স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়

জান্নাত শ্রাবণী
জান্নাত শ্রাবণী জান্নাত শ্রাবণী , সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা, ছবি: জাগো নিউজ

শীতকাল এলেই ত্বকের পাশাপাশি চোখের নানান সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। চোখ শুকিয়ে যাওয়া, লাল হয়ে থাকা, চুলকানি বা পানি পড়া। এই উপসর্গগুলো এখন যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। চোখ ভালো রাখতে, বিশেষ করে শীতকালে নানান রকম পরার্মশ দিয়েছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলার সঙ্গে।

জাগো নিউজ: শীতকালে কেন চোখের সমস্যা বেশি দেখা যায়?
ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা: শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকে। ফলে চোখের স্বাভাবিক টিয়ার ফিল্ম দ্রুত শুকিয়ে যায়। এ কারণে চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া ও লালভাব দেখা দেয়। অনেক সময় রোগীরা বলেন, চোখে যেন বালু ঢুকে আছে। এটা মূলত ড্রাই আইয়ের লক্ষণ।

জাগো নিউজ: অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণেও কি চোখের সমস্যা বাড়ছে?
ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা: এখন স্ক্রিন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীতকালে বাইরে চলাফেরা কম হয়, ফলে মোবাইল, ল্যাপটপ ও টিভির ব্যবহার বেড়ে যায়। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমরা কম পলক ফেলি। এতে চোখের পানি দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং চোখ আরও বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে। শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সের মানুষই এখন এই সমস্যায় ভুগছেন।

আরও পড়ুন: 

মাদকাসক্তি শুধু খারাপ অভ্যাস নয়, এটি মানসিক রোগ

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে হালকা উপসর্গ, ঝুঁকিতে বৃদ্ধ-শিশুরা

জাগো নিউজ: চোখ লাল হওয়া বা চুলকানির পেছনে আর কী কারণ থাকতে পারে?
ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা: নারীরা বিভিন্ন ধরনের আই মেকআপ, কসমেটিকস, শ্যাম্পু বা ক্রিম ব্যবহার করেন। সেগুলো চোখে ঢুকে গেলে বা সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে চোখে অ্যালার্জি হতে পারে। আবার অনেক সময় সংক্রমণের কারণেও চোখ লাল হয়। সমস্যা হলো, সাধারণ মানুষ অ্যালার্জি আর সংক্রমণের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। অনেকেই ফার্মেসি থেকে নিজের মতো করে আই ড্রপ কিনে ব্যবহার করেন, যা চোখের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

জাগো নিউজ: ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চোখের ঝুঁকি কতটা?
ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা: ডায়াবেটিস থাকলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হতে পারে, যা ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেয়। অনেক সময় রোগী জানতেই পারেন না যে, চোখে সমস্যা শুরু হয়ে গেছে। একইভাবে উচ্চ রক্তচাপের কারণে হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি হতে পারে। এসব রোগীদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, নইলে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

জাগো নিউজ: চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে অবশ্যই যেতে হবে, কখন?
ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা: চোখের কোনো উপসর্গ কখনই অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন, হঠাৎ চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে অস্বাভাবিক পানি পড়া, ঝাপসা দেখা, একটি চোখে কম দেখা। এ ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। সাধারণভাবে বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করা উচিত। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ছয় মাস পর পর চোখ দেখানো ভালো।

জাগো নিউজ: অনেকে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন। তাদের কী কী সতর্কতা জরুরি?
ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা: কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারে অনেক বেশি সতর্কতা দরকার। লেন্স কেনার সময় অবশ্যই এক্সপায়ারি ডেট দেখতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য লেন্স ৩ থেকে ৬ মাসের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। লেন্স কখনই কলের পানি বা ট্যাপের পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যাবে না। এর জন্য নির্দিষ্ট লেন্স ক্লিনিং সলিউশন ব্যবহার করতে হবে। সারাদিন লেন্স ব্যবহারের পর চোখকে বিশ্রাম না দিলে চোখে সংক্রমণ হতে পারে। আমি নিজে এমন অনেক জটিল কেস দেখেছি।

জাগো নিউজ: চোখ ভালো রাখতে আপনার সর্বশেষ পরামর্শ কী?
ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা: চোখের যত্ন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রয়োজন। শীতকালে সামান্য অসচেতনতা থেকে বড় ধরনের চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা, সচেতন অভ্যাস ও নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করলেই দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

জেএস/আরএমডি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।