হজ-ওমরাহ ও মক্কা-মদিনা নিয়ে কটূক্তিকারী পীরের ফাঁসির দাবি

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৬ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০

মুসলিমদের হৃদয়ের স্পন্দন পবিত্র মক্কা-মদিনা এবং ইসলামের অন্যতম ইবাদত হজ ও ওমরাহ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছে ভৈরবের আঞ্জুমানে গুলে মদিনা দরবারের কথিত পীর আবুল বাসার আল-কাদরী। তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি দেয়ার দাবি জোরাল হচ্ছে।

হজ ও ওমরাহ এবং মক্কা ও মদিনা নিয়ে বিতর্কিত ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদানকারী আবুল বাশার আল-কাদরি ভৈরবের আঞ্জুমানে গুলে মদিনা দরবার শরিফের কথিত পীরের এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। আর এতে ফুঁসে উঠছে কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের ইমাম ও আলেম-ওলামা পরিষদ।

কথিত পরী আবুল বাশার আল-কাদরিকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলার ইমাম ওলামা-পরিষদের উদ্যোগে ও আল-জামিয়াতুল এমদাদিয়ার সিনিয়র উস্তাদদের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদ চত্বরে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে কিশোরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলার ইমাম-ওলামা, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও সর্বস্তরের তাওহিদি জনতা অংশ নেন।

সম্প্রতি কথিত পীর আবুল বাশারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। নুরে মদিনা দরবারের পীর ওই ভিডিওতে পবিত্র হজ ও ইসলামি অনুশাসনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনগড়া, মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করে হবিগঞ্জের এক মাহফিলে বক্তব্য দেন।

সে মাহফিলের বক্তব্যে সে নিজেকে অনেক বড় পীর দাবি করে এবং সারা বাংলাদেশের ৪০/৪৫টি খানকাহ রয়েছে বলেও দাবি করে। এ পীর তার বক্তব্যে তার খানকাহকে হারাম শরিফ বলেও দাবি করে।

পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের কটূক্তি ও মক্কা মদিনার ব্যাপারে দেয়া এই চরম ধর্মবিদ্বেষী বক্তব্যের মাধ্যমে এদেশের কোটি কোটি মুসলমানদের কলিজায় আঘাত দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে মানববন্ধনে। তার এ বক্তব্য ইসলাম ধর্মে জঘন্যতম অপরাধ।

কিশোরগঞ্জ আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল আল্লামা শাব্বির আহমাদ রশীদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদী, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, মাওলানা লুৎফুর রহমান, মাওলানা শামসুল ইসলাম, ভৈরব ইমাম-ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা আল আমিন, জামিয়া নূরানীয়ার মহাপরিচালক মাওলানা আবুল বাশার, ভৈরব ইমাম-ওলামা পরিষদের উপদেষ্টা মাওলানা আবুল আহাদ কাসেমী, জামিয়া এমদাদিয়া সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা তৈয়ব, মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ জামী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম জামী, গাজী আশরাফ প্রমুখ।

কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের আলেম ও ইমামদের এ মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তাকে গ্রেফতারের আহ্বান জানানো হয়। তাকে গ্রেফতার করা না হলে আগামী ২৩ জানুয়ারি বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে ইমাম ও আলেম-ওলামা পরিষদ।

এমএমএস/জেআইএম