ইবাদাতের মর্মকথা


প্রকাশিত: ০৯:০৬ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

মানুষের জন্ম ও জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আল্লাহ তাআলার ইবাদাত-বন্দেগি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই ইবাদাত কি তা বুঝতে হবে। নতুবা মানুষ তার সৃষ্টির উদ্দেশ্য হৃদয়ঙ্গম করতে ব্যর্থ হবে। ইবাদাতের মর্মকথা জাগো নিউজে তুলে ধরা হলো-

আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন-

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ অর্থাৎ আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমারই ইবাদত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি। (সূরা যারিয়াত : আয়াত ৫৬)

এ আয়াত থেকেই বুঝা যায়, মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য কি? আর ইবাদাতই বা কি? যখন কোনো মানুষ ইবাদাত করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে সৃষ্টির উদ্দেশ্যই ব্যর্থ। ইবাদাত আরবি আবদ শব্দ থেকেই এসেছে। যার অর্থ দাস বা গোলাম। সুতরাং ইবাদাত মানে হচ্ছে বন্দেগি বা গোলামী করা।

ইবাদাতের ভুল ধারনা-
মিথ্যা কথা বলা, সুদ-ঘুষ খাওয়া এবং দেয়া, বেহায়াপনা-চোগলখুরি, হিংসা-বিদ্বেষ, মুনাফিকী করা তথা লোক দেখানো ইবাদাত পরিহার না করেই নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো ইবাদাত বন্দেগি করা, পাশাপাশি ঘরে বা মসজিদে বসে জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল যথাযথ আদায় করার নাম ইবাদাত নয়।
আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ‌নিশ্চয় নামাজা অশ্লীল-ফাহেশা তথা খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে এবং মিথ্যা কথা বলে, জাকাত দেয় আবার সুদ খায়, হজ করে আবার বেহায়াপনায় লিপ্ত হয়, রোজা রাখে আবার ঘুষ খায়। এ ব্যক্তির নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত ইবাদাত নয় বরং আল্লাহ সঙ্গে সর্বোচ্চ সীমালংঘনকারীর ন্যায় তামাশা করার শামিল। যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

তাহলে ইবাদত কি?
তিনটি প্রক্রিয়া সম্পাদনের মাধ্যমেই সম্ভব প্রকৃত ইবাদাত তথা মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্য হাসিল করা-
০১. আল্লাহ তাআলাকে রব মেনে তাঁর দাসত্ব স্বীকার করা
০২. আল্লাহর নির্দেশ মেনে তাঁর আনুগত্য স্বীকার করা
০৩. আল্লাহ তাআলা সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষা করা
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাকে প্রভূ বলে স্বীকার করা অন্য কাউকে নয়, আল্লাহ হুকুম-আহকাম তথা হালালকে হালাল আর হারামকে হারাম বলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেনে নেয়া এবং শুধুমাত্র আল্লাহর সম্মান ও সম্ভ্রমের প্রতি লক্ষ্য রেখে শুধুমাত্র তাঁর সামনে মাথা নত করা বা সিজদা করা। উপরোল্লিখিত পদ্ধতিতে জীবন চলার পথে যে কাজই করা হবে তা হবে বান্দার ইবাদাত। হোক তা সাংসারিক, ব্যবসায়ীক তথা কল-কারখানায় চাকরির কাজ।

পরিশেষে....
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যাবতীয় কাজ-কর্মে আল্লাহর হুকুম আহকাম মেনে চলাই হবে ইবাদাত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে এ কথাটিই বলেছেন। হে আল্লাহ! আপনাকে রব বা প্রভূ বলে স্বীকার করে, আপনার হুকুম-আহকাম মেনে, শুধুমাত্র আপনার সম্মানে সিজদায় মাথা নত করার তাওফিক কামনা করি। আপনি আমাদের প্রতিটি কাজ-কর্মকে আপনার জন্য কবুল করুন। আমিন।

জাগো ইসলামে লেখা পাঠাতে ই-মেইল : jagoislam247@gmail.com

জাগোনিউজ২৪.কমের সঙ্গে থাকুন। কুরআন-হাদিস মোতাবেক আমলি জিন্দেগি যাপন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন।

# খাঁটি মুসলমানের পরিচয়
# জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া

এমএমএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :