দুই বছর আগে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখলেন মানচিনি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫২ পিএম, ১২ জুলাই ২০২১

ঠিক চার বছর আগের চিত্রটার কথা একবার চিন্তা করুন! কোথায় দাঁড়িয়েছিল ইতালি? চারবারের বিশ্বকাপজয়ী তারা। কিন্তু সেই ইতালি’ই কি না বিশ্বকাপে খেলারই যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি! ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়, ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা- ইতিহাসের সবচেয়ে তলানীতে পৌঁছে গিয়েছিল ইতালিয়ান ফুটবল।

এ সময় ইতালির প্রয়োজন ছিল একজন ম্যাজিকম্যানের। যার হাতে থাকতে জাদুর কাঠি। সেই কাঠির ছোঁয়ায় আবারও ঘুমন্ত ইতালিয়ানরা জেগে উঠবে। আবারও বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে গাইবে নিজেদের জয়ো গান।

কিন্তু কে সেই ম্যাজিকম্যান? ইতালি ফুটবল ফেডারেশন অবশেষে খুঁজে-টুজে বের করলেন একজনকে। ম্যাজিকম্যান অবশ্য তিনি কি না, তখনও সেটা কেউ জানতেন না। কারণ, সেই কোচ যে খুব একটা জাদুকরী, সেটা কিন্তু না। কারণ, সবাই তাকে চেনে। রবার্তো মানচিনি।
তবে একবার ক্যারিশমা দেখিয়েছিলেন। ২০১১-১২ মৌসুমে তার হাত ধরেই প্রথমবারের মত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জিততে সক্ষম হয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। পরেরবার সিটি রানার আপ হওয়ার কারণে বাদ পড়েন মানচিনি। এরপর তুরস্কের গ্যালাতাসারে, ইতালির ইন্টার মিলান এবং সর্বশেষ রাশিয়ান ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের কোচ ছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে যখন ইতালি ফুটবল ফেডারেশন কোচ খোঁজ করছিল, তখন মানচিনির ওপর নজর পড়ে তাদের। মানচিনিকে বুঝিয়ে দেয়া হলো ইতালি ফুটবলের সমস্যা। এরপর সব জেনেবুঝে ইতালি ফুটবলের দায়িত্ব নেন রবার্তো মানচিনি।

ওই সময়ই তিনি ইতালিয়ানদের কাছে একটা প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন। বলেছিলেন, তিনি ইতালি ফুটবলের খোলনলচে বদলে দেবেন। যার ওপর নির্মিত হবে ইতালি ফুটবলের সাফল্যের সৌধ। ফিরে আসবে ঐতিহ্য।

রবার্তো মানচিনি কথা রেখেছেন। গত দুটি বছর তিনি নীরবে কাজ করে গেছেন। ইতালি ফুটবলের ঐতিহ্য ফেরাতে নিয়মিত পরিশ্রম করে গেছেন। যার ফল দেখা গেলো এবারের ইউরোয়।

ইতালিয়ান ফুটবলের ভক্ত-সমর্থকরাও এবার অবাক হয়ে দেখলো বদলে যাওয়া ইতালিকে। এবারের ইউরোর প্রথম ম্যাচ থেকেই চিরাচরিত ডিফেন্সিভ এবং টাফ ফুটবল থেকে বেরিয়ে এসে চলমান গতিময় এবং ছন্দের ফুটবলের মিশেল ঘটান মানচিনি। যে কারণে দেখা গেলো অনেকটা তিকিতাকা ধাঁছে ফুটবল খেলছে ইতালি। ইতালি ফুটবলের অ্যাপ্রোচটাই বদলে দিলেন তিনি।

শেষমেষ ফাইনালে রোববার ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষে খানিকটা হলেও এগিয়ে থেকে শুরু করেছিল ইংল্যান্ড ৷ কিন্তু প্রথমার্ধের লিড দ্বিতীয়ার্ধে ধরে রাখতে পারলেন না তারা। ফলে ম্যাচ গড়াল সেই পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৷ সেখানে বাজিমাত আজ্জুরিদের।

এরপর মাঠেই উৎসব শুরু করে দেন ফুটবলাররা। আবেগে ভেসে যান কোচ রবার্তো মানচিনি। তার হাত ধরেই নবজাগরণ হল ইতালি ফুটবলে। ২০১৮ সালে তলানীতে থাকা দলটি এবার ইউরোই জিতে নিয়ে গেল। দুই থেকে তিন বছরের ব্যবধানে যে পরিবর্তন ঘটালেন মানচিনি, সেটাই বিস্ময়কর।

ফাইনালে খেলার শুরুতে কিন্তু এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে ইতালি সমতা ফেরায়। এরপর আর কোনও দল গোল করতে পারেনি। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে সাকার শট ডোনারুমা আটকাতেই শুরু সেলিব্রেশন। যা ওয়েম্বলি ছাড়িয়ে আছড়ে পড়ল রোমে।

আইএইএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]