায়তুল মা’মুরে লাগিয়ে দিয়ে বসে রয়েছেন। সেখানে আমি আমার উম্মতকে দুভাগে দেখতে পেলাম।
ক. অর্ধেকের কাপড় ছিল বকের মত সাদা;
খ. আর বাকী অর্ধেকের কাপড় ছিল কালো;
সাদা পোশাকের লোকগুলো আমার সাথে বায়তুল মুকাদ্দাসে যেতে দিলেন, আর কালো পোশাকের লোকগুলো আমার সাথে যেতে দেয়া হল না। আমরা সবাই সেখানে নামাজ আদায় করে বেরিয়ে আসলাম।
এই বায়তুল মা’মুরে প্রতিদিন সত্তর হাজার নুরের ফেরেশতা নামায পড়েন, কিন্তু যারা একদিন নামায পড়েছেন তাদের পালা কিয়ামত পর্যন্ত আর আসবে না।

সিদরাতুল মুনতাহা ও দর্শনীয় বিষয় সমূহ
সিদরাতুল মুনতাহায় যাওয়ার পর দেখলাম তার একেকটি পাতা এত বড়- যে, যার একটি পাতা দিয়েই আমার সকল উম্মতকে ঢেকে ফেলবে। তাতে একটি নহর প্রবাহিত ছিল যার নাম সালসাবীল। এর থেকে দুটি প্রসবন বের হয়েছে। যার একটি হল নহরে কাউসার আর অপরটি হল নহরে রহমত। আমি তাতে গোসল করলাম। আমার পূর্বাপর সমস্ত পাপমোচন হয়ে গেল।

জান্নাত দর্শন :
অতঃপর আমাকে জান্নাতের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হল- সেখানে আমি দেখতে পেলাম
ক. হুর দেখলাম, তাকে জিজ্ঞাস করলাম তুমি কার? উত্তরে সে বলল আমি হযরত যায়েদ ইবনু হারেসার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
খ. সেখানে নষ্ট না হওয়া পানি;
গ. স্বাদ পরিবর্তন না হওয়া মধু;
ঘ. নেশাহীন সুস্বাদু মদ;
ঙ. পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মধুর নহর দেখলাম;
চ. ডালিম ফল দেখলাম বড় বড় বালতির ন্যায়;
ছ. পাখি ছিল তোমাদের এই তক্তা ও কাঠের ফালির ন্যায়।
নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৎ বান্দাদের জন্য ঐ সব নেয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছেন যা কোনো চক্ষু দর্শন করে নাই; কোনো কর্ণ শ্রবন করে নাই; এমন কোনো অন্তরে কল্পনাও জাগে নাই।

জাহান্নাম দর্শন :
অতপর আমার সামনে জাহান্নাম পেশ করা হল- যেখানে ছিল আল্লাহ তা’আলার ক্রোধ, তার শাস্তি এবং তার অসন্তুষ্টি। যদি তাতে পাথর ও লোহা নিক্ষেপ করা হয় তবে ওগুলিকেও খেয়ে ফেলবে। এর পর আমার সামনে থেকে ওটা বন্ধ করে দেয়া হল। আবার আমামে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হল। এবং আমাকে ঢেকে ফেলা হল।

সেথায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভ :
সিদরাতুল মুনতাহা থেকে উর্দ্ধ জগতে যতটুকু আল্লাহ চেয়েছেন ততটুকু পর্যন্ত। যেমন আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন :
অতঃপর তিনি নিকটে এসেছেন এবং অতীব নিকটবর্তী হয়েছেন। এমনকি দুই ধনুকের মত নিকটবর্তী হয়েছেন, এমনকি আরও অধিকতর নিকটবর্তী হয়েছেন। (সূরা নজম : আয়াত ৮ ও ৯)।

অতপর প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হন। যেমনটি কুরআনুল কারীমে এসেছে-
তিনি যা দেখেছেন অন্তর তাকে অস্বীকার করেনি। (সূরা নজম : আয়াত ১১)।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন- তাঁর দৃষ্টি বক্র হয়নি এবং লক্ষচ্যুত হয়নি। (সূরা নজম : আয়াত ১৭)।

আত্তাহিয়াতুর মাধ্যমে আল্লাহর সাথে ভাব বিনিময় :
আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি, ওয়াস সালাওয়াতু, ওয়াত-তাইয়্যিবাতু, আস সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু, ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আস সালামু আলাইনি, ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল লাইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ : আমাদের সকল সালাম শ্রদ্ধা, আমাদের সব নামাজ এবং সকল প্রকার পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে। হে নবী, আপনার প্রতি সালাম, আপনার উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া (ইবাদতের উপযুক্ত) আর কোনো মাবুদ নাই, আমি আরো সাক্ষী দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

শ্রেষ্ঠ পুরস্কার নামাজ
অতপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার ওপর ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হল। আর আমাকে বলা হল : তোমার প্রত্যেক ভাল কাজের জন্য দশটি করে পূণ্য (নেকী) রইল। যখন তুমি কোনো ভাল কাজ করার ইচ্ছা করবে, অথচ তা পালন করবে না, তথাপিও একটি পূণ্য লেখা হবে। যদি ভাল কাজটি করে ফেল তবে দশটি পূণ্য লেখা হবে। পক্ষান্তরে যদি কোনো খারাপ কাজ করার ইচ্ছা করো এবং বাস্তবে না করো তবে একটি পাপও লেখা হবে না। যদি খারাপ করে বসো তবে শুধুমাত্র একটি পাপ লেখা হবে। তারপর দুনিয়াতে ফেরার পথে পথিমধ্যে হযরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ। অতপর কয়েক ধাপে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ থেকে মাত্র পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত হল এবং যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তআলা তার আমলনামায় পঞ্চাশ ওয়াক্ত রাকায়াত নামাজের পূণ্য লিখে দিবেন।

নামাজ মুমিনের মেরাজ
আর এই নামাজের দ্বারাই আমরা আল্লাহর সাথে দিদার করে থাকি। তাইতো নামাজ সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে

আসসালাতু মিরাজুল মুমিনিন। অর্থাৎ নামাজ হচ্ছে আল্লাহর সাথে মুমিন মুসলমানের আত্মার বন্ধন বা দিদার লাভ। এই জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

`যে ব্যক্তি ইচ্ছকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিল, সে যেন কুফরী করল।`

পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিরাজ শেষে পরবর্তী সকালে যখন মিরাজের ঘটনা বর্ণনা করলেন, তখন সর্বপ্রথম লোকমুখে শুনে বিনা দ্বিধায় হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বিশ্বাস করেই ছিদ্দিকে আকবর উপাধিতে ভূষিত হন।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে রূহ ও শরীর নিয়ে জাগ্রত অবস্থায় মিরাজ গমন করেছেন তা সত্য ও প্রমাণিত। যা কুরআন সাক্ষ্য দেয়। এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করাও ঈমানের বিষয়। সুতরাং আমাদের এই মিরাজের শিক্ষা এবং প্রাপ্তি একজন বনি আদম মুসলমানকে আল্লাহর দিদার লাভে ধন্য করতে পারে। যদি আমাদের মাঝে মিরাজের বিশ্বাস এবং মিরাজের শ্রেষ্ঠ উপহার নামাজ যদি আমরা আল্লাহর ভয় এবং মহব্বতের সাথে আদায় করতে পারি। আমরা হবো ইহকাল এবং পরকাল তথা উভয় জগতের কামিয়াবী।

আমরা যেন আল্লাহর বিধানে প্রদত্ত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত পথ ও মতের উপর অটল অবিচল থেকে জান্নাতের আশায় জাহান্নামের কঠিন ভয়ে যেন ইসলামের পরিপূর্ণ হক আদায় করে উত্তম নামাযী বান্দাহ হিসেবে আল্লাহ পাকের দরবারে মঞ্জিলে মাকসুদে পৌঁছতে পারি। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন।  আমীন। ছুম্মা আমীন।

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজীম ওয়া বিহামদিহি আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।

তথ্যসূত্র : তাফসিরে ইবনে কাসীর।

জাগো নিউজ ২৪ ডটকমের সঙ্গে থাকুন। সুন্দর সুন্দর ইসলামী আলোচনা পড়ুন। কুরআন-হাদীস মোতাবেক আমলী জিন্দেগী যাপন করুন।

এইচএন/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।