গেল বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ। ঢাকায় বিমানে ওঠার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণের পর তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার ফুসফুসের দুপাশই নিউমোনিয়া আক্রান্ত। এ অবস্থায় দ্রুত তাকে নিবিড় পরিচর্যায় (আইসিইউ) নেন চিকিৎসকেরা।
গত ৩০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন নাট্যজন ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ। ছয় দিন দেশটির একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নেওয়ার পর সেখান থেকে বাড়ি ফেরার অনুমতি পান এই অভিনেতা ও নাট্যকার।
সম্প্রতি বেশ লম্বা বিশ্রাম শেষে দেশে ফিরেছেন বরেণ্য এই নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা। এসে দাঁড়িছেন ক্যামেরার সামনে।আরও পড়ুনহেলিকপ্টার, রোদচশমা আর অ্যাকশন লুক, ‘প্রিন্স’ হয়ে ফিরছেন শাকিবগানের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে নিজেরাই গান গেয়ে ভোট চাইছেন: মুনমুন আহমেদ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘চিঠিওয়ালা’। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি চ্যানেল আইয়ের পর্দায় প্রচারিত হবে নাটকটি। নাটকটির গল্প লিখেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় রয়েছেন রশীদ হারুন।
এ নাটকে হাশেম চাচার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ। তার সঙ্গে অনিক চরিত্রে দেখা যাবে আহসান হাবিব নাসিমকে এবং শৈলীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সুষমা সরকার।
দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পর গত ১৪ জানুয়ারি দেশে ফেরেন মামুনুর রশীদ। ৩১ জানুয়ারি তিনি নাটকটির শুটিংয়ে অংশ নেন। নাট্যদল আরণ্যকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যস্ততার মাঝেই চলছে শুটিং।
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘অনেকদিন পর দেশে ফিরে কাজ করছি। শারীরিকভাবেও এখন ভালো আছি। ‘চিঠিওয়ালা’ নাটকের গল্পটা ভীষণ সুন্দর ও আবেগঘন।’
অন্যদিকে আহসান হাবিব নাসিম জানান, ‘এটা কেবল ভাষা দিবসের নাটক নয়। যারা আধুনিকতার নামে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি ভুলতে বসেছেন, তাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে এই গল্প।’
নাটকটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে শহরে বসবাসরত একটি পরিবারের জীবনকে কেন্দ্র করে। স্ত্রী শৈলী ও ছেলে অনিন্দ্যকে নিয়ে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত অনিক। আধুনিক নাগরিক জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টায় সে ছেলেকে ভর্তি করেছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। এমন এক সময়ে হঠাৎ গ্রাম থেকে তাদের বাড়িতে এসে হাজির হন হাশেম চাচা। সঙ্গে করে নিয়ে আসেন একটি চিঠি।
দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনিকের সেই চিঠি আর পড়া হয় না। কিন্তু হাশেম চাচার উপস্থিতিতে পরিবারের ভেতরে ধীরে ধীরে ঘটতে থাকে নানা পরিবর্তন। একপর্যায়ে অনিক পড়ে সেই চিঠি, যা লিখেছিলেন তার প্রয়াত বাবার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একজন ভাষাসৈনিক তিনি।
আবেগে ভেজা সেই চিঠি অনিককে নতুন করে ভাবতে শেখায় ভাষা, দেশ ও আত্মপরিচয় নিয়ে। ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই আদর্শ থেকে আজ অনেকেই যে দূরে সরে যাচ্ছেন। তা উপলব্ধি করে পুরো পরিবার। একটি চিঠিই বদলে দেয় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি।
এলআইএ