ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর ১০ দিন। এখনো সব প্রার্থীর সঙ্গে পরিচিত হতে পারেননি ঢাকা-১৯ আসনের ভোটাররা। দুই তিনজন প্রার্থীর ব্যানার ফেস্টুন ছাড়া পুরো অঞ্চল জুড়ে নেই কারো প্রচারণা। ভোট চেয়ে মাইকিংও নেই প্রার্থীদের। তাই ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও নেই তেমন আমেজ।
কেমন প্রার্থী বেছে নিবেন? এমন প্রশ্নে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, শুনেছি ঢাকা-১৯ আসনে এমপি পদে আটজন নির্বাচন করছেন। আমি শুধু দুজনকে সরাসরি দেখেছি, একজনকে দেখছি ব্যানারে। বাকি ৫ জনের অস্তিত্ব আমার কাছে ধরা পড়েনি। তাহলে কীভাবে প্রার্থী বেছে নিবো।
তিনি আরো বলেন, সাভারে কোনো তেমন নির্বাচনি আওয়াজ নেই। শুধু নিয়মের নির্বাচন হচ্ছে। যে কয়জন প্রচারণা করছেন তারা নিজের বক্সে ভোট নিতে নানা আশ্বাস দিচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাচনি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১৯ আসনে এবার ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু (ধানের শীষ), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (ছাতা), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিলশানা পারুল (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ফারুক খান (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. ইসরাফিল হোসেন সাভারী (আম), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল (হারিকেন), জাতীয় পার্টির মো. বাহাদুর ইসলাম (লাঙ্গল) ও গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) শেখ শওকত হোসেন (ট্রাক)।
সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, কর্মস্থান, নিরাপদ আবাসন, সন্ত্রাস, মাদক, ফুটপাত দখল, কিশোর গ্যাংসহ অনেক সমস্যায় জর্জরিত এ আসন। তাই এসব সমস্যার সমাধান চান বাসিন্দারা।
কোনা পাড়ার স্কুলশিক্ষক হুমায়ন কবির জাগো নিউজকে বলেন, মাদক, ইভটিজিংয়ের সমস্যা আছে। গ্যাসের সমস্যা অনেক এখানে। সকালে-রাতে গ্যাস থাকে না। যারা উন্নয়ন করবে, দেশের জন্য অবদান রাখবে এ ধরনের নেতৃত্ব চাই আমরা।
পোশাক শ্রমিক আসমা বলেন, আমরা নিরাপত্তা চাই। কাজের পরিবেশ, বাহিরের পরিবেশ শ্রমিকবান্ধব চাই। হুটহাট ছাঁটাই বন্ধসহ সব অন্যায়ে শ্রমিকদের পাশে যিনি থাকবেন তাকেই ভোট দিবো।
ভোটারদের দেওয়া আশ্বাস কতটা বাস্তবায়ন হবে? এমন প্রশ্ন ছিল ঢাকা-১৯ এর প্রার্থীদের কাছে। বিএনপি প্রার্থী ডাক্তার দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘এ আসনে আমি দুই বারের এমপি ছিলাম। জনগণের চাহিদা এবং চোখের ভাষা আমি বুঝি। সমস্যা সমাধানে শতভাগ আন্তরিক থাকবো, এতে কোনো সন্দেহ নেই। গুরুত্ব বিবেচনা করেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করবো।’
এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার নির্বাচনি আসন সাভার-আশুলিয়া, যেখানে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একটি উন্নত মানের স্বাস্থ্য সেবা নেই। এখানে উন্নত মানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ফলে মানুষ চরম ভোগান্তিতে জীবনযাপন করছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধান করবো।
সাভার উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ আসন। সাভার সেনানিবাস ও ডিইপিজেড এলাকা এ আসনের অন্তর্ভুক্ত। আসনটিতে মোট ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। যার মধ্যে নারী ৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৫০ জন, পুরুষ ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯০৭ জন ও ১৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের।
এফএ/এমএস