লাইফস্টাইল

যাদের মসুর ডাল এড়িয়ে চলাই ভালো

বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে মসুর ডাল যেন অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। অনেকের কাছে ভাতের সঙ্গে ডাল না হলে খাবারই অসম্পূর্ণ। শুধু এই অঞ্চলেই নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তে মসুর ডাল জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার পুষ্টিগুণ ও সহজলভ্যতার কারণে। মসুর ডাল দিয়ে তৈরি হয় নানান স্বাদের খাবার ডালনা, চচ্চড়ি, আমডাল, পুঁই ডাল, ডালের স্যুপ, পিঁয়াজু কিংবা ডালপুরির মতো পদ।

উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে মসুর ডালকে অনেক সময় মাছ-মাংসের বিকল্পও ধরা হয়। বিশেষ করে নিরামিষভোজীদের খাদ্যতালিকায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, এই ডাল সবার জন্য নিরাপদ নয়।

পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, এক কাপ রান্না করা মসুর ডালে সাধারণত থাকে-

প্রায় ১৮০ ক্যালোরি প্রায় ১০ গ্রাম প্রোটিন প্রায় ৬ গ্রাম খাদ্যআঁশ (ফাইবার) ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক ও ফোলেট

এই পুষ্টিগুলো শরীরের শক্তি জোগাতে, রক্তস্বল্পতা কমাতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যায় এই উপাদানগুলোই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরও পড়ুন:  সুগার ও হার্টের যত্নে পান করুন তেজপাতার চা যেসব কারণ শীতে পানিশূন্যতা বাড়ায় খালি পেটে বিটরুটের জুস খাওয়ার উপকারিতা কোন কোন মানুষের মসুর ডাল খাওয়া উচিত নয়

ইউরিক অ্যাসিড বা গেঁটেবাতের রোগীরা: মসুর ডালে পিউরিন জাতীয় উপাদান থাকে, যা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে। এর ফলে গেঁটেবাত বা জয়েন্টের ব্যথা তীব্র হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কিডনি সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা: এই ডালে থাকা অক্সালেট কিডনিতে পাথর তৈরির প্রবণতা বাড়াতে পারে। যাদের কিডনি দুর্বল বা আগে থেকেই কিডনির রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মসুর ডাল এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে: মসুর ডালে ফাইবারের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। অতিরিক্ত ফাইবার অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাস, বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

যাদের ওজন বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে: প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় পরিমিত না খেলে মসুর ডাল থেকেও অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমতে পারে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে: কিছু মানুষের শরীর মসুর ডাল সহ্য করতে পারে না। এর ফলে চুলকানি, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কোনো খাবারই সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, গেঁটেবাত বা দীর্ঘদিনের হজমজনিত সমস্যা থাকলে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক পরিমাণ ও সঠিক ব্যক্তির জন্য মসুর ডাল উপকারী হলেও ভুল পরিস্থিতিতে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: স্ট্রংআরফাস্টার ডট কম, অ্যানসুপ ডট কম

জেএস/