দল খারাপ ছিল না, আমরাই ভালো খেলতে পারিনি : মাহমুদউল্লাহ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০১৯

‘পঞ্চ পান্ডবরা’ ছড়িয়ে ছিটিয়ে চারিদিকে। মানে পাঁচ দলে। কাজেই একজনের সুপার ফোর খেলা হবে না এমনিতেই। এর বাইরে আরও কেউ হয়ত সেরা চারের বাইরে থাকতে পারেন। তা জানতে অপেক্ষায় থাকতেই হবে। তার উত্তর দেবে সময়।

কিন্তু পাঁচ শীর্ষ তারকার মধ্যে একজনের মানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল খুলনা টাইটান্স যে বিপিএলের শিরোপা লড়াইয়ে থাকবে না , তা নিশ্চিত হয়ে গেছে আগেই। কারণ সবার আগে বিপিএল শেষ খুলনার।

আজ নিজেদের ১০ নম্বর ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের কাছে হারের সাথে সাথে প্রথম দল হিসেবে এবারের বিপিএল থেকে ছিটকে গেছে খুলনা।

যদিও বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল আগেই। তারপরও গাণিতিক সমীকরণে সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আজ অষ্টম হারের সাথে সাথে সে সম্ভাবনারও ইতি ঘটেছে। তাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল খুলনা টাইটান্স সবার আগে বাদ। পরের বা শেষ দুই ম্যাচ জিতলেও লাভ নেই।

কারণ খুলনার পয়েন্ট ১০ খেলায় ৪। অন্তত চারটি দল আছে, যারা এরই মধ্যে ১০ পয়েন্ট করে পেয়েছে। পরের দুই ম্যাচ জিতলে খুলনার পয়েন্ট দাঁড়াবে ৮। কাজেই ওই চার দলকে আর ছোঁয়ার কোনই সুযোগ নেই।

পঞ্চ পান্ডবের বাকি চারজন মুশফিকুর রহিম (চিটাগাং ভাইকিংস অধিনায়ক) সাকিব আল হাসান (ঢাকা ডায়নামাইটস অধিনায়ক), মাশরাফি বিন মর্তুজা (রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক) আর তামিম ইকবাল (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের আইকন) এখনো মোটামুটি কক্ষপথেই আছেন।

তাদের সবার চোখে মুখে সুপার ফোরে খেলার স্বপ্ন। আর সেখানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কানে বাজছে বিদায়ের করুণ সানাই। খুব স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ। চোখে মুখে বিষাদের ছায়া।

প্রথা মেনে তবু আজ খেলা শেষে প্রেস কনফারেন্সে আসলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবও দিলেন। তবে মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। কথাও বললেন অনেক কষ্টে। যদিও এখনো দুই ম্যাচ বাকি। তবে সেগুলো এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।

বাকিরা তাকিয়ে সামনের দিকে। মাশরাফি, মুশফিক, সাকিব ও তামিমের পরের খেলাগুলো হলো সেরা চার নিশ্চিতের ম্যাচ। আর সেখানে রিয়াদের দলের কাছে পরের দুই ম্যাচ অর্থহীন। জিতলেও যা, হারলেও তাই।

এরকম অবস্থায় নিজেকে অনুপ্রাণিত করাটা কতটা কঠিন? প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্নর জবাবে অনেক কথার ভিড়ে রিয়াদ শুরুতেই জানিয়ে দিলেন, এমন ভাঙাচোরা ও সব শেষ হয়ে যাওয়ার পর শেষ দুই ম্যাচে মনোযোগ ও মনোসংযোগ ধরে রাখা বেশ কঠিন হবে।

তারপর যা বললেন, তা যেন হতাশা ও দুঃখের সাতকাহন। ‘ফ্র্যাঞ্চাইজির একটা প্রত্যাশা থাকে। খুলনার সমর্থকদের একটা প্রত্যাশা ছিল। নিজেরও একটা প্রত্যাশা থাকে। কোনোটাই আসলে কোনোভাবে পূর্ণ হচ্ছে না। এখন আমরা টুর্নামেন্ট থেকে আউট। সুপার ফোরে খেলার কোন সুযোগ নেই। অবশ্যই খুব হতাশাজনক।’

মাহমুদউল্লাহ আরও যোগ করেন, ‘এ ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করা কঠিন। প্রথম ৫/৬ ম্যাচের মধ্যে আমরা কয়েকটা ক্লোজ ম্যাচ জিততে পারতাম, তখন হয়তো পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান ভিন্নরকম হতো। আমাদের আত্মবিশ্বাস তখন বেশি থাকতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং কোন বিভাগেই ভালো করতে পারিনি। কোন বিভাগেই কোন কিছু হচ্ছে না। নিজেরা কথা বলার চেষ্টা করেছি, সমস্যা বের করার চেষ্টা করেছি। ব্যাটিং অর্ডার চেইঞ্জ করার চেষ্টা করেছি। কেউই দলের জন্য কন্টিবিউট করতে পারছে না। এটা দলের জন্য হতাশাজনক। আমি যেভাবে করতে পারতাম, আমিও ওভাবে পারিনি। ব্যক্তিগতভাবে আমিও হতাশ।’

প্রশ্ন উঠল দল সাজানো, ক্রিকেটার নির্বাচন এবং আগের বারের চার ক্রিকেটার ধরে রাখায় কি কোন সমস্যা ছিল কি-না? এমন প্রশ্ন উঠতেই রিয়াদের চট জলদি জবাব, ‘নাহ, আমার মনে হয় না। ওই ধরনের কোন কারণ ছিল। দল যথেষ্ট ভালো করা হয়েছিল। যদি স্থানীয় ক্রিকেটারদের কথা বলেন বেশ অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নেওয়া হয়ছিল। জুনায়েদ অনেক দিন ধরে ক্রিকেট খেলছে। শান্ত প্রমিজিং ক্রিকেটার। আরিফুল শেষ দুই বছর ধরে ভালো খেলছে। জহুরুল অমি অভিজ্ঞ। বোলিং সাইডেও আমাদের ভ্যারাইটি ছিল। ভালো অলরাউন্ডার ছিল। আসলে কোন সাইড থেকেই আমরা দলের জন্য কন্ট্রিবিউশনটা করতে পারিনি।’

এবার বল পিচে গড়ানোর আগে পর্যন্ত বিপিএলে সবচেয়ে বেশি রান ছিল মাহমুদউল্লাহর। কিন্তু আসর শেষ হবার আগেই তার সে শীর্ষ স্থান হাতছাড়া হয়ে গেছে। রিয়াদকে টপকে এখন রান তোলায় সবার ওপরে তারই ভায়রা চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

তার নিজের পারফরমেন্সে অসন্তুষ্ট রিয়াদের কণ্ঠে তাই হতাশা, ‘আমি বেশ কিছু ম্যাচে শুরুটা ভালো করতে পেরেছি। কিন্তু ইনিংসগুলো বড় করতে পারিনি। রানগুলো বড় করতে পারলে দলের জন্য ভালো হতো। খুবই হতাশাজনক। রেগুলার স্টার্ট পেয়েছি ১৫, ১৬, ২০, ২৫ পেয়েছি, কিন্তু বড় করতে পারেনি। এটা এক দিক থেকে আমার ব্যর্থতা। এখান থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। ক্রিকেট খেলায় শেখার শেষ নেই।’

অনেকেরই মতো খুলনা টাইটান্সে মাহেলা জয়বর্ধনের মতো হাই প্রোফাইল কোচ আছেন ঠিক, কিন্তু ওই মানের কার্যকর ক্রিকেটার ছিলেন না। সেটা কি কোন ঘাটতি? খুলনা টাইটান্স ক্যাপ্টেন অবশ্য তা মানতে নারাজ।

তার অনুভব, হাই প্রোফাইল কোচ আর কার্যকর ক্রিকেটার দুটিই সমান প্রয়োজন। আর খুলনা টাইটান্সে নাকি দুটিই সমান ভাবে ছিল। মাহমুদউল্লাহর ভাষায়, ‘আমার মনে হয় দুটো জিনিসই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি আমাদের কোচিং প্যানেল দেখেন ওরা অনেক বছর ক্রিকেট খেলেছে। আমাদের বোলিং কোচ অনেক বছর ক্রিকেট খেলেছে। মাহেলার কথা বলার কিছু নেই। সবাই আমরা তার রেকর্ড সস্পর্কে জানি। বিদেশি ক্রিকেটারদের কথা বললে- জুনায়েদ খান, মালিঙ্গা ছিল, কার্লোস ছিল। উয়েজ আমাদের সঙ্গে পরে জয়েন করেছে, জহির খান ছিল। ভালো দল ছিল। কিন্তু কোন দিক থেকে আমাদের লাক ফেভার করেনি। কিছু কিছু জায়গাতে ছোট ছোট এমন কিছু ভুল করেছি, যার জন্য আমাদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছে।’

এআরবি/এমএমআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :