জিকির ও দরূদ থেকে বিরত থাকার ক্ষতি

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৮

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের জিকিরের নসিহত, নির্দেশ ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিকিরের অনেক ফজিলত ও উপকারিতা বর্ণনা করে জিকির করার নসিহত পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমার জিহ্বা যেন সর্বক্ষণ আল্লাহর জিকিরে সিক্ত (রত) থাকে।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

কেউ যদি কোনো বৈঠকে বা যে কোনো কাজে আল্লাহর জিকির থেকে বিরত থাকে; তবে সে কাজে বান্দার জন্য কোনো উপকার থাকে না। এ প্রসঙ্গে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতে মুহাম্মাদিকে সতর্ক করেছেন।

>>রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো স্থানে বসে আল্লাহর জিকির করে না, তার সেই বসা আল্লাহর কাছ থেকে হতাশা ডেকে আনে। আর যে ব্যক্তি কোনো শয্যায় শায়িত হয়ে আল্লাহর জিকির করে না, তার সেই শয়নও আল্লাহর কাছে নৈরাশ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অর্থাৎ জিকিরবিহীন ব্যক্তি উদাসিনতাই হতাশার মূল কারণ। (আবু দাউদ, সহিহ আল জামে)

>>রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, ‘যদি কোনো দল কোনো বৈঠকে বসে আল্লাহর জিকির না করে এবং তাদের নবির ওপর দরূদও পাঠ না করে, তাহলে তাদের সেই বৈঠক তাদের জন্য হতাশার কারণ। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের শাস্তি দেবেন নতুবা ক্ষমা করবেন।’ (তিরমিজি)

উল্লেখিত হাদিস থেকে বুঝা যায়, যে সব লোক কোনো মজলিসে বা বৈঠকে একত্রিত হয়ে আল্লাহর জিকির ও প্রিয়নবির প্রতি দরূদ পাঠ ব্যতিত ওঠে আসে, তা তাদের জন্য হতাশার কারণ। আর জিকির ও দরূদ পাঠ না করার জন্য যা হতাশার তা সত্যিকারার্থে মানুষের জন্য অমঙ্গলজনক কাজ।

পরিশেষে…
জিকির ও দরূদবিহীন মজলিস সম্পর্কে মুসনাদে আহমদ ও আবু দাউদ গ্রন্থ প্রিয়নবি বলেন, ‘যে সব লোক এমন কোনো বৈঠকে অংশগ্রহণের পর ওঠে আসে, যেখানে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয় না; তারা যেন মৃত গাধার লাশের স্তুপ থেকে ওঠে আসে। এরূপ মজলিস তাদের জন্য (আসলেই) আফসোসের কারণ।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কল্যাণ লাভে হতাশা ও আফসোসের যাবতীয় কারণ থেকে মুক্ত থাকতে তার জিকির ও প্রিয়নবির প্রতি দরূদ পাঠ করার তাওফিক দান করুন। জিকির ও দরূদের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও প্রিয়নবির শাফায়াত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/আরআইপি